মৃত্যুদণ্ড আইন
ইসরায়েলের বিতর্কিত আইনের বিরুদ্ধে পিটিশন, স্বাক্ষর ছাড়াল ১ লাখ

সংগৃহীত ছবি
মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের প্রেক্ষাপটে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে ইসরায়েলের মৃত্যুদণ্ড আইন। এই আইন নিয়ে তীব্র নিন্দার ঝড় তুলেছে মানবাধিকার সংস্থাগুলো। ব্রিটিশ নাগরিকদের মাঝেও চলছে তুমুল গণক্ষোভ। এরইমধ্যে এই আইনের বিপক্ষে হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়ে এক লাখের বেশি সাক্ষরসহ পিটিশন জমা পড়েছে যুক্তরাজ্য সরকারের কাছে।
মার্চের শেষ সপ্তাহে ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেটে পাস হওয়া এই আইন অনুযায়ী, দেশটির সামরিক আদালতে ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে দোষী সাব্যস্ত ফিলিস্তিনিদের জন্য মৃত্যুদণ্ড কার্যত নির্ধারণ করা হয়েছে ডিফল্ট শাস্তি হিসেবে।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অভিযোগ, এই আইন মূলত প্রণীত হয়েছে ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে এবং এতে ইসরায়েলি নাগরিকদের রাখা হয়েছে আওতার বাইরে। অধিকৃত পশ্চিম তীরে পরিচালিত ইসরায়েলি সামরিক আদালতগুলোয় শুধুমাত্র ফিলিস্তিনিদের বিচার করা হয়, ইসরায়েলিদের নয়– যা বৈষম্য ও ন্যায্য বিচারের প্রশ্ন তুলছে।
চূড়ান্ত ভোটের আগেই গত বছরের শেষদিকে চালু হওয়া পিটিশনে বলা আছে, ‘এ ধরনের আইন জেনেভা কনভেনশন এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের সরাসরি লঙ্ঘন। জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা ইতোমধ্যে এই প্রস্তাব প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন।’
পিটিশনে আরও বলা হয়, আইনটি কার্যকর হওয়া ঠেকাতে যুক্তরাজ্য সরকারকে ‘গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগ করতে হবে এবং আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতার সব ধরনের কূটনৈতিক প্রভাব কাজে লাগাতে হবে।’ এক লাখ স্বাক্ষরের সীমা অতিক্রম করায় যুক্তরাজ্যের সংসদ এখন বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে বাধ্য, যা দেশটির জনমতের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল আইনটিকে ‘বিশ্বের সবচেয়ে চরম মৃত্যুদণ্ড আইনগুলোর একটি’ অভিহিত করে বলেছে, ইসরায়েল ‘ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার জন্য নিজেদের অবাধ ক্ষমতা দিচ্ছে এবং ন্যায্য বিচারের মৌলিক সুরক্ষাগুলোও সরিয়ে নিচ্ছে।’ আইনটির বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সুপ্রিম কোর্টে একাধিক চ্যালেঞ্জ দায়ের হয়েছে।
যুক্তরাজ্যেও বিষয়টি জন্ম দিয়েছে রাজনৈতিক বিতর্কের। জ্যাক পোলানস্কিসহ গ্রিন পার্টির নেতারা যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি ও ইতালি এক যৌথ বিবৃতিতে ‘গভীর উদ্বেগ’ প্রকাশ করেছে। দেশগুলো বলছে, আইনটি ইসরায়েলের ‘গণতান্ত্রিক’ অঙ্গীকার দুর্বল করতে পারে।















