ক্ষমতার সামান্য স্বাদ পেয়ে দেশে অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করেছিল জামায়াত : ঢাবি অধ্যাপক

ঢাবি অধ্যাপক কামরুল হাসান মামুন
মাত্র দেড় বছরের জন্য জামায়েত ক্ষমতার সামান্য একটু স্বাদ পেয়েই দেশে একটা অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করেছিল বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক কামরুল হাসান মামুন।
রবিবার এক ফেসবুক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অধ্যাপক বলেন, একটা দল এই দেশের কি পরিমাণ ক্ষতি করছে তা বলে শেষ করা সম্ভব না। দেশে যদি এমন একটি দল থাকে যারা আমাদের ছেলেমেয়েদের স্কুল কিংবা কলেজেই রাজনীতিতে রিক্রুট করে ব্রেন ওয়াশড হয়ে: মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী হয়, নারীর ক্ষমতায়ন বিরোধী হয়, জাতীয় সংগীত বিরোধী হয়, কবিতা, গান ও চারুকলা বিরোধী হয়, বিবর্তন বিরোধী হয়, বিগ ব্যাং বিরোধী হয়, কুসংস্কারাচ্ছন্ন হয়, বিজ্ঞান বিরোধী হয় তাহলে সেই দেশের পক্ষে কি উন্নত রাষ্ট্র হওয়া সম্ভব?
কামরুল হাসান মামুন বলেন, মাত্র দেড় বছরের জন্য জামায়েত ক্ষমতার সামান্য একটু স্বাদ পেয়েই দেশে কি একটা অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করেছিল ভেবে দেখুন। মব বাজির চূড়ান্ত দেখিয়ে ছেড়েছে। কিছু হলেই রাস্তায়। বিভিন্ন ছাত্র সংসদে জেতার সুবাদে তাদের আস্ফালন দেখেছেন? শরীরীয় ভাষা দেখেছেন? এই দেড় বছরে যেই সংখ্যক অশ্রাব্য মিছিলের ভাষা এরা যোগ করেছে এবং আমাদের নতুন প্রজন্মকে নষ্ট করেছে সেই ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে কত সময় লাগে আল্লা জানে। আজ যদি জাতীয় নির্বাচনে জামায়েত জিততে পারতো দেশের অবস্থা কল্পনা করলেও রীতিমতো হরর সিনেমা দেখার মতো গা শিহরে উঠে। একটা দেশে যদি এমন একটা দল থাকে সেই দেশ কিভাবে সামনে আগাবে?
শিবিরকে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধ্বী আখ্যা দিয়ে ঢাবি শিক্ষক বলেন, সেই জন্যই বলি ধর্মকে ব্যবহার করে রাজনীতি করতে দিলে যেমন ধর্মের ক্ষতি হয় তেমনি দেশেরও অপরিসীম ক্ষতি হয়। নতুন প্রজন্মের একটা বড় অংশকে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী হিসাবে গড়ে তোলার জন্য এই দলটি দায়ী। এরা যাদেরকে তৈরি করেছে তাদের কাউকে দেখেছেন ফেইসবুকে একটা সুন্দর লেখা পোস্ট দিতে? শুধু পারে গালাগাল দিতে আর হা হা রিএক্ট দিতে। এরা যাদের তৈরি করে তারা এতটাই বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী যে এরা অতি সহজেই ইনফ্লুয়েন্সার দ্বারা প্রভাবিত হয়ে যেকোনো ধংসাত্বক কাজ করতে পারে। আগামীর বাংলাদেশকে সুন্দর করে গড়তে হলে নতুন সরকারের জন্য এইটা হবে একটা বড় চ্যালেঞ্জ।



