বিশ্বকাপ
এমন ফাউলের পরও কেন লাল কার্ড দেখাননি রেফারি

সংগৃহীত ছবি
চলমান বিশ্বকাপের শুরু থেকেই রেফারিং ও লাল কার্ড নিয়ে বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছে না। মেক্সিকোর উদ্বোধনী ম্যাচে তিন লাল কার্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার কানাডা বনাম বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা ম্যাচে এক বিতর্কিত ফাউল নিয়ে ফুটবল বিশ্বে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। বসনিয়ার গোলরক্ষক নিকোলা ভাসিল ও কানাডার স্ট্রাইকার তানি ওলুয়াসেয়ির মধ্যকার এক মারাত্মক সংঘর্ষের ঘটনায় রেফারি লাল কার্ড না দেওয়ায় রীতিমতো ধন্দে পড়েছেন ফুটবল পণ্ডিতেরা।
বিবিসি স্পোর্টসের স্টুডিওতে ম্যাচ বিশ্লেষণ করতে গিয়ে এই ঘটনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন দুই মেরুতে অবস্থান নিয়েছেন ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি স্ট্রাইকার ওয়েইন রুনি এবং ফ্রান্সের সাবেক বিশ্বকাপজয়ী ফরোয়ার্ড অলিভিয়ে জিরু।
ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে একটি আক্রমণ থামাতে গিয়ে ডি-বক্সের ভেতর কানাডার স্ট্রাইকার ওলুয়াসেয়ির মাথায় আঘাত করেন বসনিয়ার গোলরক্ষক ভাসিল। রেফারি বিষয়টিকে সাধারণ ফাউল হিসেবে দেখলেও ওয়েইন রুনির মতে, এটি নিশ্চিতভাবেই লাল কার্ড পাওয়ার মতো অপরাধ ছিল।
সাবেক ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড তারকা রুনি বলেন, 'এটি পরিষ্কার লাল কার্ড। আমরা আগেও এমন দেখেছি। এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক একটি ফাউল ছিল। আমি মানছি গোলরক্ষক প্রথমে বলের নিয়ন্ত্রণ পেয়েছিলেন, কিন্তু এরপর তাঁর হাতের ফলো-থ্রু (আঘাতের গতি) সরাসরি আঘাত করে ওলুয়াসেয়ির রগে (টেম্পল)। মাথায় আঘাতের জন্য এটি সবচেয়ে বিপজ্জনক জায়গা।'
রুনি আরও যোগ করেন, 'ওলুয়াসেয়ি মাঠেই জ্ঞান হারাতে পারত। এমনকি এক সপ্তাহ পর তার মাথায় অভ্যন্তরীণ চোটের লক্ষণও দেখা দিতে পারত। পা দিয়ে ফাউল করে বল পেলেও যেমন লাল কার্ড দেওয়া হয়, হাতের ক্ষেত্রেও নিয়ম একই হওয়া উচিত। পা সরানোর চেয়ে হাত গুটিয়ে নেওয়া আরও সহজ।'
স্টুডিওতে থাকা সাবেক ইংলিশ রেফারি ড্যারেন ক্যান গোলরক্ষকের পক্ষে সাফাই গাইলেও তার সাথে দ্বিমত পোষণ করেন রুনি। তবে ফরাসি তারকা অলিভিয়ে জিরু বিষয়টিকে দেখছেন একটু ভিন্নভাবে। স্ট্রাইকার ও গোলরক্ষক—দুজনের অবস্থানই বোঝার চেষ্টা করেছেন তিনি।
জিরু বলেন, 'একজন স্ট্রাইকার হিসেবে মাঠে আমার সাথে এমন হলে পেনাল্টি না পেয়ে আমি নিশ্চিতভাবেই হতাশ হতাম। কিন্তু অন্যদিক থেকে দেখলে ড্যারেন ক্যানের কথাও ফেলে দেওয়া যায় না। গোলরক্ষক আগে বল স্পর্শ করেছিলেন। বল পাঞ্চ করার পর ওই মুহূর্তে স্ট্রাইকারের মাথা থেকে হাত সরিয়ে নেওয়া তার (গোলরক্ষক) জন্য আসলেই কঠিন ছিল।'
চলতি বিশ্বকাপে রেফারিদের কড়াকড়ি নিয়ে এমনিতেই আলোচনা তুঙ্গে। গোলরক্ষক বল আগে পেলেও যেভাবে কানাডিয়ান স্ট্রাইকারের মাথায় আঘাত করেছেন, তা ফুটবলারদের নিরাপত্তার জন্য কতটা হুমকিস্বরূপ—তা নিয়ে এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে তর্ক-বিতর্ক।




