ইসরায়েলে হামলা অব্যাহত রেখে হিজবুল্লাহ জানাল, একপেশে যুদ্ধবিরতি মানি না

লেবাননের আরনৌন শহরে বিমান হামলার পর ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়।
ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে গত ১৬ এপ্রিল থেকে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে, যা গত বৃহস্পতিবার আরও তিন সপ্তাহের জন্য বাড়ানো হয়েছিল। তবে এই চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ইসরায়েল যেকোনো আসন্ন বা চলমান হামলার বিরুদ্ধে আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার সংরক্ষণ করে।
ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেস দাবি করেছে যে, তারা দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর সেইসব আস্তানা ও সদস্যদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে, যারা ইসরায়েলি সেনাদের ওপর হামলার পরিকল্পনা করছিল। এই হামলায় ১৪ জন লেবাননের নাগরিক নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, হিজবুল্লাহর ড্রোন হামলায় ১৯ বছর বয়সী একজন ইসরায়েলি সৈন্য নিহত এবং আরও ছয়জন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে আইডিএফ। এছাড়া ইসরায়েল অভিমুখে হিজবুল্লাহর পাঠানো তিনটি ড্রোন মাঝপথেই ভূপাতিত করা হয়েছে।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু একটি সরকারি বৈঠকে জানিয়েছেন যে, হিজবুল্লাহর কর্মকাণ্ডই যুদ্ধবিরতিকে হুমকির মুখে ফেলছে। তিনি বলেছেন, ‘আমরা যুক্তরাষ্ট্র ও লেবাননের সাথে হওয়া চুক্তি অনুযায়ী জোরালো পদক্ষেপ নিচ্ছি। এর অর্থ হলো কেবল হামলার জবাব দেওয়া নয়, বরং আসন্ন যেকোনো হুমকি নস্যাৎ করার স্বাধীনতা আমাদের রয়েছে।’ গত শনিবার তিনি হিজবুল্লাহর ওপর ‘ব্যাপক আক্রমণ’ চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন।
এই সংঘাতের মধ্যেই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি রবিবার পাকিস্তানে গিয়েছেন। তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরুর লক্ষ্যেই তার এই সফর। গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়িয়েছিলেন যাতে আলোচনার পথ খোলা থাকে। তবে কূটনৈতিক জটিলতার কারণে ট্রাম্প তার বিশেষ দূতের পাকিস্তান সফর বাতিল করেছেন। আরাগচি সোমবার মস্কোতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে দেখা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।



