ইরাক-সিরিয়ায় হরমুজের বাইপাস পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের

২০১৭ সালে ইরাকের বাই হাসান অয়েল ফিল্ডের পাইপলাইন- সংগৃহীত
নতুন করে আলোচনায় ইরাক-সিরিয়া পাইপলাইন পুনর্নির্মাণের পরিকল্পনা। এর পেছনে অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে ইরানের হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া এবং জাহাজে হামলার কারণে আঞ্চলিক তেল রপ্তানি ব্যাহত হওয়ার বিষয়গুলো।
যুক্তরাষ্ট্র মনে করছে এই প্রকল্প কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ, তাই এতে রয়েছে তাদের সমর্থন। গত বুধবার দেশটির রাষ্ট্রীয় দপ্তর থেকে পাইপলাইন পুনর্নির্মাণের সিদ্ধান্তকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো হয়। ওয়াশিংটনের প্রত্যাশা, ইরাক-সিরিয়ার মধ্যকার এই পাইপলাইন দিয়ে প্রাথমিকভাবে প্রতিদিন ২ মিলিয়ন ব্যারেল তেল ভূমধ্যসাগরীয় বাজারে রপ্তানি করা সম্ভব হবে। যা বাগদাদ এবং দামেস্কের মধ্যবর্তী সম্পর্ক উন্নয়নে মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।
১৯৫২ সালে ইরাক পেট্রোলিয়াম কোম্পানি দৈনিক প্রায় ৩ লাখ ব্যারেল ধারণক্ষমতার এই পাইপলাইনটি তৈরি করেছিল। আশির দশকে ইরাক-ইরান যুদ্ধের সময় সিরিয়া ইরানের পক্ষে ছিল। এর প্রতিবাদে বাগদাদ বন্ধ করে দেয় পাইপলাইনটি। তবে ইরাকে মার্কিন আগ্রাসন শুরুর পর এটি বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তখন থেকে অকার্যকর। এখন এটি চালু করতে গেলে প্রায় পুরোপুরি নতুন করে তৈরি করতে হবে।
তুরস্কে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত টম ব্যারাক বলেছেন, ‘ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি আল জায়িদের বিকল্প রপ্তানি করিডোর পরিকল্পনা সিরিয়া, জর্ডান, তুরুস্ক, লেবানন এবং মিসরের মধ্যবর্তী আঞ্চলিক সম্পর্ক উন্নয়ন প্রচেষ্টার অংশ।’ আগামী দুই বছরের মধ্যে ইরাকের এই প্রকল্প হরমুজ প্রণালিকে অপ্রাসঙ্গিক করে তুলবে, এমনটাই মনে করেন তিনি।
ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর ইরাকের কিরকুক শহর থেকে সিরিয়ার বানিয়াস পর্যন্ত বিস্তৃত হবে পাইপলাইনটি। আগামী সপ্তাহেই প্রকাশ হতে পারে এ সংক্রান্ত চুক্তিটি। ইরাকের মন্ত্রিসভায় জ্বালানিমন্ত্রী বাসরা থেকে হাদিসা হয়ে বানিয়াস অথবা তুরস্কের চেইহান বন্দর পর্যন্ত পরিকল্পিত রুটও অনুমোদন করেছেন।
ইরানের সঙ্গে ইরসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধের কারণে হরমুজ দিয়ে তেল সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। যার রেশ পড়েছে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে, ফলে ব্যারেল প্রতি তেলের দাম বেড়েছে ৮৮ ডলার পর্যন্ত।




