চাকরির জন্য ৩০ প্রতিষ্ঠানে গিয়েছিলেন জ্যাক মা
- অ্যাপার্টমেন্ট থেকে সারা বিশ্বে আলিবাবা

ছবি: রয়টার্স
এ যেন কবীর সুমনের ‘হাল ছেড়ো না’ গানের চিত্রকল্প। ‘হাল ছেড়ো না বন্ধু, বরং কণ্ঠ ছাড়ো জোরে/ দেখা হবে তোমায় আমায় অন্য গানের ভোরে।’
আজ বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান আলিবাবা সবারই পরিচিত। অনলাইনে কেনাকাটার জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম আলিএক্সপ্রেসও এই প্রতিষ্ঠানেরই অংশ। তবে আলিবাবার সাফল্যের পেছনে আছে দীর্ঘ সংগ্রাম। অসংখ্য ব্যর্থতা এবং জ্যাক মা নামের একজন মানুষের অদম্য চেষ্টা। যিনি কখনোই হাল ছাড়েননি। ব্যর্থতা সামলে এগিয়েছেন এক পা এক পা করে।
১৯৬৪ সালের ১৫ অক্টোবর চীনের হাংঝু শহরের একটি সাধারণ পরিবারে জন্ম নেন জ্যাক মা। তার পরিবারের আর্থিক অবস্থা ছিল ভীষণ নাজুক। ছোটবেলা থেকেই নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে তাকে।
খুব একটা সহজ ছিল না তার শিক্ষাজীবন। প্রাথমিকে দুইবার এবং মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অকৃতকার্য হন তিনবার। পরে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য ১০ বার আবেদন করেও পাননি সুযোগ। চাকরির জন্য গিয়েছিলেন ৩০টির বেশি প্রতিষ্ঠানে। প্রতিটিতেই প্রত্যাখ্যাত হন।
তবে ব্যর্থতা থামাতে পারেনি তাকে। ইংরেজি শেখার আগ্রহ থেকে বিদেশি পর্যটকদের সঙ্গে কথা বলতেন। পরে ইংরেজিতে নেন স্নাতক ডিগ্রি। শুরু করেন শিক্ষকতা।
১৯৯৫ সালে একটি সরকারি প্রকল্পের কাজে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছেন জ্যাক মা। প্রথমবারের মতো ইন্টারনেটের সঙ্গে পরিচিত হয়েছিলেন সে সময়। সেখানে দেখতে পান, ইন্টারনেটে চীন সম্পর্কে তথ্য খুব কম। নতুন একটি ব্যবসার ধারণা জন্ম নেয় তার মাথায়।
১৯৯৯ সালে ১৭ জন বন্ধুর সঙ্গে নিজের অ্যাপার্টমেন্টে প্রতিষ্ঠা করেন আলিবাবা। শুরুটা ছিল ছোট। কিন্তু স্বপ্ন ছিল বড়।
পরবর্তী সময়ে জাপানের সফটব্যাংক এবং বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান গোল্ডম্যান স্যাকসের কাছ থেকে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ পায় আলিবাবা। এরপর ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে প্রতিষ্ঠানটি।
শুধু একটি অনলাইন মার্কেটপ্লেস তৈরি করেননি জ্যাক মা। গড়ে তোলেন পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ইকোসিস্টেম। আলিবাবার পাশাপাশি চালু করেন তাওবাও, আলিপে এবং আলিওয়াংওয়াং। এই তিনটি সেবা যেন ই-কমার্সের ‘আয়রন ট্রায়াঙ্গল’।
বর্তমানে আলিবাবার ওপর নির্ভরশীল ব্যবসায়ী থেকে ব্যবসায়ী। ব্যবসায়ী থেকে ক্রেতা। ক্রেতা থেকে ক্রেতা। এর নামের পেছনেও আছে মজার গল্প।
যুক্তরাষ্ট্রের একটি ক্যাফেতে বসে জ্যাক মার মাথায় আসে ‘আলিবাবা’ নামটি। পরে বিভিন্ন মানুষের কাছে নামটির সম্ভাব্য সফলতা যাচাই করেন। সবার ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া এই নাম বেছে নিতে উৎসাহিত করে তাকে।
আজ আলিবাবা শুধু একটি কোম্পানি নয়। অধ্যবসায়, সাহস এবং স্বপ্নপূরণের প্রতীক। বহুবার ব্যর্থ হওয়ার পরও যে মানুষটি হাল ছাড়েননি, তার হাত ধরেই গড়ে উঠেছে বিশ্বের অন্যতম সফল প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান।
জ্যাক মার গল্প মনে করিয়ে দেয়, ব্যর্থতা শেষ নয়। কখনো কখনো বড় সাফল্যের শুরুও।





