শ্রম আয়ে কর বৃদ্ধির শীর্ষে যুক্তরাজ্য

ধনী দেশগুলোর মধ্যে গত বছর শ্রম আয়ে কর বৃদ্ধির শীর্ষে ছিল যুক্তরাজ্য
ধনী দেশগুলোর মধ্যে গত বছর শ্রম আয়ের ওপর কর বৃদ্ধির হারে শীর্ষে ছিল যুক্তরাজ্য এমন তথ্য প্রকাশ করেছে অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থা (ওইসিডি)।
সংস্থাটির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ব্রিটিশ চ্যান্সেলর অব দ্য এক্সচেকার (অর্থমন্ত্রী) র্যাচেল রিভসের করনীতির পরিবর্তনের কারণেই তৈরি হয়েছে এই প্রবণতা।
ওইসিডির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে কর্মী ও নিয়োগকর্তাদের প্রদত্ত মোট কর বৃদ্ধি পেয়েছে ২ দশমিক ৪৫ শতাংশ পয়েন্ট। এর ফলে যুক্তরাজ্যে গড় একক কর্মীর আয়ের ওপর করের হার দাঁড়িয়েছে ৩২ দশমিক ৪ শতাংশ, যা ২০২৪ সালে ছিল ২৯ দশমিক ৯ শতাংশ।
৪০টি উন্নত অর্থনীতির মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ বৃদ্ধি। তালিকায় এরপর রয়েছে এস্তোনিয়া ও জার্মানি। তবে অস্ট্রেলিয়া, ইতালি, আয়ারল্যান্ড ও ডেনমার্কসহ কয়েকটি দেশে মজুরির ওপর কমেছে কর।
ওইসিডির গড় করহার বর্তমানে ৩৫ দশমিক ১ শতাংশ, যা যুক্তরাজ্যের চেয়ে বেশি এখনও। সামগ্রিক তালিকায় দেশটির অবস্থান এখন ১৩তম, যা লেবার পার্টি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার সময় ছিল ১০ম।
‘ট্যাক্স ওয়েজ’ সূচক অনুযায়ী, কর্মী ও নিয়োগকর্তার দেওয়া মোট কর থেকে সরকারি নগদ সুবিধা বাদ দিয়ে নির্ধারণ করা হয় প্রকৃত করের বোঝা। এতে বোঝা যায়, একজন কর্মীকে নিয়োগ দিতে নিয়োগকর্তার মোট খরচ এবং কর্মীর হাতে আসা আয়ের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে কতটা।
ওইসিডি বলছে, যুক্তরাজ্যে কর বৃদ্ধির প্রধান কারণ হলো ২০২৪ সালের বাজেটে নিয়োগকর্তাদের ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স অবদান বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতির সঙ্গে করসীমা সমন্বয় না করা, যার ফলে তৈরি হয়েছে ‘ফিসকাল ড্র্যাগ’।
এস্তোনিয়ায় করহার বেড়েছে ১ দশমিক ৯৫ শতাংশ পয়েন্ট, জার্মানিতে ১ দশমিক ৩৪ এবং ইসরায়েলে ১ দশমিক ৯ শতাংশ পয়েন্ট। অন্যদিকে ওইসিডি অঞ্চলে সর্বনিম্ন হার কলম্বিয়ায় শূন্য এবং সর্বোচ্চ বেলজিয়ামে ৫২ দশমিক ৫ শতাংশ।
এই পরিসংখ্যান লেবার সরকারের করনীতি নিয়ে সমালোচনাকে তীব্র করেছে আরও। বিরোধীরা বলছেন, নির্বাচনের আগে কর্মজীবী মানুষের ওপর কর না বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে বেড়েছে করের চাপ।
ছায়া অর্থমন্ত্রী মেল স্ট্রাইড বললেন, সরকার কর্মজীবী মানুষের ওপর কর না বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি করেছে ভঙ্গ এবং দ্রুত বাড়াচ্ছে করের বোঝা, যা অর্থনীতির জন্য টেকসই নয়।
এর আগে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)ও সতর্ক করেছিল, জি–৭ দেশগুলোর মধ্যে কর বৃদ্ধির গতি সবচেয়ে বেশি হতে পারে যুক্তরাজ্যে।
অন্যদিকে র্যাচেল রিভস বলেছেন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং পুনর্গঠনের জন্য এসব পদক্ষেপ প্রয়োজন ছিল দীর্ঘদিন অবহেলিত জনসেবা খাত।
তবে কর ও ব্যয়নীতি নিয়ে অব্যাহত রয়েছে সমালোচনা। অর্থনীতির তুলনায় মোট করের হার বর্তমানে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন।
ব্যবসায়ীরা ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স বৃদ্ধি, ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি এবং শ্রম আইনে পরিবর্তনের পরিকল্পনা নিয়ে প্রকাশ করেছেন উদ্বেগ। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক চাপ, দুর্বল ভোক্তা আস্থা ও বেকারত্বের প্রভাব পড়ছে চাকরির বাজারেও।
লেবারপন্থীরা দাবি করছেন, দীর্ঘদিনের মজুরি স্থবিরতা ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা মোকাবিলায় প্রয়োজন এসব সংস্কারের। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, বৈশ্বিক অস্থিরতা ও জ্বালানি সংকট পরিস্থিতি আরও করতে পারে জটিল।



