বিশ্বরেকর্ড
বিশ্বকাপে অজেয় ম্যাক অ্যালিস্টার

আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের কথা উঠলেই সবার আগে উচ্চারিত হয় লিওনেল মেসির নাম। পাশাপাশি কখনও গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজের বীরত্ব আর লাউতারো মার্টিনেজের গোল। কিন্তু বিশ্বমঞ্চে আর্জেন্টিনার টানা সাফল্যের নেপথ্যে এমন এক সৈনিক আছেন, যার নাম গ্ল্যামারের আড়ালে ঢাকা পড়ে যায়। তিনি অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। সেমিফাইনাল জয়ের মাধ্যমে তিনি দারুণ এক বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন।
পরিসংখ্যান বলছে, ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘসময় অপরাজিত থাকার রেকর্ডটি এখন ম্যাক অ্যালিস্টারের দখলে। অপটা জো’র তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বকাপে নিজের খেলা ১৩টি ম্যাচের একটিতেও হারেননি এই মিডফিল্ডার। এর মধ্যে জয় পেয়েছেন ১১টি ম্যাচে এবং ড্র করেছেন দুটি। সেই দুটি ড্র হওয়া ম্যাচও শেষে টাইব্রেকারে জিতে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ থেকে শুরু করে ২০২৬ বিশ্বকাপেও চলছে ম্যাক অ্যালিস্টারের এই অজেয় যাত্রা। ডিফেন্স ও অ্যাটাকের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখায় ম্যাক অ্যালিস্টারের জুড়ি নেই। কাতার বিশ্বকাপ থেকেই কোচ লিওনেল স্কালোনির পরিকল্পনার অবিচ্ছেদ্য অংশ তিনি। স্কালোনি যেন তার ওপর অন্ধ আস্থা রাখেন, যার প্রমাণ—আর্জেন্টিনার গত চারটি ম্যাচেই তিনি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত খেলেছেন, কোনোবারই তাকে তুলে নেওয়া হয়নি। ফাইনালে মেসি বা ইয়ামালের মতো তারকাদের দিকে সবার নজর থাকলেও, মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিতে ম্যাক অ্যালিস্টারই হতে পারেন আর্জেন্টিনার আসল ‘তুরুপের তাস’।
ম্যাক অ্যালিস্টার নিজেও মনে করেন, আধুনিক ফুটবল এখন অনেক বেশি শারীরিক। আর সেই শারীরিক শক্তির সঙ্গে মেধার সমন্বয় ঘটিয়েই তিনি আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে নিতে চান শিরোপার পথে। এনজো ফার্নান্দেজ বা রদ্রিগো ডি পলের সাথে তার রসায়ন আর্জেন্টিনা দলকে দারুণ এক ভারসাম্য এনেছে। ১৩ ম্যাচে ২ গোল ও ২ অ্যাসিস্ট—এই পরিসংখ্যান হয়তো খুব বেশি কিছু বলবে না, কিন্তু আর্জেন্টিনার এই অজেয় যাত্রায় ম্যাক অ্যালিস্টার ভূমিকা রেখে যাচ্ছেন আড়াল থেকেই।





