৮ বছর পর আফগান নারীদের ফুটবলে ফেরা

আন্তর্জাতিক ফুটবলে ফিরছেন আফগান নারীরা। ছবি: সংগৃহীত
অপেক্ষাটা ছিল দীর্ঘ। আদৌ কখনো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ফিরতে পারবেন কি না আফগান নারী ফুটবলাররা, সে নিয়েই ছিল শঙ্কা। অবশেষে মুক্তি মিলল অদম্য এই নারীদের। আট বছর পর আফগান নারী জাতীয় ফুটবল দলকে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অনুমতি দিল ফিফা।
সবশেষ যখন আফগান নারী ফুটবল দল আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে, সালটা ছিল ২০১৮। এর তিন বছর পর দেশটির ক্ষমতা দখলে নেয় তালেবানরা। সব ধরনের খেলাধুলা থেকে নিষিদ্ধ হন নারীরা। বহু খেলোয়াড় দেশ ছেড়ে পালিয়ে আশ্রয় নেন বিদেশে।
ফিফার নিয়ম বলছে, কোনো দেশের ফুটবল ফেডারেশনের স্বীকৃতি ছাড়া সেই দেশের জাতীয় দলকে স্বীকৃতি দেওয়ার সুযোগ নেই। এতেই ফুটবল মাঠে অনুপস্থিত ছিলেন আফগান মেয়েরা।
তবে গত মঙ্গলবার ভ্যানকুভারে আনা হয়েছে বড় এক পরিবর্তন। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ‘ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে’ এবং ফুটবলারদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে কোনো কারণ থাকলে ফিফা নিজেই কোনো জাতীয় বা প্রতিনিধিদলকে নিবন্ধনের অনুমতি দিতে পারবে। আফগান নারী ফুটবলাররা তাই আন্তর্জাতিক ম্যাচে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারবেন।
রয়টার্সকে সাবেক আফগান অধিনায়ক খালিদা পোপাল জানান, ‘আমাদের দল সবসময় অধিকার আদায়ের লড়াইয়ের জন্য পরিচিত। ফিফার এই সমর্থনের ফলে এখন আমরা আমাদের দক্ষতা দেখানোর এবং প্রবাসে থাকা তরুণ প্রতিভাদের বিকাশের সুযোগ পাব।‘
পোপাল আরও বলেছেন, ‘জানি, কাজটা কঠিন হবে। আফগানিস্তানের ভেতরে থাকা নারীদের জন্য এর অংশ হওয়া দুঃসাধ্য। কিন্তু আমরা যদি তাদের কণ্ঠস্বর হয়ে আশার বাণী পৌঁছে দিতে পারি, বোঝাতে পারি যে, আমরা তাদের ভুলে যাইনি, তবে আমাদের এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের সার্থকতা আসবে।’
রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকা ফুটবলারদের নিয়ে ২০২৫ সালের মে মাসে ‘আফগান উইমেন ইউনাইটেড’ নামে একটি শরণার্থী দল গঠন করে ফিফা। মূলত সেই উদ্যোগেরই সফল পরিণতি ফিফার এই নতুন সিদ্ধান্ত।
আফগান নারী দল অবশ্য ২০২৭ বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারবে না। ২০২৮ অলিম্পিককে সামনে রেখেই নতুন করে যাত্রা শুরু হবে দলটির। আগামী জুনে আনুষ্ঠানিকভাবে মাঠে ফিরতে পারে আফগান নারী ফুটবল দল।
ফিফা জিয়ান্নি ইনফান্তিনো জানান, ‘আফগান উইমেন ইউনাইটেডের এই সুন্দর পথচলায় আমরা গর্বিত। এই উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা এই দলকে পরবর্তী ধাপে এগিয়ে নিতে চাই।’
এই মুহূর্তে অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যে আফগানিস্তানের প্রায় ৮০ জন নারী ফুটবলার রয়েছেন। তাদের নিয়েই মূলত লড়াইটা শুরু করবে আফগানিস্তান দল।



