ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি
মেসিদের প্রতিপক্ষ ‘মিনি বার্সেলোনা’

২০১০ সালের সেই ঐতিহাসিক বিশ্বকাপের স্মৃতি কি তবে আবারও ফিরছে স্পেনের ফুটবলে? তৎকালীন স্প্যানিশ দলের মেরুদণ্ড ছিল বার্সেলোনার খেলোয়াড়রা। ১৬ বছর পর আবারও বিশ্বকাপ ফাইনালের মঞ্চে স্পেন, আর এবারের দলের মূল শক্তিও সেই বার্সেলোনাই। বর্তমান ইউরোপ চ্যাম্পিয়ন স্পেনের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে থাকা আট ফুটবলারই বার্সেলোনার। অন্যদিকে আর্জেন্টিনা কিংবদন্তি লিওনেল মেসি স্বয়ং বার্সা কিংবদন্তি। ক্যারিয়ারের প্রায় পুরোটাই কাটিয়েছেন কাতালান ক্লাবটিতে।
স্পেনের এই দলটিতে লা মাসিয়া থেকে উঠে আসা আট খেলোয়াড় হলেন— লামিনে ইয়ামাল, ভিক্টর মুনিয়োজ, পাউ কুবারসি, গাভি, দানি ওলমো, এরিক গার্সিয়া, অ্যালেক্স গ্রিমালদো ও মার্ক কুকুরেয়া। ফ্রান্সের বিপক্ষে সেমিফাইনালে শুরু থেকেই আলো ছড়িয়েছেন লামিনে ইয়ামাল, দানি ওলমো এবং পাউ কুবারসি। ম্যাচের শুরুতেই লামিন ইয়ামাল ডি বক্সে ফাউলের শিকার হয়ে পেনাল্টি আদায় করে নেন, যা থেকে গোল করে স্পেনকে এগিয়ে দেন ওয়ারজাবাল।
দ্বিতীয়ার্ধে দানি ওলমোর জাদুকরী অ্যাসিস্ট থেকে পেদ্রো পোরো গোল করলে ফ্রান্সের ঘুরে দাঁড়ানোর সব পথ বন্ধ হয়ে যায়। রক্ষণভাগে পাউ কুবারসির দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে ফরাসি আক্রমণভাগকে কোনো সুযোগই দেয়নি। বদলি হিসেবে নেমে ফেরান তোরেস এবং পেদ্রি মাঝমাঠ ও আক্রমণে প্রাণসঞ্চার করেছেন। এছাড়া স্কোয়াডে থাকা জোয়ান গার্সিয়া, এরিক গার্সিয়া ও গাভি—পুরো ম্যাচজুড়ে মাঠের বাইরে থেকে সতীর্থদের উৎসাহ জুগিয়েছেন। বার্সেলোনার এই আট খেলোয়াড়ই এখন স্পেনের শিরোপা জয়ের মূল সারথি।
বার্সেলোনা বিখ্যাত ‘লা মাসিয়া’ একাডেমি থেকে উঠে আসা এই তরুণ ফুটবলাররা এখন জাতীয় দলের হয়ে মাঠ মাতাচ্ছেন। ২০১০ সালে যখন স্পেন প্রথমবারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল, তখনও দলটির স্কোয়াডে বার্সেলোনার নয় জন খেলোয়াড় ছিলেন—ভিক্টর ভালদেজ, কার্লোস পুয়োল, জেরার্ড পিকে, সের্হিও বুসকেতস, জাভি, আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা, সেস্ক ফ্যাব্রেগাস, পেদ্রো ও পেপে রেইনা। সেই ইতিহাসের যেন আবারও পুনরাবৃত্তি হতে যাচ্ছে।
অন্যদিকে ১৩ বছর বয়সে লা মাসিয়ায় ঢুকেছিলেন লিওনেল মেসি। এখন তিনি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ফুটবলারদের একজন। বার্সেলোনার হয়ে এমন কিছু নেই যা তিনি জেতেননি। বার্সেলোনায় যাকে মেসির পরবর্তী সংস্করণ হিসেবে ভাবা হচ্ছে, সেই লামিনে ইয়ামালও লা মাসিয়ার প্রোডাক্ট। ফাইনালের আগে ইয়ামালকে নিয়ে নিজের মুগ্ধতা প্রকাশ করেছেন স্বয়ং মেসি। মাঠের খেলায় তাকে আটকে রাখার কথাও বলেছেন। ফাইনাল ম্যাচটি তাই হতে যাচ্ছে বার্সেলোনার দুই প্রজন্মের লড়াই।






