রাষ্ট্রদূত নিয়োগ বিতর্ক: জোরালো হচ্ছে স্টারমারের পদত্যাগের দাবি

সংগৃহীত ছবি
সাবেক এক জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তার সাক্ষ্যের পর আবারও তীব্র চাপের মুখে পড়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। নিরাপত্তা যাচাই নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ থাকা সত্ত্বেও লেবার পার্টির বিতর্কিত নেতা পিটার ম্যান্ডেলসনকে ওয়াশিংটনে রাষ্ট্রদূত হিসেবে দ্রুত নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগে তার পদত্যাগ দাবি করেছে বিরোধী দলগুলো।
পররাষ্ট্র দপ্তরের সাবেক স্থায়ী আন্ডারসেক্রেটারি অলি রবিন্স পার্লামেন্টারি কমিটিকে জানান, ক্যাবিনেট অফিস ম্যান্ডেলসনকে ‘যত দ্রুত সম্ভব’ ওই পদে বসাতে চেয়েছিল এবং নিরাপত্তা যাচাই প্রক্রিয়াকে ‘তুচ্ছতাচ্ছিল্য’ করেছে।
ম্যান্ডেলসন নিরাপত্তা ছাড়পত্র পাননি এ তথ্য মন্ত্রীদের না জানানোর অভিযোগে রবিন্সকে গত সপ্তাহে বরখাস্ত করেন স্টারমার। তবে রবিন্স বলেছেন, ‘কুখ্যাত মার্কিন যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও লেবার পার্টির জ্যেষ্ঠ এই নেতার নিয়োগ নিশ্চিত করতে ‘নিরন্তর চাপ’ থাকায় তিনি বিষয়টি প্রকাশ করেননি।
রবিন্সের ভাষায়, প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের বার্তা ছিল, শুধু ‘দ্রুত শেষ করুন’ নয়, বরং ‘এটা করতেই হবে’।
তিনি আরও দাবি করেন, ২০২৫ সালের মার্চে আরেক ঘনিষ্ঠ লেবার সহযোগী ম্যাথিউ ডয়েল। যার বিরুদ্ধেও দণ্ডিত এক যৌন অপরাধীর সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগ রয়েছে, তাকেও একটি উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক পদে বসানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। এমনকি এ পরিকল্পনা তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছ থেকেও গোপন রাখা হয়েছিল। এই সাক্ষ্যের পরই বিরোধী দলগুলোর তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
এসএনপির ওয়েস্টমিনস্টার নেতা স্টিফেন ফ্লিন বলেছেন, রবিন্সের সাক্ষ্য ‘ধ্বংসাত্মক ও চূড়ান্ত’। তার ভাষায়, কিয়ার স্টারমারের সংক্ষিপ্ত ও ব্যর্থ প্রধানমন্ত্রীত্বের শেষ হয়ে গেছে। তার (স্টারমার) উচিত দিনের মধ্যেই পদত্যাগ করা।
কনজারভেটিভ নেতা কেমি ব্যাডেনকও বলেছেন, এই সাক্ষ্য ‘স্টারমারের জন্য ধ্বংসাত্মক’। তার ভাষায়, এটা স্পষ্ট যে ডাউনিং স্ট্রিট যাচাই সম্পন্ন হওয়ার আগেই নিয়োগ দিয়েছে। এমনকি ম্যান্ডেলসন যাচাইয়ের আগেই রাষ্ট্রদূতের মতো কাজ করেছেন, গোপন নথিও দেখেছেন।’
তিনি আরও দাবি করেন, ‘নিরন্তর চাপ’ ও যাচাই প্রক্রিয়ার প্রতি ‘তুচ্ছতাচ্ছিল্যপূর্ণ মনোভাব’ থেকে পরিষ্কার, যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। কিয়ার স্টারমার সংসদকে বিভ্রান্ত করেছেন।
এদিকে জ্বালানি মন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড জানান, তিনি ও তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি—দুজনেই ম্যান্ডেলসনকে ওই পদে দেওয়ার বিষয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন। কারণ এতে পরিস্থিতি ‘বিস্ফোরক’ হয়ে উঠতে পারে।
মিলিব্যান্ড বলেছেন, এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক, চীন ও রাশিয়ার কোম্পানির সঙ্গে তার লবিং প্রতিষ্ঠানের যোগাযোগ এবং অতীতে দুইবার মন্ত্রিত্ব হারানোর কারণে ম্যান্ডেলসনকে কখনোই নিয়োগ দেওয়া উচিত ছিল না।
তবে স্টারমারের পদত্যাগের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেছেন, ‘আমি তা মনে করি না, অবশ্যই না। প্রধানমন্ত্রীরা ভুল করেন। তারা নির্ভুল নন, তারা মানুষ।’
সোমবার পার্লামেন্টে ঘণ্টার পর ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়েন স্টারমার। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রে দায়িত্ব পালনরত অভিজ্ঞ কূটনীতিক ক্যারেন পিয়ার্সকে সরিয়ে ম্যান্ডেলসনকে ওই পদে বসানো নিয়েও প্রশ্ন ওঠে—যেখানে ট্রাম্প প্রশাসন পিয়ার্সকে রাখতেই চেয়েছিল বলে জানা যায়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখে স্টারমারকে আংশিক সমর্থন দেন। তিনি লেখেন, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার স্বীকার করেছেন যে তিনি ওয়াশিংটনে রাষ্ট্রদূত নির্বাচনে ‘ভুল সিদ্ধান্ত’ নিয়েছিলেন। আমি একমত, এটি সত্যিই খারাপ পছন্দ ছিল। তবে ঘুরে দাঁড়ানোর সময় এখনও আছে।
তীব্র চাপের মধ্যেও স্টারমার অন্তত আগামী ৭ মে ওয়েলস, স্কটল্যান্ড ও ইংল্যান্ডের স্থানীয় নির্বাচনের আগ পর্যন্ত মন্ত্রীসভার সমর্থনে দায়িত্বে থাকবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে জরিপ বলছে, ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি এই নির্বাচনে বড় ধরনের ধাক্কা খেতে পারে। বিশেষ করে ওয়েলসে প্রথমবারের মতো ক্ষমতা হারানো এবং স্কটিশ পার্লামেন্টে ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ ফল করার আশঙ্কা রয়েছে।



