২০৩০ সালে মিসরের প্রেসিডেন্ট পদ ছাড়ার ঘোষণা সিসির

সংগৃহীত ছবি
ক্ষমতার মেয়াদ বাড়াতে একসময় বদলেছিল সংবিধান। এবার সেই সংবিধান আর বদলানো হবে না, জানিয়ে দিলেন মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল সিসি। ঘোষণা করেছেন, ২০৩০ সালেই শেষ হবে তার শাসনকাল। দীর্ঘদিনের ক্ষমতা, চতুর্থ মেয়াদের গুঞ্জন আর রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে এই বক্তব্য ঘিরে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে দেশটিতে।
আজ শনিবার মিডল ইস্ট আই ও রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, রাজধানী কায়রোর পূর্বে নতুন প্রশাসনিক রাজধানীতে মিসরীয় সামরিক একাডেমির সমাবর্তনে সিসি এ ঘোষণা দেন। তার ভাষায়, ‘মিসরের সংবিধানে হাত দেওয়া হবে না।’ প্রেসিডেন্ট পদ ছাড়ার বিষয়ে বলেছেন, ‘এটি পুরোপুরি নিষ্পত্তি হওয়া বিষয়। এ নিয়ে আর আলোচনা হবে না।’
সিসি বলেছেন, ‘২০৩০ সালে আমার রাষ্ট্র পরিচালনার মেয়াদ শেষ হবে, যদি তত দিন বেঁচে থাকি।’ তবে তিনি মনে করেন, ভবিষ্যতে দেশ পরিচালনার জন্য যোগ্য নেতৃত্ব তৈরির দায়িত্ব এখন থেকেই নিতে হবে। তার বক্তব্য, ‘দায়িত্ব নেওয়ার মতো মানুষে রাষ্ট্রকে সমৃদ্ধ না করে আমি চলে যেতে চাই না।’
সেই লক্ষ্যে সামরিক একাডেমিতে ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রীয় নেতৃত্ব তৈরির বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির প্রস্তাব দেন তিনি। প্রায় আড়াই বছর মেয়াদি কর্মসূচিতে সাড়ে সাত হাজার ঘণ্টার বেশি প্রশিক্ষণের কথা বলেছেন। মন্ত্রণালয়, সংসদ ও প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আগ্রহীদের প্রস্তুত করাই উদ্দেশ্য। যোগ্যতার ভিত্তিতে অংশগ্রহণকারী নির্বাচনের প্রতিশ্রুতিও দেন সিসি। বিশেষত দেশে বা বিদেশে পিএইচডি ডিগ্রিধারী চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ বছর বয়সীদের এই কর্মসূচিতে আবেদন নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। পরিবারের কাউকে ক্ষমতায় আনার প্রস্তুতি চলছে বলে যে সন্দেহ রয়েছে, তা প্রত্যাখ্যান করেন তিনি।
সাবেক সেনাপ্রধান সিসি ২০১৩ সালে গণবিক্ষোভের মধ্যে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করেন। পরের বছর প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালেও জয় পান। ২০১৯ সালের গণভোটে সংবিধান সংশোধন করে প্রেসিডেন্টের মেয়াদ চার থেকে ছয় বছর করা হয়। সেই পরিবর্তনেই তৃতীয়বার নির্বাচনে দাঁড়ানোর সুযোগ পান তিনি। ২০২৩ সালের ভোটে জয়ী হয়ে এখন ছয় বছরের মেয়াদ পালন করছেন।
কিন্তু, তার এই দীর্ঘ শাসন বিতর্কমুক্ত নয়। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, বিরোধী রাজনীতি, সংবাদমাধ্যম ও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রয়েছে। অন্যদিকে সমর্থকেরা আঞ্চলিক সংঘাতের মধ্যেও স্থিতিশীলতা রক্ষার কৃতিত্ব দেন সিসিকে।
সামনে অর্থনৈতিক চাপও প্রবল। আঞ্চলিক যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানির ব্যয় বেড়েছে, সুয়েজ খালের আয়েও ধাক্কা লেগেছে। এই পরিস্থিতিতে ক্ষমতা হস্তান্তরের ঘোষণা যতটা তাৎপর্যপূর্ণ, বাস্তবে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার সুযোগ কতটা বাড়বে, প্রশ্নটি ততটাই গুরুত্বপূর্ণ। বিদায়ের বছর ঘোষণা হয়েছে। কিন্তু মিসরের পরবর্তী নেতৃত্ব কে বেছে নেবেন, কীভাবে, সেই পরীক্ষাই এখনও বাকি।



