সন্তানের মুখ না দেখেই বিশ্বকাপে কলম্বিয়ান স্ট্রাইকার

সংগৃহীত ছবি
বিশ্বকাপের মাঠে গোল উদযাপনের পেছনে কখনো কখনো লুকিয়ে থাকে আরও গভীর আবেগ। কলম্বিয়ার স্ট্রাইকার হুয়ান কামিলো "কুচো" এরনান্দেসের ক্ষেত্রে সেটি আরও বেশি সত্যি। ১৭ জুন মেক্সিকো সিটি স্টেডিয়ামে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ৩-১ গোলের জয়ের ম্যাচে অভিষেকেই অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি। একইসঙ্গে এই মাঠেই দূর থেকে উদযাপন করেছেন সদ্য বাবা হওয়ার আনন্দ।
ম্যাচের শেষ দশ মিনিটে মাঠে নামেন কুচো। বল হারানোর মুহূর্তে অসাধারণ দক্ষতায় বল ধরে রেখে ক্রস বাড়ান জামিনটন কাম্পাসের উদ্দেশে, যিনি সেটিকে গোলে পরিণত করে কলম্বিয়ার জয় নিশ্চিত করেন। এই ফলাফলে গ্রুপ 'কে'-তে কঙ্গো, পর্তুগাল ও উজবেকিস্তানকে পেছনে ফেলে সাময়িকভাবে শীর্ষে উঠে আসে কলম্বিয়া।
তবে এই রাতটি কুচোর কাছে শুধু ফুটবলের কারণে বিশেষ নয়। বিশ্বকাপ শুরুর আগেই দ্বিতীয়বার বাবা হয়েছেন রিয়াল বেতিসের এই ২৭ বছর বয়সী স্ট্রাইকার। গত এপ্রিলে তার স্ত্রী কামিলা আসেভেদো দ্বিতীয় সন্তানের আগমনের কথা জানিয়েছিলেন। জাতীয় দলের প্রস্তুতি ও বিশ্বকাপের সময়সূচির কারণে সন্তানের জন্মের সময় স্ত্রীর পাশে থাকতে পারেননি কুচো। পরিবারও তার কাছে যেতে পারেনি।
ম্যাচের পর ডিস্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আবেগভরা কণ্ঠে কুচো বলেন, 'আমার ছেলে ১ জুন জন্ম নিয়েছে, কিন্তু আমি এখনো তাকে দেখতে পারিনি। তাকে দেখার জন্য মরিয়া হয়ে আছি। কিন্তু এই সবকিছু তাদের জন্যই— আমার স্ত্রীর জন্য, আমার সন্তানের জন্য। তাদের জন্যই লড়াই করে যাব।'
সাংবাদিক মন্তব্য করেন যে নবজাতক ছেলে যেন তার বাবার জন্য সৌভাগ্য বয়ে এনেছে। এই কথায় গর্বিত হাসিতে কুচো বলেন, 'একটা কথা আছে— শিশু সবসময় বগলে রুটি নিয়ে আসে। মনে হচ্ছে সেটা সত্যিই।'
বড় টুর্নামেন্টে পরিবার বাড়ার এই গল্প অবশ্য নতুন নয়। ২০২১ কোপা আমেরিকায় আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো 'দিবু' মার্তিনেস দ্বিতীয়বার বাবা হয়েছিলেন। ৩০ জুন জন্ম নিয়েছিল তার মেয়ে আভা। কিন্তু ব্রাজিলের বিপক্ষে ফাইনালের আগ পর্যন্ত মেয়েকে কোলে নিতে পারেননি দিবু। মারাকানার ড্রেসিং রুমে সেই বিখ্যাত ভাষণে লিওনেল মেসি বলেছিলেন, 'দিবু বাবা হয়েছে, অথচ এখনো মেয়েকে দেখতে পায়নি, কোলে নিতে পারেনি।' সেই মুহূর্তটি ভিডিওতে ছড়িয়ে পড়ার পর ভক্তদের হৃদয় ছুঁয়ে গিয়েছিল বিশ্বজুড়ে।




