যুক্তরাজ্যে প্রতি ৮০ সেকেন্ডে ক্যানসার রোগী শনাক্ত একজন

সংগৃহীত ছবি
দিনদিন ক্যানসার আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলছে যুক্তরাজ্যে। নতুন এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটিতে বছরে ৪ লাখ ৩ হাজারের বেশি মানুষের শরীরে ক্যানসার শনাক্ত হচ্ছে।
ক্যানসার রিসার্চ ইউকের তথ্য অনুযায়ী, গড়ে প্রতি ৮০ সেকেন্ডে ক্যানসার রোগী শনাক্ত হচ্ছে একজন। সংস্থাটি বলছে, জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও মানুষের গড় আয়ু বাড়ার কারণেই বেড়েছে ক্যানসারের প্রবণতা। একই সঙ্গে ১৯৯০ দশকের শুরু থেকে ক্যানসারের হার ১৫ শতাংশ বেড়েছে, যার অন্যতম কারণ শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমা।
ক্যানসার রিসার্চ ইউকের প্রধান নির্বাহী মিশেল মিচেল বলেছেন, ‘এর আগে কখনো এত বেশি মানুষ ক্যানসারে আক্রান্ত হননি। ১৯৭০ দশকের পর ক্যানসার থেকে বেঁচে থাকার হার দ্বিগুণ হয়েছে ঠিকই, কিন্তু গত এক দশকে কমেছে এর অগ্রগতি।’
ক্যানসার রিসার্চ ইউকে আরও বলেছে, ক্যানসার দ্রুত শনাক্তে জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন। তাদের ভাষ্য, যুক্তরাজ্যে কেবল অর্ধেকের কিছু বেশি রোগীর ক্যানসার প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়ে, আর সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই হার প্রায় অপরিবর্তিত।
প্রতিবেদনে ফুসফুসের ক্যানসার শনাক্তে স্ক্রিনিং কর্মসূচি ব্যাপকভাবে চালুর সুপারিশ করেছে সংস্থাটি। এ ধরনের কর্মসূচি কার্যকর করা গেলে বছরে অতিরিক্ত ৭ হাজার ৮০০ ক্যানসার রোগী শনাক্ত করা সম্ভব।
ক্যানসার প্রতিরোধেও আরও জোর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ক্যানসার রিসার্চ ইউকে। তাদের মতে, শিগগিরই আইনে পরিণত হতে যাওয়া টোব্যাকো অ্যান্ড ভেপস বিল বাস্তবায়ন করা অপরিহার্য। ওই আইনে ২০০৮ সালের পর জন্ম নেওয়া কাউকে ধূমপান করতে দেওয়া হবে না।
একই সঙ্গে চিকিৎসার জন্য অপেক্ষার সময় কমাতে বিশেষজ্ঞ জনবল ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামে বিনিয়োগ বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। ২০২৫ সালে প্রায় ১ লাখ ৭ হাজার রোগীকে চিকিৎসা শুরুর জন্য ৬২ দিনের বেশি অপেক্ষা করতে হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে।
স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা বিভাগ-সংশ্লিষ্ট এক মুখপাত্র স্পষ্ট করেন, ‘আমরা গত এক বছরে রেকর্ডসংখ্যক ডায়াগনস্টিক পরীক্ষা সম্পন্ন করেছি। ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের (এনএইচএস) জন্য অতিরিক্ত বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২৬ বিলিয়ন পাউন্ড।’



