চার ফরাসি গোলার সামনে প্যারাগুয়ে

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
চারবারের চ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে বিদায় করে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় পৌঁছেছে প্যারাগুয়ে। টাইব্রেকারে লা আলবিরোহারা শেষ হাসি হাসে ৪-৩ গোলে জিতে। এবার তাদের সামনে দুবারের বিশ্বজয়ী ফ্রান্স। দুর্দান্ত ফর্ম নিয়ে গত আসরের ফাইনালিস্টরা পা রেখেছে শেষ ষোলোতে। সামর্থ্য, ফর্ম, আত্মবিশ্বাস— সব দিক থেকেই প্যারাগুয়ের চেয়ে ঢের এগিয়ে দিদিয়ের দেশমের দল। ফিলাডেলফিয়ায় শনিবার রাতে চাইবে আরেকবার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে নাম লেখাতে। অন্যদিকে প্যারাগুয়ের সামনে ফরাসিদের থমকে দিয়ে ইতিহাস গড়ার সুযোগ। বিশ্ব র্যাংকিংয়ে শীর্ষে থেকে শেষ ষোলোর ম্যাচটি খেলতে নামবে ফ্রান্স। ফর্মের তুঙ্গে থাকা কিলিয়ান এমবাপ্পে দলটির অন্যতম গোলমেশিন। চলতি আসরে চার ম্যাচে ছয় গোল করে এরই মধ্যে সেরা গোলদাতার তালিকায় লিওনেল মেসির সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে আছেন। তবে ফ্রান্স শুধু এমবাপ্পেনির্ভর দল নয়। বরং কোচ দিদিয়ের দেশম এমন এক আক্রমণভাগ গড়ে তুলেছেন, এই ব্রিগেডের চারজনই সমানভাবে জ্বলছেন। এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলে, মাইকেল ওলিসে ও ব্র্যাডলি বারকোলাকে নিয়ে গড়া এক ভয়ংকর ফরোয়ার্ড লাইন গোলের আগুনে পুড়িয়ে মারছে প্রতিপক্ষকে।
চার ম্যাচে দলটি করেছে ১৩ গোল। বিপরীতে হজম করেছে দুই গোল। গ্রুপ পর্বে সেনেগালকে ৩-১, ইরাককে ৩-০ ও নরওয়েকে ৪-১ গোলে হারানোর পর শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে সুইডেনকে উড়িয়েছে ৩-০ ব্যবধানে। উসমান দেম্বেলে নরওয়ের বিপক্ষে হ্যাটট্রিকসহ করেছেন চার গোল। বার্কোলার আছে দুই গোল। মাইকেল ওলিসে গোল না পেলেও সতীর্থদের দিয়ে পাঁচ গোল করিয়ে অ্যাসিস্টের রেকর্ডে শীর্ষে। আরেকটি হলেই তিনি ছুঁয়ে ফেলবেন ব্রাজিলিয়ান মহাতারকা পেলের ১৯৭০ বিশ্বকাপে গড়া ছয় অ্যাসিস্টের রেকর্ড।
প্যারাগুয়ের চাপের মুখে ভেঙে না পড়া এবং প্রতিপক্ষকে হতাশ করার দক্ষতা ভালোই বোঝা গেছে জার্মানির বিপক্ষে। ১৬ বছর পর বিশ্বকাপে পা রাখা দলটি এর আগে একবারই খেলেছে কোয়ার্টার ফাইনাল। ২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে তারা কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে বিদায়ের পর টানা ব্যর্থতায় মিস করেছেন বিশ্বকাপের তিন আসর। আর্জেন্টাইন কোচ গুস্তাভো আলফারো দলটিকে দীর্ঘদিন পর নিয়ে আসেন মূল আসরে। বোকা জুনিয়র্স, ইকুয়েডর ও কোস্টারিকার সাবেক এ কোচের অধীনে প্যারাগুয়ে আছে দারুণ ছন্দে।
সব মিলিয়ে পাঁচবারের দেখায় ফ্রান্সকে হারাতে না পারা প্যারাগুয়ে (২ ড্র, ৩ হার) নিশ্চয়ই চাইবে ১৯৯৮ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে লরেন্ত ব্লাঁর ১১৪ মিনিটে করা গোল্ডেন গোলে হারের বদলা নিতে। সুইডেনের বিপক্ষে ম্যাচটি ফ্রান্স কোচ দিদিয়ের দেশমের জন্যও ছিল এক আবেগঘন প্রত্যাবর্তনের উপলক্ষ, মায়ের মৃত্যুর পর তার প্রথম ডাগআউটে ফেরা। ১৯৯৮ সালের সেই ম্যাচে ফ্রান্সকে নেতৃত্ব দেওয়া দেশম কোচ হিসেবে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ১৮ জয়ের রেকর্ড আরও বাড়িয়ে নিয়েছেন সেদিন।




