ভারত
খুন করে আত্মগোপনে আসামী, ৪২ বছর পর পুলিশের জালে ধরা

চার দশকেরও আগে হত্যাকাণ্ডের পর পালিয়ে যাওয়া এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে ভারতের দিল্লি পুলিশের অপরাধ শাখা। ছবি: সংগৃহীত
২৩ বছরের যুবক নত্থুলাল। তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু বিভূতি প্রসাদের সঙ্গে বিরোধে জড়ায় স্থানীয় অশোক কুমার। এর জেরে দুই বন্ধু মিলে খুন করে অশোককে। সে-সময় পুলিশের কাছে বিভূতি ধরা পড়লেও আত্মগোপনে চলে যান নত্থু। তারপর থেকেই কাটাচ্ছেন ফেরারি জীবন। কাজ করেছেন উত্তর প্রদেশের বিভিন্ন পাইকারি সবজির বাজারে। এমনকি পরিচয় ফাঁস হওয়ার ভয়ে বিয়ে পর্যন্ত করেননি। এভাবেই বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে পালিয়ে ছিলেন ৪২ বছর।
অবশেষে সেই হত্যাকাণ্ডের মামলায় নত্থুকে গ্রেপ্তার করেছে ভারতের দিল্লি পুলিশের অপরাধ শাখা। তার বয়স এখন ৬৫ বছর। তিনি উত্তর প্রদেশের হারদই জেলার বাসিন্দা।
পুলিশ জানায়, ১৯৮৪ সালের ২২ ও ২৩ মে মধ্যরাতে পশ্চিম দিল্লির বিকাশপুরীর জেলা পার্কে এক ব্যক্তির মরদেহ পাওয়া যায়। তাকে একাধিকবার ছুরির আঘাত করা হয়েছিল। পরে নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত হয়। তার নাম অশোক কুমার। উত্তর প্রদেশের সীতাপুর জেলার বাসিন্দা ছিলেন তিনি।
তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সীতাপুরের বাসিন্দা বিভূতি প্রসাদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। তাকে দ্রুত গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যায় ব্যবহৃত ছুরিটিও উদ্ধার করে পুলিশ। তবে তার বন্ধু নত্থু পালিয়ে যান।
এরপর মামলার পুরোনো নথি ঘেঁটে নত্থুর আগের ঠিকানা, পরিবারের সদস্য এবং সম্ভাব্য আত্মগোপনের স্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেন তদন্তকারীরা। দীর্ঘদিন ধরে সীতাপুর ও হারদই জেলার বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয়দের কাছ থেকেও সংগ্রহ করতে থাকেন তথ্য।
তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশ জানতে পারে, নত্থু এখনো জীবিত এবং মাঝেমধ্যে নিজের গ্রামের বাড়িতে আসেন। এরপর হারদইয়ের পালি এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে নত্থুর গতিবিধি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে থাকেন পুলিশ সদস্যরা।
অবশেষে গত ১৭ আগস্ট পুলিশ খবর পায়, নত্থুর বর্ণনার সঙ্গে মিলে যায় এমন এক ব্যক্তিকে গ্রামের এলাকায় দেখা গেছে। পরদিন ১৮ আগস্ট গ্রাম থেকে ফারুকাবাদের দিকে যাওয়ার পথে তাকে গ্রেপ্তার করে অপরাধ শাখা।
পুলিশের ভাষ্য, ব্যক্তিগত বিরোধের জের ধরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। নত্থু ও বিভূতি প্রসাদ ছিলেন বন্ধু। অন্যদিকে নিহত অশোক কুমার ও বিভূতি প্রসাদ ছিলেন একই গ্রামের বাসিন্দা।
তদন্তকারীরা জানান, বিভূতি প্রসাদের স্ত্রীর প্রতি অশোক কুমার কথিতভাবে আগ্রহ দেখিয়েছিলেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। ঘটনার রাতে নত্থু ও বিভূতি প্রসাদ একটি পার্কে একসঙ্গে মদ পান করেছিলেন। এরপর তারা অশোক কুমারকে হত্যার পরিকল্পনা করেন বলে পুলিশের অভিযোগ।
হত্যাকাণ্ডের পর নিজের পরিচয় গোপন রাখতে নত্থু নানা কৌশল অবলম্বন করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। বছরের পর বছর উত্তর প্রদেশের বিভিন্ন এলাকার পাইকারি সবজির বাজারে কাজ করে তিনি সাধারণ জীবনযাপন করতেন। এভাবে পুলিশের নজর এড়িয়ে চলেন তিনি।
নত্থু কখনো বিয়ে করেননি এবং একাই থাকতেন। তদন্তকারীদের ধারণা, একাকী জীবনযাপন করায় এত বছর আত্মগোপনে থাকা তার জন্য তুলনামূলক সহজ হয়েছিল।
অপরাধ শাখা জানিয়েছে, নত্থুর বিরুদ্ধে উত্তর প্রদেশেও আরেকটি মামলা রয়েছে। ২০০৫ সালে ফারুকাবাদের কোতোয়ালি থানায় তার বিরুদ্ধে অপহরণের অভিযোগে একটি মামলা করা হয়েছিল।
১৯৮৪ সালের হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে নত্থুকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করছে দিল্লি পুলিশের অপরাধ শাখা।






