ইরান যুদ্ধ
আমিরাতকে আয়রন ডোম ও সেনা পাঠিয়েছিল ইসরায়েল

২০২২ ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট প্রথমবারের মতো আমিরাত সফর করেন। ফাওল ছবি
ইসরায়েলকে সঙ্গে নিয়ে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। জবাবে পার্শ্ববর্তী আরব দেশগুলোতে থাকা মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করে তেহরান, যার মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত ছিল অন্যতম।
এমন পরিস্থিতিতে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মুসলিম এ দেশটিকে রক্ষায় নিজের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আয়রন ডোম এবং তা পরিচালনার জন্য সেনা পাঠিয়েছিল তেল আবিব।
যুদ্ধের একদম শুরুর দিকেই নজিরবিহীন এ ঘটনাটি ঘটে। কিন্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস বিষয়টি সামনে আনার আগ পর্যন্ত এতদিন এই স্পর্শকাতর সামরিক বিষয়টি গোপন ছিল।
সিনিয়র এক ইসরায়েলি কর্মকর্তার বরাতে অ্যাক্সিওস দাবি করেছে, ইরানের ভয়াবহ হামলার মুখে আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদের সঙ্গে ফোনে কথা বলার পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীকে (আইডিএফ) আয়রন ডোমের ব্যাটারি এবং তা পরিচালনার জন্য কয়েক ডজন সেনা সদস্য পাঠাতে নির্দেশ দেন।
ইসরায়েলের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার মতে, ইসরায়েলের বাইরে অন্য কোনো দেশে আয়রন ডোমের ব্যাটারি পাঠানোর ঘটনা এটিই প্রথম। এমনকি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বাইরে অন্য কোনো দেশে এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহারের নজির এটিই প্রথম।
তেল আবিবের আরেক কর্মকর্তার ভাষ্য, এই আয়রন ডোম সিস্টেমটি ইরানের ছোড়া কয়েক ডজন ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করেছে।
আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইরান প্রায় ৫৫০টি ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২ হাজার ২০০টিরও বেশি ড্রোন আমিরাতের দিকে ছুড়েছে। যদিও অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছিল। তবু কিছু কিছু ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র আমিরাতের সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় আঘাত হানতে সক্ষম হয়।
আমিরাতের কর্মকর্তাদের মতে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ এই অঞ্চলের মানুষের চিন্তাধারায় বড় পরিবর্তন এনেছে। এক কর্মকর্তা জানান, ইরানের হামলার হাত থেকে দেশরক্ষায় যারা সহায়তা করবে, তাদের প্রতি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি এখন ইতিবাচক।
ইসরায়েলি ও আমিরাতি উভয় দেশের কর্মকর্তারা বলছেন, ২০২০ সালে শান্তিচুক্তির পর থেকে বর্তমানে দুদেশের অংশীদারত্ব এখন সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ পর্যায়ে রয়েছে।



