যুদ্ধ, দারিদ্র্য ও অস্তিত্বের লড়াই

তাদের গল্পটা যুদ্ধের, অভাবের, বেঁচে থাকার লড়াইয়ের। হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে শরণার্থী হিসেবে অস্ট্রেলিয়ায় ঠাঁই হয়েছিল তিন ফুটবলারের। কালের পরিক্রমায় তিনজনই বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রতিনিধিত্ব করছেন সকারুজদের। আওয়া মাবিল, থমাস ডেং ও গ্যারাং কুওল; তুরস্কের বিপক্ষে দলের উদ্বোধনী ম্যাচে তারাই যেন অস্ট্রেলিয়ার অনুপ্রেরণা।
অস্ট্রেলিয়ান ফুটবলে শরণার্থীদের অবদানের ইতিহাস অনেক পুরনো। ২০০০ সালের পর থেকে আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য এবং এশিয়ার বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চল থেকে আসা পরিবারগুলোর সন্তানরা সকারুজদের হয়ে মাঠ মাতাচ্ছেন। জাতীয় দলের পাশাপাশি বয়সভিত্তিক দলেও আছেন অনেক সম্ভাবনাময় ফুটবলার। শুধু খেলা নয়, এ যেন সেই শরণার্থীদের দিয়েছে নতুন এক জীবন। মাবিলের কথাই ধরুন। দক্ষিণ সুদানে তার জন্ম, তবে গৃহযুদ্ধের কারণে ছোটবেলায় পরিবারসহ শরণার্থী শিবিরে চলে যেতে বাধ্য হন। সেখানেই কাটে তার শৈশবের বড় অংশ। পরিবার অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয় নিলে নতুন জীবন পান তিনি। অ্যাডিলেড ইউনাইটেডের মাধ্যমে পেশাদার ফুটবলে প্রবেশ করে তিনি পরে অস্ট্রেলিয়া জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ উইঙ্গার হয়ে ওঠেন মাবিল। কাউন্টার অ্যাটাকে দ্রুতগতি এবং ডিফেন্ডারদের চাপে ফেলে সুযোগ তৈরি করা এই বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম শক্তি।
ডেংও এসেছেন সুদান থেকেই। কুওল এসেছেন মিসর থেকে। দ্রুতগতি, সাহসী আক্রমণ এবং গোল করার ক্ষমতা তাকে আলাদা করেছে সবার থেকে। সেন্ট্রাল কোস্ট মেরিনার্সের হয়ে খেলেই তিনি পেশাদার ফুটবলে পরিচিতি পান। নিউক্যাসল ইউনাইটেডের এই ফুটবলারকে মানা হচ্ছে সকারুজদের আক্রমণভাগের ভবিষ্যৎ তারকা। ভবিষ্যৎ আক্রমণভাগের অন্যতম বড় আশা হিসেবে বিবেচিত।
শরণার্থী ফুটবলারদের এই যাত্রা শুধু ফুটবলের গল্প নয়, বরং মানবিকতা ও সম্ভাবনার প্রতীক। কঠিন অতীতও ভবিষ্যৎ যে সাফল্যের পথে বাধা হতে পারে না, তিন অজি শরণার্থী ফুটবলার প্রমাণ করেছেন এটাই।
‘ডি’ গ্রুপের ম্যাচে ১৪ জুন বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টায় মুখোমুখি অস্ট্রেলিয়া ও তুরস্ক। ম্যাচটি হবে কানাডার ভ্যাংকুভারে। দুই দলের লড়াইটা হবে ভারসাম্যপূর্ণ ও কৌশলনির্ভর।
সকারুজদের শক্তি রক্ষণ ও কাউন্টার অ্যাটাকে। কোচ টনি পপোভিচের অধীনে দলটি সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে খুব কম গোল হজম করেছে। সেটপিসে তারা বেশ কার্যকর। তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো দলগত সংগঠন ও শারীরিক লড়াইয়ে আধিপত্য।
অন্যদিকে, তুরস্ক অনেক বেশি কৌশলী ও আক্রমণাত্মক। তাদের মূল ভরসা তরুণ তারকা আর্দা গুলার, যিনি মাঝমাঠ থেকে খেলা তৈরি করতে পারেন এবং দূরপাল্লার শটেও বিপজ্জনক। তুরস্কের আক্রমণভাগের গতি যেকোনো ডিফেন্সকে চাপে ফেলতে পারে। তবে তাদের ডিফেন্স মাঝেমধ্যে অগোছালো হয়ে পড়ে, বিশেষ করে দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাকে।
ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হবে মাঝমাঠের লড়াই। অস্ট্রেলিয়া চাইবে ম্যাচকে ধীরগতিতে নিয়ে গিয়ে ফিজিক্যাল ডুয়েলে জিততে আর তুরস্ক চাইবে বল দখলে রেখে আক্রমণ সাজাতে।
সেটপিস থেকেও ফল নির্ধারণ হতে পারে। কারণ, দুই দলই সেখানে সুযোগ তৈরি করতে সক্ষম।




