লেবাননে যিশুর মূর্তি ভাঙল ইসরায়েলি সেনা
- নেটদুনিয়ায় ছবি ভাইরাল হতেই ক্ষোভে ফুঁসছেন খ্রিস্টানরা

সংগৃহীত ছবি
বেড়েই চলেছে ইসরায়েলের সেনাদের ঘৃণ্য কর্মকাণ্ড ও অসহিষ্ণুতার মাত্রা। লেবাননে কেবল মানুষ হত্যা এবং মুসলিমদের বাড়িঘর, সম্পদ ও মসজিদ ধ্বংসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখেনি তাদের কার্যকলাপ। এবার দেশটিতে রীতিমতো এক ইসরায়েলি সেনাকে দেখা গেল যিশুখ্রিস্টের মূর্তি ভাঙতে। সেই ছবি ভাইরাল হয়েছে নেটদুনিয়ায়। আর এরপরই বিশ্বের খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে প্রচণ্ড ক্ষোভ।
রবিবার সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ওই ছবিতে দেখা যায়, দক্ষিণ লেবাননে ক্রুশে থাকা যিশুর মূর্তি ভাঙতে একটি জ্যাকহ্যামার ব্যবহার করছে এক ইসরায়েলি সেনা।
২ মার্চ দেশটির বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননের কয়েকটি এলাকা রেখেছে দখল করে। শুক্রবার কার্যকর হয়েছে যুদ্ধবিরতি।
খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সদস্যরা বলছেন, মূর্তিটি ডেবেল এলাকায় অবস্থিত, যা একটি মারোনাইট খ্রিস্টান শহর। এটি আইন এবেলের প্রায় ছয় কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে এবং ইসরায়েলি সীমান্তবর্তী শতুলা কমিউনিটি থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে।
ছবিটি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়লে তাৎক্ষণিক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ক্ষোভ প্রকাশকারীদের মধ্যে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কিছু সাবেক মিত্রও।
সাবেক রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান মার্জোরি টেইলর গ্রিন এক্সে ছবিটির নিচে ব্যঙ্গাত্মকভাবে লিখেছেন— ‘আমাদের সবচেয়ে বড় মিত্র, যারা প্রতি বছর নিয়ে যায় আমাদের করের বিলিয়ন ডলার এবং অস্ত্র।’
গ্রিন একসময় মিত্র ছিলেন ট্রাম্পের। পরে এপস্টেইন ফাইল এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণের সিদ্ধান্তের কারণে তার সমালোচনা করেন তিনি। একইভাবে, সাবেক রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান ম্যাট গেটজ ছবিটিকে বর্ণনা করেছেন ‘ভয়াবহ’ বলে।
যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলের অন্যতম শক্তিশালী সমর্থন ভিত্তি মাগা আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের এ প্রতিক্রিয়া তেল আবিবের ভাবমূর্তিকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, বিশেষ করে ইভানজেলিক্যাল খ্রিস্টানদের মধ্যে।
আঞ্চলিক বিশ্লেষক মুহাম্মদ শেহাদা ছবিটি শেয়ার করার সময় ক্যাপশন দিয়েছেন ‘জুডেও-ক্রিশ্চিয়ান ভ্যালুস ইন ইসরায়েল’। পশ্চিমা সমর্থন জোরদার করতে ইসরায়েল প্রায়ই ব্যবহার করে এমন বাক্য।
ডেবেল পৌরসভা সূত্র এএফপিকে জানিয়েছে, মূর্তিটি অবস্থিত গ্রামে। তবে এটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে পারেনি তারা।
ইসরায়েলের শাসনের অধীনে দেশটিতে এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরে খ্রিস্টানরা প্রায়ই মুখোমুখি হচ্ছেন আক্রমণের। এর মধ্যে রয়েছে দৈনন্দিন হয়রানি থেকে শুরু করে ধর্মীয় স্থাপনা ধ্বংস পর্যন্ত।
খ্রিস্টান পাদ্রিরা জানিয়েছেন, তাদের ওপর থু থু নিক্ষেপ করা হয়েছে এবং শারীরিকভাবে করা হয়েছে আক্রমণ। আর গির্জা, কবরস্থান এবং অন্য খ্রিস্টান প্রতীকগুলো করা হয়েছে ভাঙচুর।
এসব আক্রমণের সঙ্গে জড়িত গোড়া-অর্থোডক্স ইহুদি, ধর্মীয় জাতীয়তাবাদী এবং বসতি স্থাপনকারীরা। ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের সময় সাধারণত বাধা দেওয়া হয় না তাদের। ইসরায়েলি পুলিশের বিরুদ্ধেও রয়েছে ব্যর্থতার অভিযোগ।
ইসরায়েলের এক সামরিক মুখপাত্র ছবিটির সত্যতা অস্বীকার করেননি। বরং তিনি এক্সে জানিয়েছেন, যদি এই ছবি সত্যিই বাস্তব এবং সাম্প্রতিককালের হয়, তবে এ ঘটনা সেনাবাহিনীর মূল্যবোধের সঙ্গে বেমানান।

