সংরক্ষিত নারী আসন
বাদ পড়লেন প্রভাবশালী নেতাদের স্ত্রী, আলোচিত শিল্পীরাও
- নতুন মুখ ২৮, পুরনো ৮
- সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ৪ জন
- ছাত্রদলের বর্তমান কমিটির ২জন
- রয়েছেন সংসদ নির্বাচনে পরাজিত হওয়া ৩ জনও

গ্রাফিক্স: আগামীর সময়
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনীত ৩৬ জনের চূড়ান্ত তালিকায় নবীন-প্রবীণের সমন্বয় ঘটিয়েছে বিএনপি। তালিকায় রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে যুক্ত থাকাদের যেমন স্থান দেওয়া হয়েছে, তেমনি রাখা হয়েছে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্বও। ছাত্রদলের বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির দুজনকেও তালিকায় রেখেছে দলটি।
যদিও তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন আলোচিত অনেকে। তাদের মধ্যে বিএনপির প্রভাবশালী নেতাদের স্ত্রীরা যেমন রয়েছেন, তেমনি আছেন অভিনয় জগতের শিল্পী এবং কণ্ঠশিল্পীরাও।
আজ সোমবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সংরক্ষিত নারী আসনের এই চূড়ান্ত তালিকা ঘোষণা করে দলটি। এটি ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দলের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে সমন্বয় করে এই তালিকা চূড়ান্ত করেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
‘সহকর্মীদের মধ্য থেকে যারা মনোনয়ন পাননি, তাদের জন্য আমার শুভকামনা থাকবে’
মনোনয়নপ্রাপ্তরা হলেন সেলিমা রহমান, শিরীন সুলতানা, রাশেদা বেগম হীরা, রেহানা আক্তার রানু, নেওয়াজ হালিমা আরলী, মোসা. ফরিদা ইয়াসমিন, বিলকিস ইসলাম, শাকিলা ফারজানা, হেলেন জেরিন খান, নিলোফার চৌধুরী মনি, নিপুণ রায় চৌধুরী, জেবা আমিন খান, মাহমুদা হাবিবা, সাবিরা সুলতানা মুন্নি, সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা, সানজিদা ইসলাম তুলি, সুলতানা আহমেদ, ফাহমিদা হক, আন্না মিনজ, সুবর্ণা সিকদার ঠাকুর, শামীম আরা বেগম স্বপ্না, শাম্মী আক্তার, ফেরদৌসী আহমেদ, বিথীকা বিনতে হোসাইন, সুরাইয়া জেরিন, মানসুরা আক্তার, জহরত আদিব চৌধুরী, মমতাজ আলো, ফাহিমা নাসরিন, আরিফা সুলতানা রুমা, সানজিদা ইয়াসমিন তুলি, নাদিয়া পাঠান পাপন, শওকত আরা আক্তার, মাধবী মারমা, সেলিনা সুলতানা নিশিতা ও রেজেকা সুলতানা।
তালিকা বিশ্লেষণে দেখা যায়, স্থান পাওয়া প্রায় সবাই বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে ছিলেন যার যার জায়গা থেকে সরব। এখানে পুরনোরা অর্থাৎ সাবেক সংসদ সদস্যরা যেমন রয়েছেন, তেমনি জায়গা দেওয়া হয়েছে নতুনদেরও। তালিকায় নতুন মুখের সংখ্যা ২৮। আর সাবেক সংসদ সদস্য রয়েছেন আটজন।
তালিকায় ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের চারজনকে অন্তর্ভুক্ত করেছে বিএনপি। তারা হলেন ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরী, যিনি সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এমপির মেয়ে ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের পুত্রবধূ। অন্যরা হলেন আন্না মিনজ, সুবর্ণা সিকদার ঠাকুর ও মাধবী মারমা।
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল থেকে দুজন স্থান পেয়েছেন বিএনপির এই তালিকায়। তাদের একজন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক ও ইডেন মহিলা কলেজ ছাত্রদলের সদ্য সাবেক সদস্য সচিব মোছা. সানজিদা ইয়াসমিন তুলি। অন্যজন হলেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক মানসুরা আক্তার।
সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনীত করায় বিএনপি চেয়ারম্যান এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন সানজিদা ইয়াসমিন তুলি। তিনি আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘দলের দুঃসময়ে যারা রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল, তাদের মধ্য থেকে সংরক্ষিত আসনে কয়েকজনকে মূল্যায়িত করেছেন প্রধানমন্ত্রী। দল এবং দলীয় প্রধান তারেক রহমানের প্রতি অগাধ বিশ্বাসের জায়গা থেকে আমি সবসময় এটাই মনে করেছি— দুর্দিনের নেতাকর্মীদের দল এবং দলীয় প্রধান নিশ্চয়ই মূল্যায়িত করবেন।’
‘একই সঙ্গে আমার সহকর্মীদের মধ্য থেকে যারা মনোনয়ন পাননি, তাদের জন্য আমার শুভকামনা থাকবে’, যোগ করেন তিনি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট করে পরাজিত হওয়া তিনজন নারী নেত্রীকে ফের সুযোগ দিয়েছে বিএনপি। তারা হলেন মোছা. সাবিরা সুলতানা মুন্নি, ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা ও সানজিদা ইসলাম তুলি। সাবিরা সুলতানা মুন্নি যশোর-২, ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়ঙ্কা শেরপুর-১ এবং সানজিদা ইসলাম তুলি ঢাকা-১৪ থেকে নির্বাচন করেছিলেন।
প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে সাবিরা সুলতানা মুন্নি আগামীর সময়কে বললেন, ‘প্রতিক্রিয়া ভাষায় ব্যক্ত করার মতো না। কারণ, অনেক আবেগাপ্লুত আমি। দল এবং দলের চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। উনি বারংবার আমাকে সুযোগ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন এবং দিয়েছেনও। জনগণের সেবা করার সুযোগ পেয়েছি, আরেকবার পেয়েছি নতুন করে দলকে সুসংগঠিত করার সুযোগ। সংগঠনকে নতুন করে ঢেলে সাজাব ইনশাআল্লাহ।’
‘কাজ করব সবাইকে নিয়ে। এখানে থাকবে না কোনো পক্ষ-বিপক্ষ। সবাইকে নিয়ে কাজ করার মানসিকতা আছে, চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ’, যোগ করেন সাবিরা সুলতানা।
মনোনয়নপ্রাপ্তদের মধ্যে কয়েকজন বিএনপি নেতার স্বজনও আছেন। এর মধ্যে রয়েছেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর মেয়ে নিপুণ রায় চৌধুরী, চট্টগ্রামের সাবেক এমপি ও সাবেক হুইপ সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের মেয়ে ব্যারিস্টার সাকিলা ফারজানা, নরসিংদী-১ আসনের এমপি খায়রুল কবির খোকনের স্ত্রী শিরীন সুলতানা এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রয়াত সভাপতি শফিউল বারী বাবুর স্ত্রী বীথিকা বিনতে হোসাইন।
বিএনপির সাবেক নারী এমপিদের মধ্যেও কয়েকজন রয়েছেন তালিকায়। তাদের মধ্যে আছেন শিরীন সুলতানা, রাশেদা বেগম হীরা, রেহানা আক্তার রানু, নেওয়াজ হালিমা আরলী, হেলেন জেরিন খান, নিলোফার চৌধুরী মনি, সুলতানা আহমেদ ও শাম্মী আক্তার।
আগামীর সময়কে রেহানা আক্তার রানুর প্রতিক্রিয়া— ‘বিএনপি চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাকে যে সুযোগ দিয়েছেন, সেজন্য তার প্রতি কৃতজ্ঞ আমি। আমি কাজ করব সবাইকে নিয়ে।’
এদিকে তালিকায় স্থান পাননি অনেক আলোচিত ও হেভিওয়েট প্রার্থী। তাদের মধ্যে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস, সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়া, জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী কনকচাঁপা, বেবী নাজনীন, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের স্ত্রী ও মহিলা দলের সহসভাপতি নাজমুন নাহার বেবী অন্যতম। এ ছাড়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রয়াত সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের স্ত্রী হাসনা জসীমউদ্দীন মওদুদের নামও আসেনি এ তালিকায়। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর স্ত্রী সাবেক সংসদ সদস্য রুমানা মাহমুদের নামও নেই বিএনপির তালিকায়।
দুদিন আগে বিএনপিতে যোগ দিয়ে চমক দিয়েছিলেন ছোটপর্দার অভিনেত্রী রুকাইয়া জাহান চমক। তিনিও স্থান পাননি তালিকায়। সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছিলেন ফারজানা সিঁথি। ভাগ্য সহায় হয়নি এই আলোচিত জুলাই যোদ্ধারও।
বিএনপির ঘোষিত তালিকায় অভিজ্ঞ, রাজপথে নির্যাতিত ও নিপীড়িতরাই মূল্যায়িত হয়েছেন বলে দাবি দলটির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খানের। তার ভাষ্য, ‘এটা দলের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ।’

