১০ বছর আগের সেই নায়ককে মিস করবে আর্জেন্টিনা!

সংগৃহীত ছবি
টুর্নামেন্ট যত এগোচ্ছে ততই আনহেল দি মারিয়ার অভাবটা স্পষ্ট হয়ে উঠছে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলে। কেপ ভার্দে ও মিশর ম্যাচে আর্জেন্টিনা দলে তার মতো একজন উইঙ্গারের অনুপস্থিতি চোখে পড়েছে বিশেষভাবে।
সুইজারল্যান্ড ম্যাচের পুরনো নায়ক দি মারিয়া
আর্জেন্টিনা কোয়ার্টার ফাইনালে সুইসদের মুখোমুখি হওয়ার আগে বিশেষভাবে ফিরে আসছে আনহেল দি মারিয়ার ব্রাজিল বিশ্বকাপের স্মৃতি। ২০১৪ বিশ্বকাপে তারা ফাইনালে ওঠার পথে শেষ ষোলোতে সুইজারল্যান্ডের কঠিন লড়াইয়ের মুখে পড়েছিল। নির্ধারিত সময়ে ম্যাচ গোলশূন্য থাকার পর অতিরিক্ত সময়ে দি মারিয়ার গোলেই জেতে আলবিসেলেস্তেরা। ১১৮ মিনিটে মেসির বাড়ানো বল ধরে এই উইঙ্গার লক্ষ্যভেদ করে আর্জেন্টিনাকে পার করে দিয়েছিলেন। ওই ম্যাচের নায়ককে আজ বেশি মিস করবে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
বিশেষজ্ঞারা কী বলছেন
দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবল বিশেষজ্ঞ টিম ভিকারি মনে করছেন এই উইঙ্গার দলে থাকলে আরো ভারসাম্যপূর্ণ হতো, ‘দি মারিয়া না থাকায় কৌশলগত বৈচিত্র্য ও বড় ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দেওয়ার খেলোয়াড় সংখ্যা কমে গেছে চ্যাম্পিয়ন দলে। মাঝমাঠে সৃজনশীলতার দায়িত্ব মেসি একাই বহন করছে, এই উইঙ্গার থাকলে প্রতিপক্ষ আরো চাপে থাকতো।’
২০২৪ সালে কোপা আমেরিকা জয়ের পর দি মারিয়া আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানান। এরপর থেকেই আর্জেন্টিনার আক্রমণের বাম দিকটা একরকম কানা হয়ে যায়। শূন্যস্থান পূরণের জন্য লিওনেল স্কালোনি প্রায় সব ধরনের পরীক্ষাই করেছেন। থিয়াগো আলমাদাকে এই বিশ্বকাপে খেলিয়েছেন বাম পাশে। লো সেলসো, হুলিয়ান আলভারেস ও নিকো গনসালেসকে দিয়েও চেষ্টা করেছেন। সর্বশেষ মিসরের বিপক্ষে ম্যাক অ্যালিস্টারকে খেলিয়ে দেখেছেন। কাউকে দিয়েই কোচ পারেননি দি মারিয়ার শূন্যতা পূরণ করতে।
দি মারিয়ার শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয়
আর্জেন্টিনার জার্সিতে ১৪৫ ম্যাচ খেলে তিনি করেছেন মাত্র ৩১ গোল। কিন্তু এর মধ্যে ২০২১ কোপা আমেরিকার ফাইনালে ব্রাজিলের বিপক্ষে একমাত্র জয়সূচক গোলটি দি মারিয়ার। ২০২২ ফিনালিসিমায় ইতালির বিপক্ষে করেছেন গোল। এরপর কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালেও আছে তার মহামূল্যবান গোল।
২০২৪ সালের ১৪ জুলাই কোপা আমেরিকা জয়ের পর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরে যান দি মারিয়া। আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি তাকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেও সফল হননি। তখন স্কালোনি বলেছিলেন, ‘দি মারিয়ার জায়গা পূরণ করা অসম্ভব। সে এবং মেসি দুজনই অপূরণীয়। তাদের মতো আরেকজনকে খুঁজতে যাবেন না। কারণ তাদের মানের কেউ নেই।’
তার মতো একজন উইঙ্গার নেই এই আর্জেন্টিনা দলে। মেসি বাদে কেউ প্রতিপক্ষকে ভয় ধরানোর মতো ফুটবল খেলতে পারছেন না। আলভারেস কাতার বিশ্বকাপে ভালো খেললেও যুক্তরাষ্ট্রে তার ফর্ম ভালো নয়। লাউতারো মার্তিনেস মিশর ম্যাচে বদলি হয়ে নেমে একটি গোল বানিয়ে দিলেও অধরাবাহিক।
ফরোয়ার্ড লাইনের এই দুরবস্থায় আনহেল দি মারিয়াকে খুব প্রয়োজন ছিল আর্জেন্টিনার। এমন বিগম্যাচ ফুটবলার থাকলে সামনের ম্যাচগুলোতে দলের বড় সহায় হতো।







