পূর্বপুরুষ নাৎসি ছিলেন কি না, জানতে হুড়োহুড়ি জার্মানিতে

সংগৃহীত ছবি
নিজের শেকড় বা পূর্বপুরুষের ইতিহাস সম্পর্কে জানার আগ্রহ মানুষের চিরন্তন। কিন্তু সেই ইতিহাস যদি হয় রক্তক্ষয়ী কোনো অধ্যায়ের সঙ্গে যুক্ত? সম্প্রতি জার্মানিতে তৈরি হয়েছে ঠিক এমনই এক পরিস্থিতি।
নিজের পূর্বপুরুষরা হিটলারের কুখ্যাত নাৎসি পার্টির সদস্য ছিলেন কি না, তা খুঁজে বের করতে অনলাইনে রীতিমতো পড়ে গেছে হুড়োহুড়ি।
জার্মান সংবাদপত্র ডাই জাইট এআই প্রযুক্তির সহায়তায় চালু করেছে নাৎসি আমলের কয়েক লাখ সদস্যের তথ্য সংবলিত একটি সার্চ ইঞ্জিন। আর এটি চালুর পর থেকেই কয়েক মিলিয়ন মানুষ নিজেদের পারিবারিক সত্য জানতে ভিড় করছেন এই পোর্টালে। ডাই জাইটের ওয়েবসাইটে অনুসন্ধান করে জানা যাচ্ছে জার্মান পূর্বপুরুষদের এসব তথ্য।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দীর্ঘ সময় ধরে অনেক জার্মান পরিবারেই কাজ করত একটি নীরবতা। বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই জানতেন না তাদের দাদা-দাদিরা হিটলারের সেই আদর্শের সমর্থক ছিলেন কি না।
ডাই জাইট বলছে, এই সার্চ ইঞ্জিন চালুর উদ্দেশ্য হলো ‘ভুল লজ্জাবোধ থেকে জন্ম নেওয়া সেই নীরবতার অবসান ঘটানো’।
ইতিহাস বলছে, ১৯২৫ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ২ লাখ মানুষ যোগ দিয়েছিলেন নাৎসি পার্টিতে। যুদ্ধের শেষ দিকে নাৎসিরা এসব সদস্যপদ কার্ড ধ্বংস করার চেষ্টা করলেও সেগুলো রক্ষা পায় শেষ মুহূর্তে। পরবর্তীতে তা হাতে পড়ে আমেরিকানদের। এখন সেই বিশাল তথ্যভাণ্ডারই উন্মুক্ত করা হয়েছে সবার জন্য।
ডাই জাইটের ইতিহাস বিভাগের প্রধান ক্রিশ্চিয়ান স্টাস জানান, বিগত বছরে এই তথ্য জানতে আবেদন করতেন গড়ে মাত্র ৭৫ হাজার মানুষ। কিন্তু এখন এই অনলাইন পোর্টালে মানুষের চাপ এতটাই বেশি যে, মাঝে মাঝে অচল হয়ে পড়ছে ওয়েবসাইট।
সার্চ ইঞ্জিনে নিজের পরিবারের সদস্যের নাম খুঁজে পাওয়ার পর অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানাচ্ছেন আবেগঘন প্রতিক্রিয়া।
এ্যামিল নামের একজন লিখেছেন, আমার দুই দাদাই ছিলেন নাৎসি দলের সদস্য।
আরেকজন ব্যবহারকারী দীর্ঘ ৪০ বছর পর নিশ্চিত হয়েছেন, তার দাদা ছিলেন একজন নাৎসি সদস্য। কেনো যুদ্ধের প্রসঙ্গ উঠলে তিনি ক্ষেপে যেতেন, সেই প্রশ্নের উত্তর আজ তিনি খুঁজে পেয়েছেন।
হলোকস্ট গবেষক ক্রিস্টিন স্মিথ মনে করেন, বর্তমান সময়ে যখন ঘটছে ইতিহাসের নানা তথ্যবিকৃতি, তখন এই ধরনের মূল নথিপত্র কাজ করবে সত্য উদঘাটনে বড় অস্ত্র হিসেবে। নিজের শেকড় খুঁজে পেতে গিয়ে তিক্ত সত্যের মুখোমুখি হওয়াটা যেমন কষ্টের, তেমনি এটি জার্মানির নতুন প্রজন্মের কাছে এক ঐতিহাসিক শিক্ষাও।



