দাবি মাঞ্জরেকারের
সূর্যবংশীদের অগ্রযাত্রায় বাদ সাধছে আইপিএলের বিতর্কিত আইন

ভারতীয় ক্রিকেটের নতুন সেনসেশন বৈভব সূর্যবংশী।
চলতি আইপিএলে রাজস্থান রয়্যালসের ১৫ বছর বয়সী বিস্ময়বালক বৈভব সূর্যবংশীর পারফরম্যান্স ক্রিকেটবিশ্বে হইচই ফেলে দিয়েছে। ১৪ ম্যাচে ৫৮৩ রান করে রাজস্থানকে প্লে-অফে তুলতে বড় ভূমিকা রেখেছে এই কিশোর ব্যাটার। এই সাফল্যের আড়ালে আইপিএলের বহুল বিতর্কিত ‘ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার’ নিয়ম নিয়ে নতুন করে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন সঞ্জয় মাঞ্জরেকার। তার মতে, এই আইন ক্রিকেটারদের বিকাশে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
স্পোর্টস্টারের ‘ইনসাইড এজ’ পডকাস্টে কথা বলার সময় ভারতের সাবেক ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার মাঞ্জরেকার বলেন, ‘আমি এই বিষয়টি নিয়ে যত বেশি ভাবছি, তত বেশি মনে হচ্ছে যে তরুণদের ভবিষ্যতের স্বার্থেই ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার নিয়মটি বাতিল করা উচিত। বৈভব সূর্যবংশীকে নিয়ে কি আমরা আসলেই এমনটা চেয়েছিলাম? আমরা কি কেবল তার খেলার একটা দিকই (শুধু ব্যাটিং) দেখে যাব?’ মাঞ্জরেকার যুক্তি দেন যে, ক্রিকেট এমন একটি খেলা যেখানে খেলোয়াড়দের একাধিক বিভাগে পরীক্ষা নেওয়া উচিত। কিন্তু বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী একজন স্পেশালিস্ট ব্যাটার বা বোলার মাঠের সামান্য কিছু সময় অবদান রেখেই বাকি ম্যাচের জন্য ড্রেসিংরুমে বসে থাকার সুযোগ পাচ্ছেন।
মাঞ্জরেকার বলেন, ‘গত ম্যাচে রোহিত শর্মাকে দেখে আমার এই কথাটি মনে হলো। সে ১৫ বলে ২২ রান করল। ম্যাচে তার পুরো অবদান কেবল ওই ১৫টি ডেলিভারি! অথচ এর জন্যও সে পুরো ম্যাচের পারিশ্রমিক বা সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে। যখন খুব সামান্য পরিশ্রমে সহজে টাকা আয়ের সুযোগ তৈরি হয়, তখন সেই মডেল নিয়ে প্রশ্ন তোলা জরুরি। এটি কখনও দীর্ঘমেয়াদে সাফল্যের সূত্র হতে পারে না।’ খেলোয়াড়দের শুধু ব্যাটিং বা বোলিং দিয়ে বিচার করার সংস্কৃতির বিরোধিতা করে সাবেক এই ভারতীয় ব্যাটার অতীতের উদাহরণ টেনে বলেন, ‘আগে আমরা ইনজামাম-উল-হকের মতো ক্রিকেটারদের শুধু তার ব্যাটিংয়ের জন্যই পছন্দ করতাম না, বরং ফিল্ডিং লাইনেও তার উপস্থিতি আমরা দেখতাম। সেটি একজন খেলোয়াড়কে পুরোপুরি বুঝতে ও মূল্যায়ন করতে সাহায্য করত।’
খেলার চিরায়ত রূপ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়ে মাঞ্জরেকার বলেন, ‘আমি চাই খেলাটি যেন খেলোয়াড়দের আরও কঠিন পরীক্ষা নেয়। কেউ ভালো বোলার হলে আমি শুধু তার ৪ ওভার বোলিংই দেখতে চাই না, সে কেমন ফিল্ডিং করছে সেটাও দেখতে চাই। ক্রিকেটের উচিত একজন খেলোয়াড়ের প্রতিটি দিক পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করা, বিচ্ছিন্নভাবে কেবল একটি দক্ষতাকে নয়।’








