মানবতার নতুন সমাধি ইসরায়েলে
বন্দি ফিলিস্তিনিদের কারাগারের চারপাশে কুমিরের পাহারা
- ইসরায়েলের কারাগারে বন্দী প্রায় ৯ হাজার ৫০০ ফিলিস্তিনি
- ইসরায়েলে ‘কুমির কারাগার’ বাস্তবায়নে আইন সংশোধন
- শুরুটা যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় ‘অ্যালিগেটর আল্কাট্রাজ’ অভিবাসন আটক কেন্দ্রে

প্রতীকী ছবি
‘ক্রকোডাইল প্রিজন’ বা ‘কুমির কারাগার’। এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে কারাপ্রাচীরের বাইরে খালের মতো জলাশয়ে বন্দীদের পাহারায় নিয়োজিত থাকবে জ্যান্ত কুমির। বন্দি ফিলিস্তিনিদের কারাগারের চারপাশে এভাবেই ‘মানবতার এ নতুন সমাধিক্ষেত্র’ তৈরি করছে ইসরায়েল। ভিন্নধর্মী কারাগারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছে তেল আবিব। নতুন এ সংশোধনী শক্তিতেই কুমিরকে লোকালয়ে আনতে আর কোনো আইনি বাঁধা থাকবে না জায়নবাদী সরকারের। ৬ মাসে আগেই বিতর্কিত এ আইনের প্রস্তাব করেছিলেন তাদের জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গাভির।
দেশটির বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বৃহস্পতিবার জানানো হয়েছে, পরিবেশ সুরক্ষা মন্ত্রী ইদিত সিলমান কুমিরের আইনি শ্রেণিবিন্যাস পরিবর্তনের একটি আদেশে সই করেছেন। ফলে নির্দিষ্ট শর্তে সরকারি সংস্থা, বিশেষ করে ইসরায়েল প্রিজন সার্ভিস তাদের স্থাপনায় কুমির রাখার অনুমতি পেতে পারে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ৭-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, কুমিরের পরিবর্তিত শ্রেণিবিন্যাস হবে, ‘যত্নপ্রাপ্ত বন্য প্রাণী’। এ সংশোধনীটি ‘কুমির কারাগার’ তৈরির পরিকল্পনা বাস্তবায়নে পূর্বে যে আইনি বাধা ছিল তা দূর করবে। আগের আইনে কুমির তালিকাভুক্ত ছিল বন্য প্রাণী হিসেবে। লাইসেন্স পাওয়া চিড়িয়াখানার বাইরে সেগুলো আইনত আটকে রাখা নিষেধ ছিল অন্য প্রতিষ্ঠানের। নতুন আইনটি ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেটে পাস হলে কারাগারের বাইরে ‘কুমির পাহারাদার’ রাখতে পারবে কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শুরু করেছে কারা কর্তৃপক্ষ। কুমির সামলানো ও তাদের পরিচর্যার বিষয়গুলো সম্পর্কে জানতে বিভিন্ন চিড়িয়াখানাও পরিদর্শন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে চ্যানেল ৭।
বর্তমানে ইসরায়েলের কারাগারে বন্দী আছেন নারী ও শিশুসহ প্রায় ৯ হাজার ৫০০ ফিলিস্তিনি। অনেকেই অনাহার, নির্যাতন ও চিকিৎসায় অবহেলা প্রাণ হারিয়েছেন।
উল্লেখ, যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৫ সালের জুলাই থেকে চলতি বছরের জুন পর্জন্ত একটি কুমির কারাগার পরিচালিত হয়। দেশটির ফ্লোরিডা রাজ্যে অবস্থিত অভিবাসন আটক কেন্দ্র ‘অ্যালিগেটর আল্কাট্রাজ’ নামেই ছিল পরিচিত। তবে কারারুদ্ধ ব্যক্তিদের ওপর অমানবিক অত্যাচার, নিষ্ঠুরতার দাবি এবং নানান আইনি মামলার পর এটিকে বন্ধ ঘোষণা করা হয়।




