অস্ত্র রপ্তানি করবে শান্তিপ্রিয় জাপান
- নীতিতে বড় পরিবর্তন
- রপ্তানি হবে ১৭ দেশে
- চীনের সমালোচনা

প্রতীকী ছবি
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে নিজেদের শান্তিপ্রিয় হিসেবে তুলে ধরে আসছে জাপান। এ দীর্ঘ সময়ে দেশটি সম্পৃক্ত হয়নি কোনো আঞ্চলিক সংঘাতে। এ ছাড়া ছিল প্রাণঘাতী অস্ত্র রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞাও। তবে আজ মঙ্গলবার প্রাণঘাতী অস্ত্র রপ্তানির ওপর সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে দিল জাপান। দেশটির যুদ্ধোত্তর শান্তিবাদী নীতিতে এটি বড় পরিবর্তন।
চীন ও উত্তর কোরিয়ার বাড়তে থাকা আগ্রাসন নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে নিজেদের প্রতিরক্ষা শিল্প শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই নেওয়া হয়েছে এই সিদ্ধান্ত। প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির মন্ত্রিসভার অনুমোদিত নতুন নির্দেশিকায় দূর হয়েছে জাপানের তৈরি যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধ ড্রোনসহ বিভিন্ন অস্ত্র বিক্রির ক্ষেত্রে শেষ বাধাগুলোও।
এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে জাপানের প্রতিরক্ষা অংশীদার অস্ট্রেলিয়া। সেই সঙ্গে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যেও তৈরি হয়েছে আগ্রহ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একে ‘ঐতিহাসিক পদক্ষেপ’ বলে উল্লেখ করেন জাপানে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত জর্জ গ্লাস।
তবে এই নীতিগত পরিবর্তনের সমালোচনা করেছে চীন। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুয়ো জিয়াকুন জানান, চীনসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ‘জাপানের নতুন ধরনের সামরিকতাবাদের দিকে বেপরোয়া অগ্রযাত্রার বিরুদ্ধে গড়ে তুলবে দৃঢ় প্রতিরোধ।’
দেশের ভেতরেও বিরোধীরা বলছে, এই সিদ্ধান্ত জাপানের শান্তিবাদী সংবিধানের পরিপন্থি। এতে বৈশ্বিক উত্তেজনা বাড়বে ও হুমকির মুখে পড়বে জাপানি জনগণের নিরাপত্তা।
তবে প্রধান মন্ত্রিপরিষদসচিব মিনোরু কিহারার মতে, নতুন নীতি ‘নিশ্চিত করবে জাপানের নিরাপত্তা। অবদান রাখবে দ্রুত পরিবর্তিত আঞ্চলিক পরিস্থিতিতে শান্তি ও স্থিতিশীলতায়।’ তিনি জানান, সরকার কৌশলগতভাবে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রপ্তানি বাড়াবে, যাতে জাপানের জন্য অনুকূল নিরাপত্তা পরিবেশ তৈরি হয় এবং আরও শক্তিশালী হয় প্রতিরক্ষা শিল্পের ভিত্তি।
জাপানের অস্ত্র রপ্তানি সীমাবদ্ধ ছিল পাঁচটি ক্ষেত্রে—উদ্ধার, পরিবহন, সতর্কতা, নজরদারি ও মাইন অপসারণ।
নতুন নির্দেশনায় তুলে দেওয়া হয়েছে এসব সীমাবদ্ধতা। এখন অনুমতি দেওয়া হয়েছে যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র ও ডেস্ট্রয়ারসহ বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানির।
তবে আপাতত এসব রপ্তানি শুধু সীমিত থাকবে ১৭টি দেশের মধ্যে। জাপানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি স্থানান্তর চুক্তি করেছে এই দেশগুলো।
কর্মকর্তারা বলছেন, জাপানের নতুন অস্ত্র স্থানান্তর নীতিমালা দেশটির অংশীদারদের সঙ্গে আরও গভীর করবে সামরিক ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সহযোগিতা। এ ছাড়া সহায়তা করবে আঞ্চলিক প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সানায়ে তাকাইচি লিখেছেন, ‘আজকের দিনে কোনো দেশ একা শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে না, পারস্পরিক সহায়তার জন্য অংশীদার প্রয়োজন।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘শান্তিবাদী রাষ্ট্র হিসেবে আমাদের ৮০ বছরের ইতিহাস ও অঙ্গীকারে হয়নি কোনো পরিবর্তন।’ তিনি অস্ত্র রপ্তানির ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুতি দেন কঠোর মানদণ্ড বজায় রাখার।



