মধ্যপ্রাচ্য সব জ্বালানি স্থাপনা ও পানিশোধনাগারে হামলার হুমকি ইরানের
- মার্কিন হামলা অব্যাহত থাকলে ধাপে ধাপে পাল্টা অভিযানের ঘোষণা

ছবি: রয়টার্স
যুদ্ধের আগুন এখন শুধু সামরিক ঘাঁটিতে সীমাবদ্ধ নেই। জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও পানির মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোও পরিণত হচ্ছে নতুন লক্ষ্যবস্তুতে। পাল্টাপাল্টি হামলার এই সংঘাতে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকে ঘিরে বাড়ছে নতুন শঙ্কা। মার্কিন হামলা অব্যাহত থাকলে আঞ্চলিক সব জ্বালানি ও পানি সরবরাহ অবকাঠামো ধ্বংসের হুশিয়ারি দিয়ে শুক্রবার এক বিবৃতি দিয়েছে ইরান।
ইরানের একটি সামরিক সূত্র জানিয়েছে, দেশটির বেসামরিক অবকাঠামোয় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে ধাপে ধাপে পাল্টা অভিযানের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র অবিলম্বে হামলা বন্ধ না করলে মধ্যপ্রাচলের জ্বালানি ও পানি বিশুদ্ধকরণ অবকাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংসের লক্ষ্য নিয়ে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।
ওই সূত্র আরও দাবি করে যে পরিকল্পনার প্রথম ধাপেই কুয়েতের সব বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সমুদ্রের লবণাক্ত পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্রকে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এদিকে দক্ষিণ ইরানের হরমুজগান প্রদেশে বিদ্যুৎ স্থাপনা ও পানি পাম্পিং স্টেশনে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের প্রাদেশিক পরিষদ। জাস্ক বন্দর এলাকায় এই হামলার ফলে কয়েকটি অঞ্চলে পানি সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে।
প্রাদেশিক পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক ঘণ্টার হামলায় আরও তিনটি সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে মিনাব শহরের কাছের একটি সেতুও রয়েছে। বন্দর আব্বাস-সিরজান সড়কের শুর নদীর সেতুতেও হামলা হয়েছে। পাশাপাশি বন্দর আব্বাসের শহীদ মির্জায়ি টানেল দুই দিক থেকেই বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএর খবরে বলা হয়েছে, হামলায় হরমুজগান প্রদেশের চারটি যোগাযোগ নেটওয়ার্ক হাব ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
দক্ষিণাঞ্চলের বুশেহর প্রদেশের দাশতি কাউন্টির একটি এলাকাতেও শনিবার সকালে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছে। তবে সেখানে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
ভারতে ইরানের দূতাবাস এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়েছে, জাস্ক কাউন্টির বুনজি গ্রামের জেটিতে বিদ্যুৎ স্থাপনা ও লবণাক্ত পানি বিশুদ্ধকরণ পাম্পে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। এতে পশ্চিম জাস্কের কয়েকটি গ্রামে সুপেয় পানির সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। তেহরান এই হামলাকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ বলে আখ্যা দিয়েছে।
এদিকে জর্ডান, বাহরাইন ও কুয়েতে ইরানের সাম্প্রতিক হামলার নিন্দা জানিয়েছে কাতার। দোহার দাবি করে, এসব হামলা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং এতে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়বে।




