৯ গোলের মহাকাব্যে বায়ার্নকে হারালো পিএসজি

বায়ার্নকে ৫-৪ গোলে হারিয়েছে পিএসজি। ছবি: সংগৃহীত
প্যারিসের পার্ক দে প্রিন্সেসে ম্যাচ শুরুর আগে পিএসজি সমর্থকরা নিয়ে এসেছিলেন বড় এক ব্যানার। সেখনে দেখানো হয়েছিল জার্মান বাহিনীকে পদদলিত করছে ফরাসি সেনাবাহিনী। মাঠের লড়াইয়ে অবশ্য সমান তালেই লড়ল দুই দল। তাতেই রচিত হলো ফুটবল মহাকাব্য।
ফল
পিএসজি ৫ : ৪ বায়ার্ন মিউনিখ
৯ গোলের রোমাঞ্চে চ্যাম্পিয়নস লিগ সেমিফাইনালের প্রথম লেগে বায়ার্ন মিউনিখকে শেষ পর্যন্ত ৫-৪ ব্যবধানে হারিয়েছে পিএসজি। তবে ম্যাচ শেষে পার্ক দে প্রিন্সেসের দর্শকরা দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানিয়েছেন দুই দলের খেলোয়াড়দেরই। কারণ পরিসংখ্যানে হয়তো দেখাবে পিএসজির জয়, তবে জিতেছে আসলে ফুটবলই।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালের এক লেগে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড হয়েছে এই ম্যাচে। ইউরোপিয়ান কাপ যুগ হিসাবে নিলে এটা যৌথভাবে সর্বোচ্চ। ১৯৫৯-৬০ মৌসুমে রেঞ্জার্স ও আইনট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্টের সেমিফাইনালের ফিরতি লেগেও হয়েছিল ৯ গোল।
২০২১ সালের এপ্রিলের পর এটা বায়ার্নের বিপক্ষে প্রথম জয় পিএসজির। জার্মান ক্লাবটির বিপক্ষে টানা পাঁচ ম্যাচ জিততে পারেনি তারা।
৯ গোলের ‘পাগলামির’ লড়াইয়ে পিএসজির বলের দখল ছিল ৪২.৬ শতাংশ আর বায়ার্নের ৫৭.৪ শতাংশ। তবে বল দখলের লড়াইয়ের বদলে চেয়ে বিপক্ষকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার মন্ত্রেই খেলেছে দুই দল। ম্যাচের আগে পিএসজি কোচ লুই এনরিকে বলেছিলেন, ‘আমাদের চেয়ে ভালো দল নেই।’ তার শিষ্যরা প্রমাণ করে গেছেন এনরিকের কথাটাই।
পিএসজির হয়ে জোড়া গোল করেন খিচা কাভারাস্কেইয়া ও উসমানে দেম্বেলে। অপর গোলটি হোয়াও নেভেসের। বায়ার্নের হয়ে একটি করে গোল হ্যারি কেইন, মাইকেল অলিসে, দায়োত উপামেকানো আর লুইস দিয়াসের।
ম্যাচে একটিও সেভ করতে পারেননি বায়ার্ন গোলরক্ষক মানুয়েল নয়ার। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সবশেষ ১৬ মৌসুমে প্রথম গোলরক্ষক হিসেবে নকআউট পর্বের কোনো ম্যাচে সেভ না করে পাঁচ বা বেশি গোল হজম করলেন তিনি।
১৭তম মিনিটে হ্যারি কেইনের পেনাল্টিতে এগিয়ে যায় বায়ার্ন। লুইস দিয়াসকে বক্সে উইলিয়ান পাচো ফাউল করলে পেনাল্টি পেয়েছিল তারা। এবারের চ্যাম্পিয়নস লিগে এটা কেইনের ১৩তম গোল, যা এমবাপ্পের সঙ্গে যৌথ সর্বোচ্চ।
২৪ মিনিটে সমতায় ফেরে পিএসজি। দেজিরে দুয়ের পাস ধরে বাঁ দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে বাঁকানো শটে বল জালে জড়ান খিচা কাভারাস্কেইয়া।
৩৩ মিনিটে কর্নার থেকে আসা বলে দারুণ হেডে পিএসজিকে এগিয়ে নেন জোয়াও নেভেস। ৪১ মিনিটেই মাইকেল অলিসে বায়ার্নকে সমতায় ফেরান। আলেকসান্দার পাভলোভিচের পাস বক্সের বাইরে পেয়ে প্রতিপক্ষের দুই খেলোয়াড়ের মাঝ দিয়ে ভেতরে ঢুকে বুলেট শটে গোল করেন তিনি। বিরতির আগে ইনজুরি টাইমে পেনাল্টি থেকে গোল করে ব্যবধান ৩-২ করেন উসমান দেম্বেলে। আলফনসো ডেভিসের হ্যান্ডবলে পেনাল্টি পেয়েছিল তারা।
একটা সময় পিএসজি এগিয়ে যায় ৫-২ গোলে। ৫৬ মিনিটে আশরাফ হাকিমের কাটব্যাকে কাভারাস্কেইয়া করেন দলের চতুর্থ গোলটি। ৫৮ মিনিটে আরেক গোল দেম্বেলে। দুয়ের পাসে বক্সে পেয়ে বায়ার্ন ডিফেন্ডার উপামেকানোর দুই পায়ের মাঝ দিয়ে বল জালে জড়ান তিনি।
বায়ার্ন তখন ছিল ক্লান্ত, বিধ্বস্ত। তবে সেখান থেকেই দারুণভাবে ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ায় তারা। ৬৫ মিনিটে জসুয়া কিমিখের ফ্রি-কিকে দায়ো উপামেকানোর হেডে ম্যাচে ফিরে বায়ার্ন। ৬৮ মিনিটে হ্যারি কেইনের পাসে ব্যবধান ৫-৪ করেন থেকে লুইস দিয়াস।
এই এক গোলের ব্যবধান মেটাতে বুধবার ফিরতি লেগে পিএসজির মুখোমুখি হবে বায়ার্ন। আলিয়াঞ্জ অ্যারেনাতেও দর্শকরা থাকবেন এমন পাগলামির অপেক্ষায়।






