কিম-পুতিনের মতো ভোট পেয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত যিনি

জিবুতির সিটি হল কেন্দ্রে ভোট দিচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ওমর গুয়েলেহ। ছবি : এএফপি
হর্ন অব আফ্রিকার দেশ জিবুতিতে টানা ষষ্ঠবারের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন ইসমাইল ওমর গুয়েলেহ। তার ভোট পাওয়ার হার জানলে চোখ কপালে উঠবে যে কারও!
প্রবীণ এ রাজনীতিবিদ পেয়েছেন প্রায় ৯৮ শতাংশ ভোট। এ ধরনের জনসমর্থন বর্তমান বিশ্বে পেতে দেখা যায় উত্তর কোরিয়ার কিম জং উন বা রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে।
জিবুতির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থায় প্রকাশিত সরকারি ফল অনুযায়ী, শুক্রবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে পড়া ভোটের মধ্যে ৯৭.৮১ শতাংশ পেয়েছেন গুয়েলেহ। মাত্র ২.১৯ শতাংশ ভোট পেয়েছেন তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী মোহাম্মদ ফারাহ সামাতার।
স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, শুক্রবার ভোটার উপস্থিতি ছিল ৮০.৪ শতাংশ। ২ লাখ ৫৬ হাজার মানুষ জিবুতির নিবন্ধিত ভোটার। কথা ছিল ভোট নেওয়া হবে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। কিন্তু কেন্দ্রগুলো কিছু ক্ষেত্রে দেরি হওয়ার কারণে খোলা ছিল অতিরিক্ত এক ঘণ্টা।
লোহিত সাগরের পাড়ের দেশ জিবুতিতে ১২ লাখ মানুষের বাস। গুয়েলেহ ১৯৯৯ সাল থেকে সেই দেশের শাসনক্ষমতায়। এর আগে, ২০২১ সালেও ৯৮ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন তিনি।
প্রধান বিরোধী দল ইউনিফাইড ডেমোক্রেটিক সেন্টারের (সিডিইউ) সংসদে নেই কোনো আসন। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে বহির্বিশ্বের স্বীকৃতি পেতে বেশ বেগ পেতে হয়েছিল তাকে।
২০১০ সালে প্রেসিডেন্ট থাকার নির্দিষ্টি মেয়াদের সীমাবদ্ধতা তুলে দেয় গুয়েলেহ সমর্থিত জিবুতির সংসদ। এরপর ২০১৬ সাল থেকে দেশটির নির্বাচন বর্জন করে আসছে দুটি প্রধান বিরোধী দল।
প্রাথমিক ফলাফল আসতেই ৭৮ বছর বয়সী গুয়েলেহ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘পুনর্নির্বাচিত!’
নির্বাচনের আগে হাজার হাজার মানুষ নিয়ে একাধিক সমাবেশ করেছেন গুয়েলেহ। তার প্রচুর পোস্টার দেখা গেছে রাজধানীজুড়ে।
অন্যদিকে, প্রতিদ্বন্দ্বী সামাতারের একটি সমাবেশে মাত্র কয়েক ডজন লোক উপস্থিত ছিল বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
শুক্রবার ব্যালট জমা দেওয়ার সময় অধিকাংশ ভোটার জানতেন, বিশাল ব্যবধানে জিততে চলেছেন গুয়েলেহ।
ভোট দিতে আসা ৩৮ বছর বয়সী ডেকা আদেন মোহাম্মদ বলেছেন, গুয়েলেহকে ভোট দেওয়ার পরিকল্পনা তার। তিনি দাবি করেন, প্রতিপক্ষ দেখতে কেমন, তাও জানেন না তিনি।
মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো বছরের পর বছর ধরে বাকস্বাধীনতা ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড দমনের অভিযোগ করে আসছে গুলেয়েহ প্রশাসনের বিরুদ্ধে। যদিও অভিযোগগুলো প্রত্যাখ্যান করে আসছে সরকারি কর্তৃপক্ষ।
পূর্ব আফ্রিকার ইরিত্রিয়া, ইথিওপিয়া এবং সোমালিয়ার পাশেই জিবুতি। বাব আল-মান্দেব প্রণালির পাশে অবস্থিত দেশটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
সম্প্রতি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি অবরোধ করে ইরান। অন্যদিকে, বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে হামলার হুমকি দেয় ইয়েমেনের হুতিরা।
হরমুজের মতো বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য প্রণালিটিও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। এর আগে এই জলপথ একাধিক জাহাজে হামলা চালিয়েছিল ইরান সমর্থিত ইয়েমেনি গোষ্ঠীটি।
সূত্র: আল জাজিরা



