পর্তুগালে ঘণ্টায় ৩০ কিমি গতিতে চলবে গাড়ি

সংগৃহীত ছবি
পর্তুগাল গাড়ি চালানোর গতিসীমা ঘণ্টায় ৩০ কিলোমিটারে কমিয়ে আনার পরিকল্পনা করছে সরকার। বর্তমানে জনবহুল এলাকায় গতিসীমা ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার। সাম্প্রতিক সময়ে সড়ক দুর্ঘটনা মাত্রাতিরিক্ত বেড়ে যাওয়া ও প্রাণহানির কারণে এ পরিকল্পনা করছে সরকার।
পর্তুগালে দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হলো অতিরিক্ত গতি, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো এবং গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার।
জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে ১৬ এপ্রিলের মধ্যে পর্তুগালে ৪৪ হাজার ৯০৪টি সড়ক দুর্ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১২.৮৯ শতাংশ বেশি। এই দুর্ঘটনাগুলোতে ১৪৭ জন নিহত এবং ৬৫২ জন গুরুতর আহত হয়েছে, যা গত বছরের পরিসংখ্যানের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে যথাক্রমে ৪২.৭২ শতাংশ এবং ১.২৪ শতাংশ।
এই সমস্যা মোকাবিলায় সরকার পর্তুগালে সড়ক নিরাপত্তা জোরদার করতে চায়। এই পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে জিএনআর ট্র্যাফিক ব্রিগেডের প্রত্যাবর্তন এবং সামাজিক মাধ্যমে ‘স্টপ’ কার্যক্রমের জন্য আগাম সতর্কবার্তা দেওয়া বন্ধ করা। পরিকল্পনা রয়েছে হাইওয়ে কোড পর্যালোচনারও।
বর্তমানে সড়ক আইন অনুযায়ী জনবহুল এলাকায় সব যানবাহনের জন্য গতিসীমা ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার। তবে সরকার এই গতিসীমা কমিয়ে ঘণ্টায় ৩০ কিলোমিটার করার পরিকল্পনা করছে, যা এরই মধ্যে অন্যান্য ইউরোপীয় শহরে চালু আছে।
২০২৪ সালে জর্জ ইয়ানিস এবং ইভা মিশেলারাকির ‘ইউরোপে শহরব্যাপী ঘণ্টায় ৩০ কিমি গতিসীমার সুবিধার পর্যালোচনা’ শীর্ষক সমীক্ষায় ব্রাসেলস, প্যারিস, জুরিখসহ ৪০টি ইউরোপীয় শহরে এই পদক্ষেপের প্রভাব বিশ্লেষণ করা হয়। সমীক্ষার উপসংহারে বলা হয়, সড়ক দুর্ঘটনা ২৩ শতাংশ কমেছে, যেখানে মৃত্যু ৩৭ শতাংশ এবং দুর্ঘটনাজনিত আঘাত হ্রাস পেয়েছে ৩৮ শতাংশ।



