স্বপ্নিল শুরুর পর দুঃস্বপ্নের সমাপ্তি

একটুর জন্য অডি গাড়ি পেলেন না লিটন কুমার দাস। অবাক হচ্ছেন? অডির লোগোটা মনে করার চেষ্টা করুন, পরস্পর সংযুক্ত চারটা চক্র। অস্ট্রেলিয়া সফরে লিটনের ‘ত্রিচক্র’ হয়েছে, একটি ইনিংসে তাকে ব্যাটিং করতে হয়নি, তাই হয়তো যোগ করতে পারেননি আরেকটা শূন্য। চোট, সেরে ওঠা, দল ঘোষণার পর নির্বাচকদের তাকে দলে নেওয়া আর জাকের আলি অনিককে ফেরত পাঠানো; বিপুল আয়োজনের প্রতিদান ‘ট্রিপল জিরো’র মাধ্যমেই দিয়েছেন লিটন। তবে নিজে ব্যাটিংয়ে রান না পেলেও ডারউইনে টেস্ট জয়ের অংশীদার তো ছিলেন। ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়া খেলতে গিয়ে প্রথম ম্যাচেই পাওয়া ঐতিহাসিক জয়ের ছবির অংশ হতে পারাটাও তো কম নয়।
ডারউইন থেকে ম্যাকাই, ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়া সফরে যাওয়া বাংলাদেশ দলের পারফরম্যান্সও দেশটির দুই প্রান্তের দুই ভেন্যুর মতোই বিপ্রতীপ। ডারউইনে ছিল নরম ড্রপ ইন উইকেট। ম্যাকাইতে ঠিক উল্টো, মাঠের নাম যে জায়গাটার নামে, সেই গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ ভ্রমণে লোকে যায়-ই জলে নেমে জীবন্ত প্রবাল দেখতে। আবহাওয়ায় খানিকটা শীতলতা, গতিশীল বাতাস আর শক্ত উইকেটে ধেয়ে আসা বাউন্সের ভয়। দুই ভেন্যুর মতোই ১৮০ ডিগ্রি বদলাল দুই দলের পারফরম্যান্স। ডারউইনে প্রথম ইনিংসে ১৩৮ ওভার ব্যাটিং করা বাংলাদেশ ম্যাকাইতে দুই ইনিংস মিলিয়ে টিকল ৭২.৩ ওভার। দুই ইনিংস মিলিয়ে রান করল ১৫৯, যা ডারউইনের তিন ভাগের এক ভাগের সমান প্রায়।
১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গেল অস্ট্রেলিয়াও, বিশেষত তাদের বোলিং। ডারউইনে জশ হ্যাজেলউড বাদে প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক আর নাথান লায়নকে মনে হলো দুধভাত। ম্যাকাইতে মনে হলো, না ঠিকই আছে তাদের ধার। তবে ব্যাটিং দুই টেস্টেই অস্ট্রেলিয়ার দুশ্চিন্তার অন্য নাম। সামনে দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড, ইংল্যান্ড ও ভারতের বিপক্ষে খেলা অস্ট্রেলিয়ার। ব্যাটিংয়ের হাল এমন হলে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালকে গুডবাই বলতে হবে।
২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়া সফরে গিয়ে ডারউইনে ১৫টি সেশন দাপট দেখিয়ে খেলে ৯ উইকেটের অবিশ্বাস্য জয়ে যে রূপকথা লিখেছিল বাংলাদেশ, ম্যাকাইতে দুই দিনের ভেতর হার তাদের ফিরিয়ে এনেছে বাস্তবে। পরীর জাদুর কাঠির ছোঁয়ায় সিন্ডারেলা যেভাবে কুঁড়েঘরের সাধারণ মেয়ে থেকে হয়ে উঠেছিল রাজকন্যা, ডারউইন টেস্ট সে রকমই এক জাদুর কাঠি ছিল বাংলাদেশের জন্য। চারদিকে প্রশংসার বন্যা। অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তিরা রীতিমতো ভাসিয়ে দিচ্ছেন হাসান মাহমুদকে, গ্লেন ম্যাকগ্রার সঙ্গেও তুলনা চলল কিছুদিন। এরপর ম্যাকাই টেস্ট বাংলাদেশকে ফের বানিয়ে দিল নুন আনতে পান্তা ফুরানো দলে, যাদের ব্যাটিং ভালো হলে বোলিং ভালো হয় না আর বোলিং ভালো হলে খারাপ হয় ব্যাটিং। ডারউইনের লজ্জা ঢাকতে প্রবল বিক্রমে ফিরে আসবে অস্ট্রেলিয়া, দ্বিগুণ শক্তিতে। সেটি আঁচ করতে জ্যোতিষী হতে হয় না। সুনামির মতোই ভাসিয়ে নিয়ে গেল অস্ট্রেলিয়া। টেস্টের দুই ইনিংসেই ১০০ রানের নিচে অলআউট, এতটা খারাপ ব্যাটিং টেস্ট মর্যাদাপ্রাপ্তির উষাকালেও দেখা যায়নি। ডারউইন যদি স্বপ্ন হয়, তাহলে ম্যাকাই নিঃসন্দেহে দুঃস্বপ্ন






