শেষ হলো নেইমার অধ্যায়

নেইমার
‘আমায় ডেকো না, ফেরানো যাবে না’— লাকী আখান্দের বিখ্যাত গানটা নেইমারের শোনার কথা নয়। অথচ এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের অবস্থা এখন বাংলা সংগীতের কালজয়ী গানটির মতোই। কোনো ডাকেই তিনি সাড়া দিচ্ছেন না। ব্রাজিল জাতীয় দলে আর ফিরবেন না নেইমার। বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পরই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক অধ্যায় শেষের। এবার নিশ্চিত করেই বললেন আগের কথাটা— বিশ্বকাপেই তিনি শেষ ম্যাচ খেলে ফেলেছেন ঐতিহ্যবাহী হলুদ জার্সিতে।
অনেক নাটকীয়তা শেষে ২০২৬ বিশ্বকাপের স্কোয়াডে জায়গা হয় নেইমারের। যদিও চোটের কারণে গ্রুপ পর্বের প্রথম দুই ম্যাচ খেলতে পারেননি। স্কটল্যান্ড ম্যাচ দিয়ে ৯৮১ দিন পর মাঠে নামেন ব্রাজিলের জার্সিতে। এরপর নরওয়ের বিপক্ষে শেষ ষোলোতে আবার সুযোগ। ব্রাজিলের ২-১ গোলে হারের ওই ম্যাচটিই হয়ে রইল তার জাতীয় দলে শেষ উপস্থিতি।
আরেকটি বিশ্বকাপ, আরেকবার কান্নাভেজা চোখে মাঠ ছাড়েন নেইমার। তখনো কেউ আন্দাজ করতে পারেননি দেশের হয়ে শেষের চিহ্ন মনে মনে এঁকে নিয়েছেন তিনি। ম্যাচ শেষে জানিয়ে দেন, যে মেটলাইফ স্টেডিয়ামে শুরু করেছিলেন হলুদ জার্সির পথচলা, সেখানেই থামিয়ে দিলেন জার্নি।
হতাশায় বিশ্বকাপ শেষ হয়েছে, হৃদয় ভাঙার যন্ত্রণায় তাৎক্ষণিক কোনো সিদ্ধান্ত হতে পারে— কোটি নেইমারভক্ত হয়তো সেটিই ভেবে রেখেছিলেন। শুধু তারা নন, তার একসময়কার ক্লাব ও জাতীয় দল সতীর্থ লুকাস মউরাও এক সাক্ষাৎকারে আশা করেছিলেন, ২০৩০ বিশ্বকাপেও হয়তো দেখা যাবে নেইমারকে।
গতকাল সান্তোসের ম্যাচ শেষে মউরার ওই বক্তব্যই তুলে ধরা হয়েছিল নেইমারের সামনে। ৩৪ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড তখন সান্তোসের জয়ের আনন্দে মেতে। স্বভাবসুলভ হাসিতে যে কথাটি বললেন, সেটি হতাশায় ডুবিয়ে দেয় তার কোটি ভক্তকে, ‘মউরাকে ধন্যবাদ। কিন্তু এটা হবে না। জাতীয় দলে আমার সময় শেষ। ইতিহাস গড়েছি, সবকিছু উজাড় করে দিয়েছি। হলুদ জার্সিতে সবসময় লড়াই করেছি। এখন আর ফিরতে চাই না।’
নেইমার নিজেও হয়তো বুঝে গেছেন, শরীর আর সায় দিচ্ছে না তার। জাতীয় দলের ১৬ বছরের ক্যারিয়ারে চোটের সঙ্গে তাকে লড়াই করতে হয়েছে সবচেয়ে বেশি। তবু ব্রাজিলের সর্বোচ্চ গোলদাতা তিনিই। ১৩০ ম্যাচে রেকর্ড ৮০ গোল। যার সবশেষটি নরওয়ের বিপক্ষে বিদায়ী ম্যাচে। প্রাপ্তির খাতায় থাকল শুধু ২০১৩ সালের কনফেডারেশনস কাপের শিরোপা। অথচ তাকে ঘিরেই ব্রাজিলিয়ানরা বারবার দেখেছেন হেক্সার স্বপ্ন। নেইমার পারেননি। চোট সমস্যার সঙ্গে দলীয় সমন্বয়ের ঘাটতিও বছরের পর বছর যন্ত্রণায় পুড়িয়েছে তাকে।
সেই যন্ত্রণা সহ্য করার মতো শক্তিও হয়তো হারিয়ে ফেলেছেন নেইমার। দিনে দিনে সময় তো কম গড়ায়নি। এবার সেই সময় পুরোপুরি থামিয়ে দিলেন ব্রাজিল ফুটবলের সেরাদের একজন হয়ে।




