মধ্যপ্রাচ্যে সর্বাত্মক যুদ্ধের হুঁশিয়ারি ইরানের
- প্রথমবারের মতো যুদ্ধবিরতির ‘সমঝোতা স্মারক’ স্থগিত করল তেহরান
- যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত অন্তত ৫০ ও আহত ৫০০ জনের বেশি

ছবি: রয়টার্স
আরও ঘনীভূত হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে যুদ্ধের কালো মেঘ। একে একে ভেঙে পড়ছে কূটনীতির শেষ সেতুগুলোও। পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যে সংঘাত এখন নতুন এক মোড়ে। চলমান এ রণোত্তেজনায় প্রতিরোধের গণ্ডি ছাড়িয়ে এবার সর্বাত্মক যুদ্ধের হুমকি দিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা স্মারকও কার্যত স্থগিত করেছে তেহরান।
যুক্তরাষ্ট্র আগামী কয়েক দিন ইরানে হামলা অব্যাহত রাখলে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে ‘সর্বাত্মক আক্রমণাত্মক অভিযান’ চালানো হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের জ্যেষ্ঠ সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ী। শনিবার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন তিনি।
রেজায়ী বলেছেন, ‘এখন থেকে ইরান আর সমান জবাব দেওয়ার নীতিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না। কোনো রাজনৈতিক সীমান্তই নিরাপদ থাকবে না। যুদ্ধ চলাকালে আলোচনার নীতিরও অবসান হয়েছে।’
তার ভাষ্য, এখন পর্যন্ত ইরানের লক্ষ্য ছিল সংঘাত ছড়িয়ে দেওয়া নয়, বরং প্রতিরোধ গড়ে তুলে যুদ্ধ থামানো। হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণও সেই লক্ষ্যেই নেওয়া হয়েছিল বলে দাবি তার।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক হামলার মধ্যে দুই দেশের মধ্যে হওয়া সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়ন স্থগিত করেছে ইরান। শনিবার এ ঘোষণা দেন দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি।
ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দাবি করেছে ৬ জুলাই থেকে দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় অন্তত ৫০ জন নিহত ও আহত হয়েছেন ৫০০ জনের বেশি।
ইরানের সংবাদমাধ্যম ফার্সের খবরে বলা হয়, গারিবাবাদির অভিযোগ, সমঝোতা স্মারকের আওতায় নিজেদের সব প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। কার্যত স্থগিত করেছে চুক্তির বাস্তবায়নও।
এর জবাবে তেহরানও চুক্তির অধীন নিজেদের সব প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবায়ন কার্যক্রম স্থগিত করেছে বলে জানান তিনি।
গারিবাবাদি বলেছেন, ‘আমরাও আমাদের সব প্রতিশ্রুতি স্থগিত করেছি। এখন আমাদের প্রধান মনোযোগ দেশের প্রতিরক্ষায়।’
এর আগে ইরানি কর্মকর্তারা একাধিকবার যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছিলেন। হামলা অব্যাহত থাকলে চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়েও সতর্ক করেছিলেন তারা। তবে এবারই প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে তেহরান জানাল, সমঝোতা স্মারক কার্যত আর বহাল নেই এবং এর কোনো ধারাই আর বাস্তবায়ন করবে না ইরান।
পর্যবেক্ষকদের মতে, সামরিক হুমকি এবং সমঝোতা স্মারক স্থগিতের ঘোষণা এই দুই ঘটনাই ইঙ্গিত দিচ্ছে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কূটনৈতিক সমাধানের পথ আরও সংকুচিত হয়ে এসেছে। সংঘাত এখন আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কাই বাড়াচ্ছে।




