কেন অর্ধেক দামে বিক্রি হচ্ছে ‘বিতর্কিত’ ফল ডুরিয়ান

মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের ভোক্তারা কম দামে দুরিয়ান কিনে লাভবান হচ্ছেন- রয়টার্স
তীব্র গন্ধের কারণে বিশ্বের অন্যতম ‘বিতর্কিত’ ফল হিসেবে কুখ্যাতি আছে ডুরিয়ানের। কিন্তু সেই ডুরিয়ানের জন্যই এখন সিঙ্গাপুরে লম্বা লাইন, কোথাও আবার বিনা মূল্যে বিতরণ করা হচ্ছে ‘ফলের রাজা’খ্যাত এই ফল। মালয়েশিয়ায় রেকর্ড উৎপাদনে সৃষ্টি হওয়া ‘ডুরিয়ান সুনামি’ ভোক্তাদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে এলেও দাম ধসে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন দেশটির চাষিরা। মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের ভোক্তারা কম দামে ডুরিয়ান কিনে লাভবান হচ্ছেন, অন্যদিকে চরম চাপে পড়েছেন মালয়েশিয়ার চাষিরা।
সিঙ্গাপুরের পূর্বাঞ্চলের ট্যাম্পিনেসে অবস্থিত ‘ডুরিয়ান নিনজা’ ফলের দোকানের সামনে প্রতিদিনই দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। জুনের মাঝামাঝি থেকে দোকানটি প্রতিদিন প্রায় ৬০০ কেজি ডুরিয়ান বিনা মূল্যে বিতরণ করছে। প্রত্যেক ক্রেতাকে দেওয়া হচ্ছে সর্বোচ্চ দুটি করে ডুরিয়ান। পাশের দেশ মালয়েশিয়ায় ২০২৬ সালের বাম্পার ফলনের কারণে অতিরিক্ত সরবরাহ তৈরি হওয়ায় এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ডুরিয়ানের দাম কমে যাওয়ায় মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর—দুই দেশের ক্রেতারাই খুশি। ৬৯ বছর বয়সী চেরং জানান, তিনি ও তার পরিবার প্রায় প্রতিদিনই আগের তুলনায় প্রায় অর্ধেক দামে উন্নত মানের ডুরিয়ান খেতে পারছেন। অঞ্চল জুড়ে বিভিন্ন ফলের দোকানে বড় ধরনের মূল্যছাড় দেওয়া হচ্ছে, কোথাও কোথাও আবার বিনা মূল্যেও ডুরিয়ান বিতরণ করা হচ্ছে।
তবে এই পরিস্থিতি মালয়েশিয়ার চাষিদের জন্য বড় সংকট তৈরি করেছে। তাদের ভাষায়, ‘ডুরিয়ান সুনামি’ নামে পরিচিত এই অতিরিক্ত সরবরাহের পেছনে রয়েছে গত এক দশকের ব্যাপক আকারে ডুরিয়ান চাষের সম্প্রসারণ। বিশেষ করে চীনে প্রিমিয়াম জাতের ‘মুসাং কিং’ ডুরিয়ানের চাহিদা বাড়ায় অনেক কৃষক রাবার ও তেলপাম বাগান কেটে ডুরিয়ানের বাগান গড়ে তোলেন। এখন সেই গাছগুলো একসঙ্গে ফল দেওয়া শুরু করায় বাজারের চাহিদা ছাড়িয়ে গেছে উৎপাদন।
এর প্রভাব পড়েছে দামে। চাষিদের মতে, গত বছরের শেষ দিকে প্রতি কেজি ‘মুসাং কিং’ ডুরিয়ানের গড় দাম ছিল ১৩ দশমিক ৫০ রিংগিত। বর্তমানে তা নেমে এসেছে প্রায় অর্ধেকে। ক্রেতা টানতে অনেক চাষি খুচরা মূল্য প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমিয়ে দিয়েছেন। আবার কেউ কেউ লোকসান সামাল দিতে কলাসহ অন্যান্য ফসলের ওপর নির্ভর করছেন।
চাষিদের দাবি, নিম্নমানের ফল উৎপাদনও সংকটকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। নতুন ফল দেওয়া অনেক গাছে এমন ডুরিয়ান উৎপাদিত হচ্ছে, যা রপ্তানির মানদণ্ড পূরণ করতে পারছে না। ফলে সেগুলো বাধ্য হয়ে কম দামে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করতে হচ্ছে। প্রিমিয়াম জাতের ‘ব্ল্যাক থর্ন’ ডুরিয়ানের দামও কমেছে, তবে সবচেয়ে বেশি দরপতন হয়েছে সাধারণ ‘কাম্পুং’ জাতের ডুরিয়ানে।
এর পাশাপাশি কয়েকটি উৎপাদন এলাকায় প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে ফুল ফোটা ও পরাগায়ন ব্যাহত হওয়ায় কিছু চাষির ফলনও কমেছে। অতিরিক্ত সরবরাহের ধাক্কার আগেই তারা এই ক্ষতির মুখে পড়েন।
চাষিদের আয় রক্ষায় মালয়েশিয়ার ফেডারেল অ্যাগ্রিকালচারাল মার্কেটিং অথরিটি (ফামা) ক্ষুদ্র চাষিদের কাছ থেকে নির্ধারিত দামে ডুরিয়ান কেনা শুরু করেছে। একই সঙ্গে শিল্পসংশ্লিষ্টরা চীনে রপ্তানি আরও বাড়ানো এবং কম দামের পরিবর্তে মালয়েশিয়ার ডুরিয়ানের গুণগত মানকে সামনে এনে বাজার সম্প্রসারণের চেষ্টা করছেন। তাদের আশা, এতে আবারও স্থিতিশীল হবে দেশটির প্রিমিয়াম ডুরিয়ান খাত।




