ডিপিএল
নতুন সুবিধার ভিড়ে থেকে গেছে পুরনো সমস্যাও

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের অ্যাডহক কমিটির প্রধান তামিম ইকবাল। ছবি: আগামীর সময়
৪ মে শুরু হচ্ছে ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগের (ডিপিএল) ২০২৫-২৬ মৌসুম। আজ শনিবার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের একাডেমি মাঠে হয়ে গেল প্রতিযোগিতার ট্রফি উন্মোচন, যেখানে উপস্থিত ছিলেন অংশগ্রহণকারী ১২ দলের প্রতিনিধিরা। তার আগে পৃষ্ঠপোষক সংস্থা ওয়ালটনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের অ্যাডহক কমিটির প্রধান তামিম ইকবাল। আসছে মৌসুমে অনেক সুযোগ-সুবিধা বাড়ছে ঢাকা লিগে। বিসিবির অনুদানের পরিমাণ বেড়েছে, যুক্ত হয়েছে আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স সুবিধা, থাকবে দুর্নীতি দমননীতি, খেলোয়াড়দের মধ্যাহ্নভোজে মানসম্মত খাবার সরবরাহ করবে বিসিবি, বেড়েছে মাঠের সংখ্যাও। তবে লম্বা সময় ধরে ঢাকা লিগের বড় সমস্যা হলো, মৌসুম গড়িয়ে বছর পার হয়ে গেলেও খেলোয়াড়রা ক্লাবের প্রতিশ্রুত টাকা পান না। এ সমস্যার কোনো সমাধান দিতে পারেননি তামিম।
প্রথম রাউন্ডেই মুখোমুখি হচ্ছে, বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আবাহনী লিমিটেড ও এ মৌসুমের অন্যতম ব্যয়বহুল দল ঢাকা লেপার্ডস। মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের প্রতিপক্ষ সিটি ক্লাব। দুই ব্যাংক দল, অগ্রণী ব্যাংক ও প্রাইম ব্যাংক মুখোমুখি প্রথম রাউন্ডে। অন্যদিকে, রূপগঞ্জের দুই ক্লাব লিজেন্ডস এবং টাইগার্সও প্রথম রাউন্ডে মুখোমুখি হচ্ছে। এবার ঢাকা লিগ হবে ৬ ভেন্যুতে। বিকেএসপির দুই মাঠের সঙ্গে পুবেরগাঁও ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটি কমপ্লেক্স মাঠ, ইউল্যাব মাঠ ও ক্রিকেটার্স একাডেমি মাঠ।
সংবাদ সম্মেলনে তামিম জানিয়েছেন, গত বছর প্রাইম ব্যাংকের হয়ে বিকেএসপিতে ঢাকা লিগের ম্যাচ খেলার সময় হার্ট অ্যাটাকের শিকার হওয়ার পর অলৌকিকভাবে বেঁচে ফেরার অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি মাঠে আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স রাখার উদ্যোগ নিয়েছেন। ভেন্যু মোট ছয়টি হলেও বিকেএসপির দুই ভেন্যু মিলিয়ে একটি, ক্রিকেটার্স একাডেমি ও বসুন্ধরা ক্রিকেট মাঠ মিলিয়ে একটি; এভাবে চারটি অ্যাম্বুলেন্স হলেই হয়ে যাবে। একই সঙ্গে তামিম জানিয়েছেন, লিগে খেলা ক্রিকেটারদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত মধ্যাহ্নভোজের ব্যবস্থাও থাকছে।
এ মৌসুমে বিসিবি প্রিমিয়ার লিগে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি ক্লাবকে দিচ্ছে ২৫ লাখ টাকা। সেই সঙ্গে থাকছে আনুষঙ্গিক অনেক সুবিধা। কিন্তু ক্লাবগুলো যেন খেলোয়াড়দের পাওনা পরিশোধ নিশ্চিত করে, সে ব্যাপারে বিসিবির কোনো উদ্যোগ নেই, যদিও তামিমের মালিকানাধীন দল গুলশান ক্রিকেট ক্লাবও খেলছে প্রিমিয়ার লিগে। এই প্রসঙ্গে তামিমের ব্যাখ্যা, ‘ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের পাওনা পরিশোধের ব্যাপারে ক্রিকেট বোর্ড দায়ভার নেয় না, কারণ এটা ক্লাবের সঙ্গে ক্রিকেটারদের সরাসরি চুক্তি হয়। আমি আশা করব, আমাদের বোর্ড থেকে প্রতিটা ক্লাবকে এই অনুরোধ করব, এমনিতেই যে ধরনের পারিশ্রমিক ক্রিকেটাররা পাচ্ছিল তার থেকে এবার অনেক কমে এসেছে যতটুকু আমি জানি। আমি তাদের (ক্লাব কর্তৃপক্ষ) অনুরোধ করব, তাদের সঙ্গে যার যার যা চুক্তি হয়েছে তারা যেন সেই চুক্তিগুলোকে সম্মান করেন। ভবিষ্যতে এ ব্যাপারটাকে কীভাবে একটা পদ্ধতিগত কাঠামোর ভেতরে নিয়ে আসা যায় সে ব্যাপারে আলোচনা চলছে। যে প্রতিশ্রুতিগুলো দেয়া হচ্ছে, তা যেন দুই তরফ থেকেই পালন করা হয়।’
আন্তর্জাতিক ও বিপিএলের ম্যাচে দুর্নীতি দমন বিভাগের পর্যবেক্ষণ ও নিয়মনীতি মেনে চলার বাধ্যবাধকতা থাকে, তা এত দিন ঢাকা লিগের ম্যাচে মানা হতো না। এখন থেকে ঢাকা লিগের ম্যাচেও দুর্নীতি দমন আইনের প্রয়োগ করা হবে বলে জানান তামিম। বললেন, ‘এবার আরেকটি জিনিস আমরা প্রয়োগ করতে যাচ্ছি আইসিসির দুর্নীতি দমন বিধি। আপনি যদি দেখেন বিপিএলে আমরা যখন (মাঠে) আসতাম, বাস থেকে নামার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের ফোন নিয়ে নেওয়া হতো। অনলি দ্য ম্যানেজার ইউজ টু হ্যাভ দ্য ওয়ান ফোন অ্যান্ড সে কমিউনিকেট করত। প্লেয়ারদের কাছে কোনো ফোন থাকত না। ইভেন দ্য কোচেস অ্যান্ড দ্য কোচিং স্টাফ— কারও কাছে কোনো ধরনের ফোন থাকত না। আইসিসির অ্যান্টি-করাপশনের অনেক রুলসের মধ্যে এটি একটি। সো, এ জিনিসগুলো আমরা এবার থেকেই ইমপ্লিমেন্ট করা শুরু করছি।’
সংবাদ সম্মেলনে তামিম আরও জানিয়েছেন, বিসিবি থেকে ম্যাচের দিন সরবরাহ করা হবে স্বাস্থ্যসম্মত মধ্যাহ্নভোজ, ‘এবার আমরা আমাদের বিসিবির তরফ থেকে প্রত্যেকটা টিমকে লাঞ্চও প্রোভাইড করছি। আমি এটা জানি, হঠাৎ করে ওই ভাতের অভ্যাস থেকে গ্রিলড চিকেনে নিয়ে আসা মুশকিল। জাতীয় দল, বয়সভিত্তিক দল কিংবা ‘এ’ দলের ক্রিকেটাররা হয়তো এটার সাথে পরিচিত। তবে যারা শুধু ঘরোয়া ক্রিকেট খেলেন, তাদের একদম হুট করে পুরোটা চেঞ্জ করে দেওয়া কঠিন হবে। তবে রান্নাটা যেন স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে হয়— এটুকু অন্তত নিশ্চিত করব। আমাদের যারা মেনু সেট করে, তাদের দিয়ে মেনু সেট করানো হয়েছে। আশা করি, দ্য কোয়ালিটি অব দ্য ফুড উইল বি অলসো মাচ বেটার দিস টাইম, বিকজ উই আর গোয়িং টু সার্ভ।’
ক্লাবগুলো বিসিবির অনুদান পাচ্ছে ২৫ লাখ টাকা, ম্যাচে ক্রিকেটাররা পাচ্ছেন দুপুরের খাবার। সুযোগ-সুবিধা বাড়ছে অনেক। তবে একজন পেশাদারের মৌলিক যে নিশ্চয়তা, অর্থাৎ কাজ করলে প্রতিশ্রুত অর্থপ্রাপ্তির নিশ্চয়তা থাকা উচিত— ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রে ক্লাবগুলোকে এ জায়গায় কোনো নিয়মের ভেতরে আনতে পারেনি বিসিবি। ক্লাব ও ক্রিকেটারের ব্যক্তিগত চুক্তির নিয়মের ফাঁক গলে মৌসুমের পর মৌসুম খেলোয়াড়দের অর্থ বকেয়া রেখে যাচ্ছে বেশ কিছু ক্লাব। আগামীতে দুপুরের খাবারের বদলে এ জায়গাতে বিসিবি যদি নজর দেয়, তাহলে হয়তো ক্রিকেটাররা বেশি খুশি হবে। কারণ, ম্যাচের দিন দুপুরে বিসিবির স্বাস্থ্যসম্মত খাবার জুটলেও সময়মতো পারিশ্রমিক না পেলে বছর জুড়ে অনেক পরিবারের মুখেই খাবার জুটবে না।






