ফকল্যান্ড ইস্যুতে আলোচনার প্রস্তাব আর্জেন্টিনার, প্রত্যাখ্যান যুক্তরাজ্যের

সংগৃহীত ছবি
ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে নতুন করে আলোচনা শুরুর আহ্বান জানিয়েছে আর্জেন্টিনা। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র এই ইস্যুতে তাদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করতে পারে এমন খবরে নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, পেন্টাগনের একটি ফাঁস হওয়া ইমেইলে ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল হামলায় অংশ না নেওয়া ন্যাটো মিত্রদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন পদক্ষেপের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ফকল্যান্ডের মতো ‘উপনিবেশিক অঞ্চল’ নিয়ে মার্কিন সমর্থন পুনর্বিবেচনার কথাও রয়েছে।
তবে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যুক্তরাজ্যের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন নেই।
এক মুখপাত্র বলেছেন, ‘ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের জনগণ গণভোটে স্পষ্টভাবে যুক্তরাজ্যের অধীনে থাকার পক্ষে মত দিয়েছে। আমরা সব সময় তাদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের পক্ষে থেকেছি।’
তিনি আরও বলেছেন, ‘ফকল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব কোনোভাবেই প্রশ্নের মুখে নয়, এ বিষয়ে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট ও ধারাবাহিক।’
আর্জেন্টিনার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাবলো কির্নো বলেছেন, ‘সার্বভৌমত্ব বিরোধের শান্তিপূর্ণ ও চূড়ান্ত সমাধানের জন্য আমরা আবারও দ্বিপক্ষীয় আলোচনা শুরুর আগ্রহ প্রকাশ করছি।’
দেশটির প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মাইলেই বলেছেন, তার সরকার ‘ফকল্যান্ডকে আর্জেন্টিনার কাছে ফিরিয়ে আনতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে’ এবং এ ক্ষেত্রে ‘অভূতপূর্ব অগ্রগতি’ হয়েছে।
ফকল্যান্ড সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যের প্রতিশ্রুতির ওপর তাদের ‘পূর্ণ আস্থা’ রয়েছে।
ব্রিটিশ মন্ত্রী স্টিফেন ডাউটি বলেছেন, এ বিষয়ে নতুন কোনো মূল্যায়নের প্রয়োজন নেই এবং যুক্তরাজ্যের অবস্থান ‘দৃঢ় ও অপরিবর্তিত’।
ইরান ইস্যুতে মতবিরোধের জেরে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সম্পর্কে টানাপোড়েনের মধ্যেই এ ঘটনা সামনে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রকে ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারে পূর্ণ স্বাধীনতা না দেওয়ায় ট্রাম্প অসন্তুষ্ট।
রিফর্ম ইউকের নেতা নাইজেল ফারাজ বলেছেন, ‘দ্বীপগুলোর অবস্থান
‘আলোচনার ঊর্ধ্বে’। কনজারভেটিভ নেতা কেমি ব্যাডেনক মার্কিন অবস্থানকে ‘সম্পূর্ণ হাস্যকর’ বলে অভিহিত করেছেন। লিবারেল ডেমোক্র্যাট নেতা এড ডেভি রাজা তৃতীয় চার্লসের যুক্তরাষ্ট্র সফর বাতিলের আহ্বান জানিয়েছেন।
১৯৮২ সালের যুদ্ধে এইচএমএস আর্ডেন্টের কমান্ডার অ্যাডমিরাল লর্ড ওয়েস্ট বলেছেন, ‘ফকল্যান্ডের অবস্থান পুনর্বিবেচনার যে কোনো প্রস্তাব ‘স্বাধীন ও আত্মনির্ভর জনগণের প্রতি অপমান।’
উল্লেখ্য, আর্জেন্টিনা দীর্ঘদিন ধরে ফকল্যান্ডের দাবি জানিয়ে আসছে। ১৯৮২ সালে দ্বীপপুঞ্জটি দখলের চেষ্টা করলেও যুদ্ধে ব্রিটেনের কাছে পরাজিত হয় দেশটি। ওই যুদ্ধে প্রায় ৬৫০ জন আর্জেন্টাইন ও ২৫৫ জন ব্রিটিশ সেনা নিহত হন।
বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মাইলেইয়ের ঘনিষ্ঠ মিত্র। ইরান ইস্যুতে মতভেদের পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে তার সম্পর্কেরও অবনতি হয়েছে।



