ইউরোপীয় নেতাদের অনলাইনে ‘হয়রানি’ করছেন মাস্ক, অভিযোগ ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ইলন মাস্ক— রয়টার্স
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে ইউরোপীয় নেতাদের বিরুদ্ধে ‘ব্যাপক অনলাইন হয়রানিমূলক প্রচারাভিযান’ চালানোর অভিযোগ তুলেছেন ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। আগামী বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে দেশটিকে অস্থিতিশীল করতে বিদেশি তৎপরতার সমালোচনা করতে গিয়ে ইলন মাস্কের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেন তিনি।
অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থার (ওইসিডি) এক সম্মেলনে মঙ্গলবার বক্তব্য দেন ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল বারো। বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্র নিয়ে লড়াইয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন তিনি। বারো বললেন, ‘গণতন্ত্রকে দুর্বল করতে চাওয়া শক্তিগুলো এখন তথ্যের পরিসরে আধিপত্য বিস্তার করছে। সেখানে তারা জনপরিসরের বিতর্কে বিভাজন তৈরির উদ্দেশ্যে বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করছে।’
এর ফলে ‘কর্তৃত্ববাদী লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা রাজনৈতিক আন্দোলনগুলো’ ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকায় শক্তিশালী হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষায়, এসব আন্দোলন ‘গণতন্ত্রের ঘোষিত শত্রুদের স্বার্থেই কাজ করছে’।
বারো আরও বলেন, ‘তারা আমাদের সমাজের বিভাজন আরও বাড়িয়ে তুলছে। তাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য স্পষ্ট—ক্ষমতা দখল করা এবং এরপর এমন পরিস্থিতি তৈরি করা, যাতে সেই ক্ষমতা আর কখনো ছাড়তে না হয়।’
ফ্রান্সের ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন বারো। জনমত জরিপে দেশটির কট্টর ডানপন্থী নেতা মেরিন লো পেন এগিয়ে রয়েছেন। বারো বলেন, ‘গণতন্ত্রের শত্রুরা আমাদের অস্থিতিশীল করতে সবকিছু করছে। তারা আমাদের বিভাজনকে কাজে লাগাচ্ছে এবং ঘৃণা ও উত্তেজনা ছড়াতে অভিবাসন, ধর্মনিরপেক্ষতা ও ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতকে ব্যবহার করছে।’
এ সময় আরও কয়েকটি উদাহরণ দেন ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এর মধ্যে রয়েছে ইসরায়েলের একটি নাম প্রকাশ না করা কোম্পানির বিরুদ্ধে ফরাসি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া অ্যাকাউন্ট তৈরি করে ইসরায়েল-গাজা যুদ্ধ সম্পর্কে জনমত প্রভাবিত করার অভিযোগ। এ ছাড়া ফ্রান্সের প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল নিউ ক্যালেডোনিয়ায় প্রাণঘাতী দাঙ্গার সময় উত্তেজনা উসকে দেওয়ার জন্য আজারবাইজানের বিরুদ্ধেও অভিযোগ তোলেন তিনি।
বিশ্বের শীর্ষ ধনী ব্যক্তি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সের মালিক ইলন মাস্ককেও আলাদাভাবে উল্লেখ করেন বারো। তিনি বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভাইরাল হওয়ার ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে বিতর্ক প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে ইলন মাস্ক ইউরোপীয় নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনলাইন হয়রানিমূলক প্রচারাভিযান চালাচ্ছেন।’
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ফ্রান্সে চলা বিক্ষোভের কথাও উল্লেখ করেন বারো। শিক্ষার্থী, স্কুলশিক্ষার্থী ও ট্রেড ইউনিয়নের সদস্যরা বিভিন্ন স্কুল অবরোধ করেছেন এবং শহরগুলোতে মিছিল করেছেন। বারোর অভিযোগ, রাশিয়া, চীন ও ইরানের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো এসব ঘটনাকে কাজে লাগিয়ে ‘শত্রুতাপূর্ণ বয়ান’ ছড়িয়েছে।
বারো বলেন, অর্থের বিনিময়ে বা নির্দিষ্ট দায়িত্ব নিয়ে কাজ করা প্রভাবশালীরা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ক্ষমতাকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছেন। এ বাস্তবতা মোকাবিলায় তাঁর সরকার কাজ করছে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের উদার গণতন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে নতুন এক কর্তৃত্ববাদ প্রতিষ্ঠা করাই ক্রেমলিনের ঘোষিত লক্ষ্য। অন্য পক্ষগুলোও এই লক্ষ্যের দিকে এগোচ্ছে। নিজেদের স্বার্থের সঙ্গে ইউরোপের অবস্থান মেলে কি না, তার ভিত্তিতে তারা ঠিক করে দিতে চায় কোন গণতন্ত্র “ভালো” আর কোনটি “খারাপ”।’
ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্যের কয়েক দিন আগে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম বলেছিলেন, ব্রেক্সিট গণভোটে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের বিষয়টি ‘স্পষ্ট’।
বারো বলেন, বিদেশি পক্ষগুলোর এসব তৎপরতা মোকাবিলায় তার সরকার কাজ করবে। তিনি বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে কোনো আপস করি না। কারণ, আমাদের কাছে স্পষ্ট যে এসব তৎপরতা দেশের মৌলিক স্বার্থকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। যেখান থেকেই আসুক, কোনো ধরনের বিদেশি হস্তক্ষেপ আমরা সহ্য করি না। এটি সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন।’
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান





