দিল্লিতে নজিরবিহীন নিরাপত্তা
‘গণআন্দোলনে’ রূপ নিচ্ছে ককরোচ বিক্ষোভ
- একসঙ্গে বন্ধ ১৬টি মেট্রো স্টেশন
- সোনম ওয়াংচুকের সঙ্গে সাক্ষাৎ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে.পি. নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংয়ের
- পশ্চিমবঙ্গ থেকে ২০ কোম্পানি সিআরপিএফ দিল্লি পাঠানোর সিদ্ধান্ত
- স্কুলপড়ুয়া ছাত্রছাত্রীরাও যুক্ত হচ্ছে বিক্ষোভে

সংগৃহীত ছবি
যন্তরমন্তরের বিক্ষোভ ছাত্র আন্দোলন থেকে ক্রমশ ‘গণআন্দোলনের’ রূপ নিচ্ছে। একদিকে হাজার হাজার মানুষ দিল্লির যন্তরমন্তরে জড়ো হয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন, অন্যদিকে রাজধানীজুড়ে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে কেন্দ্র ও দিল্লি পুলিশ। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে নিরাপত্তার কারণে বুধবার বন্ধ রাখতে হয়েছে একসঙ্গে ১৬টি মেট্রো স্টেশন।
সোমবারের ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচির পর থেকে আন্দোলনের তীব্রতা ক্রমশ বাড়ছে। বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশি পদক্ষেপ, লাঠিচার্জ, আটক এবং একাধিক বিতর্কের পর আন্দোলন আরও বিস্তৃত আকার নিয়েছে। মঙ্গলবার রাতে দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশে অনশনরত সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুককে একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। বুধবার সকালে গুরগাঁওয়ের মেদান্তা হাসপাতালে তার সঙ্গে দেখা করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে.পি. নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিং।
সরকারি সূত্রের দাবি, মন্ত্রীরা ওয়াংচুককে জানিয়েছেন যে শিক্ষা সংস্কার এবং পরীক্ষায় অনিয়ম সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে সংসদে আলোচনা শুরু করতে কেন্দ্র প্রস্তুত। তারা সরকারের ওপর আস্থা রাখার আহ্বানও জানিয়েছেন আন্দোলনকারীদের। তবে আন্দোলনকারীদের অবস্থান এখনও অনড়।
ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) জাতীয় মুখপাত্র অশুতোষ রাঙ্কা বুধবার স্পষ্ট ভাষায় বললেন, ‘২০ জুলাই যা হয়েছে, তা শুধু ট্রেলার। সরকার দাবি না মানলে দিল্লিতে আরও লক্ষ লক্ষ মানুষ আসবে। স্বাধীনতার পর এটাই দেশের সবচেয়ে বড় গণআন্দোলন।’
যন্তরমন্তরে জনসমাগম অব্যাহত রয়েছে বুধবার সকাল থেকেই। সেখানে উপস্থিত হয়েছে হাজার হাজার মানুষ। ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলেও জানানো হয়েছে।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পশ্চিমবঙ্গ থেকে অতিরিক্ত ২০ কোম্পানি সিআরপিএফ দিল্লিতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংসদের অধিবেশন, বিরোধী দলগুলোর কর্মসূচি এবং চলমান বিক্ষোভের কারণে রাজধানীতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। কলকাতা থেকে বিমানযোগে এই বাহিনী দিল্লিতে পৌঁছচ্ছে বলে নিরাপত্তা সূত্রে জানা গেছে।
অন্যদিকে বুধবার সকাল থেকে আন্দোলন আরও বিস্তৃত হয়, যখন স্কুলপড়ুয়া ছাত্রছাত্রীরাও যন্তরমন্তরে এসে বিক্ষোভে শামিল হতে শুরু করে। ইউনিফর্ম পরা বহু পড়ুয়াকে হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে আন্দোলনস্থলে দেখা যায়। পরীক্ষায় অনিয়ম, শিক্ষাব্যবস্থার স্বচ্ছতা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগের কথা তুলে ধরে তারা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে।
এদিকে দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশন প্রথমে চারটি স্টেশন বন্ধ করলেও পরে সেই সংখ্যা বেড়ে ১৬-তে পৌঁছেছে। জনপথ, রাজীব চক, প্যাটেল চক, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েটসহ রাজধানীর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে অফিসযাত্রী এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগও বাড়ছে।
আন্দোলনের প্রভাব দেশের সীমানা পেরিয়েও পৌঁছে গেছে। নিউ ইয়র্ক ও সান জোসেতে প্রবাসী ভারতীয় এবং মানবাধিকার কর্মীরা সোনম ওয়াংচুকের সমর্থনে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। তারা ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহির দাবি তুলেছেন।
অন্যদিকে সোমবারের সংঘর্ষকে ঘিরে দিল্লি পুলিশই আবার ছাত্রদের বিরুদ্ধে চারটি এফআইআর দায়ের করেছে। দাঙ্গা, সরকারি কর্মীর উপর হামলা, সরকারি সম্পত্তি নষ্টসহ একাধিক অভিযোগে তদন্ত চলছে। এছাড়া এক র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (আরএএফ) জওয়ানকে ঘিরে মারধরের অভিযোগেও পৃথক মামলা রুজু হয়েছে।
রাজনৈতিক চাপও ক্রমশ বাড়ছে। মঙ্গলবার রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেস সংসদ সদস্যরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের দিকে মিছিল করেন। সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদসহ একাধিক বিরোধী নেতা সেই কর্মসূচিতে অংশ নেন। পরে রাহুল গান্ধীকে আটক করা হলেও রাতে মুক্তি দেওয়া হয়। তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয় বুধবার আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে নীট পরীক্ষার অবসানের দাবি তুলেছেন।




