ইন্দোনেশিয়ার বালিতে যাত্রীবাহী ফেরিতে আগুন

ছবি: রয়টার্স
পর্যটন দ্বীপ বালি থেকে লম্বকের পথে ছুটছিল যাত্রীবাহী ফেরি ‘কেএম পুত্রি ইয়াসমিন’। হঠাৎ আগুন লাগে ফেরিতে। মুহূর্তেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে জাহাজজুড়ে। প্রাণ বাঁচাতে শুরু হয় ছোটাছুটি, আর সমুদ্রের মধ্যে শুরু হয় উদ্ধার অভিযান। বুধবার আগুনে জ্বলতে থাকা ফেরিটি থেকে ১৭২ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এরই মধ্যে একজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়েছে। এখনো কেউ নিখোঁজ আছেন কি না, তা খুঁজে দেখতে সমুদ্রে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।
স্থানীয় উদ্ধার সংস্থার প্রধান মুহাম্মদ হারিয়াদি জানিয়েছেন, ফেরিটি বালির পাদাংবাই বন্দর থেকে পশ্চিম নুসা তেংগারা প্রদেশের লম্বকের লেম্বার বন্দরের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল।
লম্বক প্রণালিতে বুধবার ভোর ৪টা ৩৯ মিনিটে ফেরিটিতে আগুন লাগে বলে জানান তিনি। খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে উদ্ধারকারী নৌযান পাঠানো হয়।
বুধবার বিকেল পর্যন্ত একজন ইন্দোনেশীয় নাগরিকের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ১৭২ জনকে বালি ও লম্বকের বিভিন্ন বন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন অস্ট্রেলীয় নাগরিক, বাকিরা ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক।
হারিয়াদি বলেছেন, উদ্ধার অভিযান ও ঘটনাস্থলের আশপাশে থাকা অন্যান্য নৌযানের সঙ্গে সমন্বয়ের জন্য কয়েকটি নৌযান পাঠানো হয়েছে। পুরো অভিযানে ২০০ জনের বেশি কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।
তবে ফেরিটিতে কীভাবে আগুন লাগল, তা এখনো জানা যায়নি। অতিরিক্ত যাত্রী বহন করা হয়েছিল কি না, সেটিও পরিষ্কার নয়।
তবে যাত্রীসংখ্যা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে। বালির পাদাংবাই বন্দরের কর্মকর্তা হেরি উইয়ান্তো স্থানীয় সম্প্রচারমাধ্যম কমপাস টিভিকে জানিয়েছেন, ফেরিটির যাত্রী তালিকায় মাত্র ১১৪ জন যাত্রী ও ১৭ জন ক্রুর নাম ছিল। অথচ উদ্ধার করা হয়েছে ১৭২ জনকে।
এই ঘটনার মাত্র এক মাস আগেও ইন্দোনেশিয়ার আরেকটি ফেরিতে আগুন লেগে পাঁচজন নিহত হয়। ‘কেএম মুতিয়ারা সেন্তোসা ২’ নামের ওই ফেরিটিতেও তালিকায় উল্লেখিত সংখ্যার চেয়ে বেশি মানুষ ছিল।
প্রায় ১৭ হাজার দ্বীপের দেশ ইন্দোনেশিয়ায় ফেরি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগব্যবস্থা। আকাশপথের তুলনায় সমুদ্রপথ সস্তা এবং সহজলভ্য হওয়ায় লাখো মানুষ নিয়মিত ফেরিতে যাতায়াত করেন।
তবে এই বিপুল নির্ভরতার বিপরীতে নিরাপত্তাব্যবস্থার প্রয়োগ সবসময় কঠোর নয়। ফলে দেশটিতে ফেরি দুর্ঘটনার হারও তুলনামূলকভাবে বেশি।





