ভারতে এবার অনশনে নামছেন অবসরপ্রাপ্ত আধাসেনারা

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) তরুণরা যন্তর মন্তরে আন্দোলন করে গোটা দেশে প্রতিবাদের নতুন সুর তুলেছিলেন। সেই আন্দোলনের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার একই জায়গায় নিজেদের দাবিতে পথে নামার ঘোষণা করলেন আধাসেনার অবসরপ্রাপ্ত জওয়ানরাও। দেশের সীমান্ত পাহারা থেকে শুরু করে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সব মিলিয়ে দীর্ঘ কর্মজীবন কাটিয়েছেন কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর সদস্য হিসেবে। অবসরের পরও তাদের ক্ষোভ মেটেনি। আর এবার সেই ক্ষোভই দিল্লির যন্তর মন্তরে ধরনা ও অনশনের পথে নিয়ে যাচ্ছে আধাসেনার অবসরপ্রাপ্ত জওয়ানদের। আগামী ১২ নভেম্বর থেকে অনশন কর্মসূচির ঘোষণা করেছে ‘এক্স প্যারামিলিটারি ফোর্সেস ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন’-এর বিভিন্ন সংগঠন। দ্য টেলিগ্রাফ।
আন্দোলনের কেন্দ্রে রয়েছে সেন্ট্রাল আর্মড পুলিশ ফোর্সেস (জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন) অ্যাক্ট, ২০২৬। ২ এপ্রিল সংসদে বিলটি পাস হওয়ার পর ৯ এপ্রিল রাষ্ট্রপতির সম্মতি মেলে এবং ওইদিনই আইনটি গেজেটে প্রকাশিত হয়। নতুন আইনে কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর নিয়োগ, পদোন্নতি, ডেপুটেশন ও চাকরির শর্তাবলির জন্য একটি অভিন্ন কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত আধাসেনা কর্মীদের আপত্তি মূলত বাহিনীর উচ্চপদে আইপিএস কর্মকর্তাদের ডেপুটেশন ঘিরে। আইনে বলা হয়েছে, আইজি স্তরের ৫০ শতাংশ পদ ডেপুটেশনের মাধ্যমে পূরণ করা যাবে, এডিজি স্তরে ন্যূনতম ৬৭ শতাংশ পদ ডেপুটেশনের জন্য রাখা হবে। পাশাপাশি স্পেশাল ডিরেক্টর জেনারেল ও ডিরেক্টর জেনারেল পদ ডেপুটেশনের মাধ্যমে পূরণের বিধান রাখা হয়েছে।
অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বাহিনীর ভেতর থেকে উঠে আসা অফিসারদের পদোন্নতির সুযোগ সংকুচিত হতে পারে। তাদের আরও দাবি, পুরনো পেনশনব্যবস্থা বা ওপিএস ফিরিয়ে আনতে হবে। সংগঠনের প্রধান রণবীর সিং গত শনিবার সংবাদমাধ্যমের সামনে জানালেন, নয়া আইন বাতিল এবং পুরনো পেনশনব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবি জানিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে আগেই চিঠি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাদের অভিযোগ, সরকারের তরফে সন্তোষজনক কোনো সাড়া মেলেনি।
এই বিরোধের পটভূমিতে রয়েছে সুপ্রিম কোর্টের ২০২৫ সালের একটি রায়ও। আদালতের সেই রায়ের পর সিএপিএফে আইপিএস ডেপুটেশনের কাঠামো নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়। পরে কেন্দ্র নতুন আইন এনে বিষয়টি বিধিবদ্ধ করে। নয়া আইনের কয়েকটি বিধান সেই বিচারিক অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে অভিযোগ তুলে সিএপিএফের কর্মরত আধিকারিকদের একাংশ সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থও হয়েছেন। তাই আগামী ১২ নভেম্বরের যন্তর মন্তর কর্মসূচি শুধু অবসরপ্রাপ্ত জওয়ানদের পেনশনের দাবিই নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বাহিনীর নিজস্ব ক্যাডার আধিকারিকদের ভবিষ্যৎ পদোন্নতি, উচ্চপদে নিয়োগ এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার কাঠামো। দেশের নিরাপত্তায় দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করা প্রাক্তন জওয়ানদের সেই ক্ষোভ এবার রাজধানীর রাজপথে কতটা জোরালো হয়, সেদিকেই নজর।






