হতাশা ও গৌরবের রেকর্ড
আড়াই হাজার পাস দিয়েও গোলহীন স্পেন!

সংগৃহীত ছবি
ফুটবল মাঠে কেবল বলের দখল আর পাসের মহড়া যে ম্যাচ জেতাতে পারে না, তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ হয়ে থাকল আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়াম। ২০২৬ বিশ্বকাপের নিজেদের প্রথম ম্যাচে নবাগত কেপ ভার্দের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল বর্তমান ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেন। ম্যাচের প্রায় পুরোটা সময় বল পায়ে দাপট দেখিয়ে, একের পর এক পাস খেলে জালের ঠিকানা খুঁজেছে লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা। কিন্তু লাভ হয়নি কিছুই। তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে স্পেনের আক্রমণভাগ, আর একের পর এক অবিশ্বাস্য রেকর্ড গড়ে স্পেনকে গোলশূন্য ড্রয়ে রুখে দিয়েছে আফ্রিকার ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দে।
পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে চোখ চড়কগাছ হতে বাধ্য। স্প্যানিশ ফুটবলের চিরচেনা ‘টিকিটাকা’ স্টাইল বজায় রেখে একের পর এক নিখুঁত পাস উপহার দিয়েছে মিডফিল্ডাররা। তবে কাজের কাজ অর্থাৎ গোলটাই আসেনি।
অপ্টা'র তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে জাপানের বিপক্ষে ম্যাচের ১১তম মিনিটে আলভারো মোরাতার সেই হেডের পর থেকে বিশ্বকাপে আর কোনো গোলের দেখা পায়নি স্পেন। এরপর গত বিশ্বকাপের মরক্কো ম্যাচ এবং চলতি বিশ্বকাপের কেপ ভার্দে ম্যাচ মিলিয়ে বিশ্বমঞ্চে স্প্যানিশরা মোট ৪৯টি শট নিয়েছে এবং ঠিক ২ হাজার ৫০০ পাস দিয়েছে! কিন্তু অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, এই আড়াই হাজার পাস থেকে একবারও প্রতিপক্ষের জাল স্পর্শ করতে পারেনি। বলের এই নিষ্ফলা দখলই এখন স্পেনের প্রধান মাথাব্যথার কারণ।
গোলহীন এই ড্র ম্যাচে ফুটবলবিশ্ব দেখেছে একগুচ্ছ ঐতিহাসিক ও অদ্ভুত সব রেকর্ড, যা বিশ্বকাপের গত ৬০ বছরের ইতিহাসে আর কখনো দেখা যায়নি।
• ও ইয়ারজাবালের লজ্জার ৩০ মিনিট: ম্যাচের প্রথম ৩০ মিনিটে স্পেনের মূল স্ট্রাইকার মিকেল ও ইয়ারজাবাল মাঠে ছিলেন ঠিকই, কিন্তু বলের কোনো স্পর্শই পাননি! ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপের ইতিহাসে কোনো শুরুর একাদশের স্ট্রাইকারের ম্যাচের প্রথম আধা ঘণ্টা সম্পূর্ণ বলহীন থাকার এমন নজির আর একটিও নেই।
• মাত্র ১টি ফাউলের অবিশ্বাস্য শৃঙ্খলা: বর্তমান ইউরো চ্যাম্পিয়নদের রুখতে সাধারণত ছোট দলগুলো ফাউলের আশ্রয় নেয়। কিন্তু কেপ ভার্দে দেখিয়েছে নিখুঁত শৃঙ্খলার প্রদর্শনী। পুরো ৯০ মিনিটে তারা মাত্র ১টি ফাউল করেছে! ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপের অন-রেকর্ড ইতিহাসে এটিই যেকোনো দলের পক্ষে এক ম্যাচে সবচেয়ে কম ফাউল করার রেকর্ড।
• ৪০ বছর বয়সীর প্রাচীর: কেপ ভার্দের এই রূপকথার মহানায়ক তাদের ৪০ বছর ১২ দিন বয়সী গোলরক্ষক ও অধিনায়ক ভোজিনহা। স্পেনের নেওয়া ২৭টি শটের মধ্যে ৭টি ছিল অন-টার্গেট, যার প্রতিটিই রুখে দিয়েছেন তিনি। বিশ্বকাপে নিজের অভিষেকে ক্লিনশিট রাখা তৃতীয় বয়োজ্যেষ্ঠ গোলরক্ষক এখন তিনি।
ফিফা র্যাংকিংয়ে স্পেনের অবস্থান ২ নম্বরে, আর কেপ ভার্দে রয়েছে ৬৭তম স্থানে। দুই দলের মধ্যকার ৬৫ ধাপের এই ব্যবধান বিশ্বকাপের ইতিহাসে কোনো ম্যাচ ড্র হওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় র্যাংকিং ব্যবধানের রেকর্ড।
মাঠে পরে লামিন ইয়ামাল এসে ৫টি সফল ড্রিবলিং করে স্পেনের আক্রমণে কিছুটা গতি আনলেও কেপ ভার্দের জমাটরক্ষণ ভাঙা সম্ভব হয়নি। আড়াই হাজার পাসের গোলকধাঁধায় আটকে গিয়ে পয়েন্ট হারিয়েই বিশ্বকাপ মিশন শুরু করতে হলো টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেবারিটদের।




