মার্কিন চাপেও ফকল্যান্ড নিয়ে আপস করবে না যুক্তরাজ্য

সংগৃহীত ছবি
ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র অবস্থান পুনর্বিবেচনা করতে পারে এমন খবরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হলেও যুক্তরাজ্য বলেছে, দ্বীপপুঞ্জটির সার্বভৌমত্ব ‘কোনোভাবেই প্রশ্নের মুখে নয়’৷
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, পেন্টাগনের একটি অভ্যন্তরীণ ই-মেইলে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল হামলায় অংশ না নেওয়া ন্যাটো মিত্রদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব ছিল। এর মধ্যে ‘ফকল্যান্ডের মতো উপনিবেশিক অঞ্চলে’ যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সমর্থন পুনর্মূল্যায়নের কথাও উল্লেখ করা হয়।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের এক মুখপাত্র বলেছেন, ‘ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের জনগণ গণভোটে স্পষ্টভাবে যুক্তরাজ্যের অধীনে থাকতে চেয়েছে। আমরা সব সময় তাদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের পক্ষে দাঁড়িয়েছি।’
তিনি আরও বলেছেন, ‘ফকল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব নিয়ে কোনো প্রশ্নই নেই, এ বিষয়ে আমাদের অবস্থান পরিষ্কার ও ধারাবাহিক।’
ব্রিটিশ রাজা ও রানির আসন্ন যুক্তরাষ্ট্র সফরের আগে বিষয়টি লন্ডন-ওয়াশিংটন সম্পর্কে নতুন অস্বস্তি তৈরি করেছে। তবে ডাউনিং স্ট্রিট বলছে, এই সফর ‘যুক্তরাজ্য-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের শক্তিশালী দিকগুলোই তুলে ধরবে’।
আর্জেন্টিনা দীর্ঘদিন ধরে ফকল্যান্ডের দাবি জানিয়ে আসছে। ১৯৮২ সালে দ্বীপপুঞ্জটি দখলের চেষ্টা করলেও যুদ্ধে ব্রিটেনের কাছে পরাজিত হয় দেশটি। ওই যুদ্ধে প্রায় ৬৫০ জন আর্জেন্টাইন ও ২৫৫ জন ব্রিটিশ সেনা নিহত হন।
বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মাইলেইয়ের ঘনিষ্ঠ মিত্র। ইরান ইস্যুতে মতভেদের পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে তার সম্পর্কেরও অবনতি হয়েছে।
ইরানে হামলার সময় যুক্তরাষ্ট্রকে ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারে পূর্ণ স্বাধীনতা দেননি স্টারমার। পরে ইরানের পাল্টা হামলার পর আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ও ডিয়েগো গার্সিয়াসহ কয়েকটি ঘাঁটি সীমিতভাবে প্রতিরক্ষামূলক ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ফকল্যান্ডকে ‘যুক্তরাজ্য পরিচালিত, আর্জেন্টিনার দাবিকৃত’ এলাকা হিসেবে উল্লেখ করে।
সাবেক ব্রিটিশ পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বেন জুডাহ বলেছেন, ‘ইস্যুটি সত্যিই উদ্বেগের বিষয়।’
রিফর্ম ইউকের নেতা নাইজেল ফারাজ বলেছেন, ‘ফকল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব নিয়ে কোনো আলোচনা হবে না। আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাতে বিষয়টি তুলবেন।
কনজারভেটিভ নেতা কেমি ব্যাডেনক সম্ভাব্য মার্কিন অবস্থানকে ‘সম্পূর্ণ হাস্যকর’ বলেন। তার ভাষায়, ‘ফকল্যান্ড ব্রিটিশ ভূখণ্ড এটা স্পষ্টভাবে রক্ষা করতে হবে।’
লিবারেল ডেমোক্র্যাট নেতা এড ডেভি রাজা ও রানির যুক্তরাষ্ট্র সফর বাতিলের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ‘এমন অবিশ্বস্ত ও ক্ষতিকর প্রেসিডেন্ট আমাদের দেশকে অপমান করে যেতে পারে না।’
পেন্টাগনের ওই ই-মেইলে স্পেনকে ন্যাটো থেকে স্থগিত করার প্রস্তাবের কথাও ছিল, কারণ দেশটি ইরানে হামলায় ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি। তবে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর বলেছে, স্পেন ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’ এই জোটের অংশ।
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেছেন, ‘আমরা ই-মেইল নয়, সরকারি নথি ও ঘোষণার ভিত্তিতে কাজ করি।” তিনি আরও বলেন, “আমাদের অবস্থান স্পষ্ট—মিত্রদের সঙ্গে সহযোগিতা থাকবে, তবে আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামোর মধ্যেই।’



