ব্রিটেনে নতুন পাঁচ চাকরির চারটিই বিদেশিদের
- ১২ বছরে ৩৭ লাখ বাড়তি চাকরি, ২৯ লাখই বিদেশিদের
- চাকরি বাড়ছে, তবু ভাতানির্ভর মানুষের সংখ্যা ঊর্ধ্বমুখী

ব্রিটেনে বেড়েছে বেতনভুক্ত চাকরির সংখ্যা। অথচ সেই বৃদ্ধির সিংহভাগই বিদেশি নাগরিকদের নামে। অন্যদিকে কাজের বাইরে থাকা মানুষের ভাতার ব্যয়ও বাড়ছে। অর্থনীতির দুই বিপরীত চিত্র সামনে এনে বিতর্ক উসকে দিয়েছে একটি গবেষণা। প্রশ্ন উঠেছে, কর্মসংস্থান বাড়লেও দেশের বহু মানুষ কেন পিছিয়ে থাকছেন?
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর সোশ্যাল জাস্টিসের হিসাবে ২০১৪ থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্রিটেনে বেতনভুক্ত চাকরির সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৩৭ লাখ। এই নিট বৃদ্ধির মধ্যে ব্রিটিশ নাগরিকদের অংশ মাত্র ৭ লাখ ৩৪ হাজার। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিকদের ৪ লাখ ৮ হাজার। ইউনিয়নের বাইরের দেশের নাগরিকদের প্রায় ২৫ লাখ।
ফলে বাড়তি চাকরির হিসাবে প্রতি পাঁচটির প্রায় চারটিই বিদেশি নাগরিকদের কর্মসংস্থানের বৃদ্ধি। তবে এটি নতুন নিয়োগের প্রত্যেকটি পদ কে পেয়েছেন, তার হিসাব নয়। বরং কর কর্তৃপক্ষের বেতনভুক্ত চাকরির নথিতে দুই সময়ের পার্থক্য। বিদেশিরা ব্রিটিশদের চাকরি কেড়ে নিয়েছেন, তথ্যটি একা তা প্রমাণ করে না।
তবে সামগ্রিক চিত্র ভিন্ন। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে বেতনভুক্ত চাকরির তিন কোটি বিশ লাখ নথির মধ্যে দুই কোটি ছাপ্পান্ন লাখই ছিল ব্রিটিশ নাগরিকদের নামে।
গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২০ সালের পর ইউরোপিয় ইউনিয়নবহির্ভূত নাগরিকদের বেতনভুক্ত চাকরি বেড়েছে ২১ লাখ। একই সময়ে ব্রিটেনের ১২টি অঞ্চল ও দেশের মধ্যে নয়টিতেই ব্রিটিশ নাগরিকদের চাকরির সংখ্যা কমেছে। স্কটল্যান্ডে কমেছে ৫৩ হাজার, পশ্চিম মিডল্যান্ডসে ৩২ হাজার। বিপরীতে লন্ডনে ইউনিয়নবহির্ভূত নাগরিকদের চাকরি বেড়েছে ৪ লাখ ৬৫ হাজারের বেশি।
স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক পরিচর্যা, হোটেল-রেস্তোরাঁ এবং খুচরা ব্যবসায় বিদেশি কর্মসংস্থানের বৃদ্ধি সবচেয়ে বেশি। শুধু স্বাস্থ্য ও সামাজিক পরিচর্যায় এই বৃদ্ধির ২৯ শতাংশ। গবেষকদের দাবি, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর দক্ষতা বাড়ানোর চেয়ে বিদেশি শ্রমিকের ওপর নির্ভর করায় দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা চাপা পড়েছে।
গবেষণার নেতৃত্ব দেওয়া সাবেক ব্রিটিশ কর্মসংস্থান ও পেনশনমন্ত্রী ইয়ান ডানকান স্মিথ বলেছেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে সরকারগুলো সমৃদ্ধির পরিবেশ তৈরির বদলে অর্থনৈতিক ব্যর্থতার ক্ষতিপূরণ দিতে ভাতাব্যবস্থা ব্যবহার করেছে।’ তাঁর অভিযোগ, পিছিয়ে পড়া এলাকাগুলোতে সুযোগ তৈরির বদলে অভিবাসনের সহজ পথ বেছে নেওয়া হয়েছে।
গবেষণা অনুযায়ী, ২০২০ সালের পর কাজের বাইরে থাকা অবস্থায় ভাতা পাওয়া মানুষের সংখ্যা বেড়েছে ২৩ লাখ। বর্তমানে ইংল্যান্ড, ওয়েলস ও স্কটল্যান্ডে প্রায় ৬৭ লাখ মানুষ এমন অন্তত একটি সুবিধা পান। আগামী অর্থবছরে কর্মক্ষম বয়সীদের ভাতা বাবদ ব্যয় ১৩ হাজার ৬১০ কোটি পাউন্ডে পৌঁছানোর পূর্বাভাস রয়েছে। তবে এই ব্যয়ের সবটাই বেকার ভাতা নয়; অসুস্থতা ও অন্যান্য সহায়তাও এর অন্তর্ভুক্ত।
সরকার বলেছে, কর্মশক্তির বড় অংশ এখনও ব্রিটিশ নাগরিক। দক্ষতাভিত্তিক অভিবাসনব্যবস্থা চালুর পাশাপাশি তরুণ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কাজে ফেরাতে বিনিয়োগ করা হচ্ছে ৩৫০ কোটি পাউন্ড।
একদিকে বিদেশি কর্মীতে সচল ব্যবসা। অন্যদিকে দেশীয় জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান নিয়ে প্রশ্ন। এই পরিসংখ্যানের জবাব শুধু সীমান্তনীতি নয়, শিক্ষা, দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির মধ্যেও খুঁজতে হবে।



