‘আমি নিজে পুলিশ, পুলিশ হয়ে বিচার পাচ্ছি না’
- থানায় অপহরণ মামলা, ফেসবুকে বাবা-মেয়ের পাল্টাপাল্টি ভিডিও অভিযোগ

কদিন ধরেই সামাজিক মাধ্যমে ঘুরছে এক ব্যক্তি জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এসে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তার মেয়েকে খুঁজছেন। তার মেয়ে নাকি অপহরণ হয়েছে। মেয়েকে ছাড়া ঈদ করতেও পারেননি। কথা বলতে বলতেই ভেঙে পড়ছেন তিনি। পাশে তার স্ত্রী, স্ত্রীর কোলে আরেক সন্তান। কদিন পর আবার আরেক ভিডিও। একই অভিযোগ। তবে এবার তার কণ্ঠে শোনা গেল, ‘আমি নিজে পুলিশ, পুলিশ হয়ে বিচার পাচ্ছি না। তাহলে সাধারণ মানুষ কিভাবে বিচার পাবে?’
ভিডিও দ্রুত ভাইরাল হতে থাকে। তৈরি হতে থাকে নানা প্রশ্ন। কিন্তু এই প্রশ্নের মুখে পাল্টা প্রশ্ন তৈরি করে অপহৃত সেই কিশোরী, যখন সামাজিক মাধ্যমে হাজির হন। ফেসবুক লাইভে তার মেয়ে বলতে থাকেন, ‘আমি অপহরণ হইনি। আমি বিবাহিত। আমার স্বামীর কাছে আছি। আমার বাবা এত নাটক করতে পারে।’
এরপর সামাজিক মাধ্যম ভাগ হতে থাকে। একপক্ষ মেয়ের দিকে, আরেক পক্ষ বাবার দিকে। এদিকে ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে পুলিশ বাবার অভিযোগ চলতেই থাকে। সাংবাদিকদের পরিবর্তে ইউটিউবাররা তার বক্তব্য ধারণ করে সামাজিক মাধ্যমে ছাড়তে থাকেন। ওদিকে মেয়েও নতুন নতুন ভিডিও প্রকাশ করছেন। ফলে সাধারণ মানুষ বুঝতে পারছেন না আসলে ঘটনা কী?
ঘটনা আসলে কী? গত ২৬ ফেব্রুয়ারি নিখোঁজ হয় ওই কিশোরী। বগুড়ার একটি থানায় কর্মরত এক পুলিশ সদস্য তার সেই ১৭ বছর বয়সী মেয়ের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় পর পর দুটি অপহরণের মামলা করেছেন। জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার ১৮ বছর বয়সী এক কিশোরসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অপহরণের মামলা করেছেন পুলিশ বাবা।
এরপর পুলিশ কিশোরীকে ২৮ ফেব্রুয়ারি ওই কিশোরের বাড়ি থেকে উদ্ধার করে আদালতে হাজির করে। কিশোরী জবানবন্দিতে জানায়, ওই কিশোরকে সে বিয়ে করেছে। তাকে অপহরণ করা হয়নি।
তবে বয়স ১৮ বছর না হওয়ায় আদালত কিশোরীকে বাবার জিম্মায় দেন। কিন্তু গত মাসের ১ তারিখে কিশোরী আবারও পালিয়ে কিশোরের কাছে চলে যায়। কিশোরীর বাবা এবার ৭ মে আদমদীঘি থানায় আরেকটি অপহরণ মামলা করেন। মামলাটি বগুড়া ডিবি তদন্ত করছে।
ওই পুলিশ বাবার অভিযোগ, তার মেয়েকে অপহরণ করা হয়েছে। তিনি বলছেন, মেয়ের নিখোঁজ হওয়ার পর প্রথমবার মামলা করতে গেলে আদমদীঘি থানার ওসি তার কাছে ঘুষ দাবি করেন। তিনি বিষয়টি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করলে পরে মামলা গ্রহণ করা হয়।
অন্যদিকে, ঘুষ দাবির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আদমদীঘি থানার ওসি কামরুজ্জামান মিয়া। তিনি বলেন, ঘুষ দাবির অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। পুলিশ সদস্যের মেয়ে মানে আমাদেরও মেয়ে। যথাসময়ে দুটি মামলাই গ্রহণ করা হয়েছে। এরপরও তিনি মিথ্যা অভিযোগ করে বেড়াচ্ছেন।





