স্পেসএক্সের সঙ্গে চুক্তি
আরও ধনী হচ্ছেন ভারতীয় ও পাকিস্তানি দুই তরুণ

ভারতীয় বংশোদ্ভূত আমান সাঙ্গার ও পাকিস্তানি তরুণ সুয়ালেহ আসিফ
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত কোডিং স্টার্টআপ ‘কারসর’-কে ৬ হাজার কোটি ডলারে কিনে নিচ্ছে ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স। আর এই বিশাল চুক্তির কারণে রাতারাতি মাল্টি-বিলিয়নেয়ার বনে গেছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও শুরুর দিকের বিনিয়োগকারীরা।
স্পেসএক্স জানিয়েছে, তারা কারসরের মূল প্রতিষ্ঠান ‘অ্যানিস্ফিয়ার’ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিচ্ছে। কারসর মূলত এমন একটি এআই কোডিং এজেন্ট, যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের মাধ্যমে ডেভেলপারদের সফটওয়্যার ও কোড লিখতে সাহায্য করে।
এই চুক্তির মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি লাভবান হওয়া তরুণদের মধ্যে রয়েছেন কারসরের প্রতিষ্ঠাতা দলের সদস্য ২৫ বছর বয়সী ভারতীয় বংশোদ্ভূত আমান সাঙ্গার এবং ২৬ বছর বয়সী পাকিস্তানি তরুণ সুয়ালেহ আসিফ। আমান অ্যানিস্ফিয়ারের চিফ অপারেটিং অফিসার এবং আসিফ প্রতিষ্ঠানটির চিফ প্রোডাক্ট অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
২০২২ সালে আমান সাঙ্গার, সুয়ালেহ আসিফ, মাইকেল ট্রুয়েল এবং আরভিড লুনেমার্ক— এই চার তরুণ মিলে কারসর প্রতিষ্ঠা করেন। কোম্পানিতে এই চার সহ-প্রতিষ্ঠাতার প্রত্যেকেরই প্রায় ৪ দশমিক ৫ শতাংশ করে শেয়ার রয়েছে।
মার্কিন সাময়িকী ফোর্বসের হিসাব অনুযায়ী, স্পেসএক্সের এই অধিগ্রহণের ফলে এই চার তরুণের প্রত্যেকের সম্পদের পরিমাণ দ্বিগুণ হয়ে ২৭০ কোটি ডলারে পৌঁছাবে।
এই চুক্তি থেকে শুধু যে এর প্রতিষ্ঠাতারা লাভবান হয়েছেন তা নয়, আন্দ্রেসেন হোরোভিটজ এবং থ্রাইভের মতো বড় বড় বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানও বিপুল মুনাফা পেয়েছে। চুক্তির পর কোম্পানিতে তাদের শেয়ারের মূল্য দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে প্রায় ৬ বিলিয়ন এবং ৪ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার।
ফোর্বসের তথ্যমতে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে কোম্পানিটির বার্ষিক আয় ছিল ২ বিলিয়ন ডলার। এপ্রিলে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩ বিলিয়নে। জুন মাসের মধ্যেই তা ৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়। কারসরের এই অভাবনীয় সাফল্যের পেছনে মূল ভূমিকা রেখেছে এর ‘ক্লাউড এজেন্টস’ ফিচারটি। এই ফিচারটির সুবিধা হলো, এটি ব্যাকগ্রাউন্ডে বা পর্দার আড়ালে টানা কয়েক ঘণ্টা ধরে অত্যন্ত জটিল কোডিংয়ের কাজ নিখুঁতভাবে করে দিতে পারে।
কারসর এবং স্পেসএক্স মূলত গত এপ্রিল মাস থেকে একসঙ্গে কাজ শুরু করে। ওই সময়ই স্পেসএক্স ৬০ বিলিয়ন ডলারে কারসরকে কিনে নেওয়ার অধিকার (রাইট টু বাই) নিশ্চিত করে রেখেছিল। চুক্তিটি কোনো কারণে সফল না হলে স্পেসএক্সকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৮ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের কম্পিউটার রিসোর্স সরবরাহ এবং দেড় বিলিয়ন ডলার ব্রেকআপ ফি দিতে হতো।
গত কয়েক মাস ধরে স্পেসএক্স এবং কারসর যৌথভাবে একটি নতুন এআই মডেল তৈরির কাজ করছে। স্পেসএক্স জানিয়েছে, নতুন এই মডেলটি কারসরের কোডিং সফটওয়্যারের পাশাপাশি স্পেসএক্সের মালিকানাধীন এক্সএআইয়ের তৈরি চ্যাটবট গ্রোক-এ ব্যবহার করা হবে।




