মিডিয়ার অপপ্রচার : কেবলই তকমা, নাকি কৌশল?

সংগৃহীত ছবি
নাগরিকদের ব্যক্তি স্বাধীনতা রক্ষায় একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ গণমাধ্যম কতটা গুরুত্বপূর্ণ— এ কথা ভুলে যাওয়া নাগরিকদের জন্যই বিপজ্জনক। আজ বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসে আমরা গণমাধ্যমের বর্তমান অবস্থা বোঝার চেষ্টা করতে পারি। ভাবতেও পারি। স্বাধীনভাবে কাজ করার ওপর যে বাধা চলছে, তা ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে ব্যক্তি স্বাধীনতাও।
পাকিস্তান প্রেস ফাউন্ডেশন সাম্প্রতিক সময়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। যার শুরুতেই বলা হয়েছে, গত এক বছরে পাকিস্তানের গণমাধ্যম আছে কঠোর নিয়ন্ত্রণে। আছে প্রতিক্রিয়াশীলতা, ভয়ভীতি এবং হুমকিও। সাংবাদিকতার বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছে প্রতিবেদনটি। বাড়তি আইনি চাপ— ফৌজদারি অভিযোগ থেকে শুরু করে সমন, সহিংস হামলা, হুমকি, অনলাইন হয়রানি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে ডিজিটাল হুমকির বিষয়গুলোও উঠে এসেছে প্রতিবেদনে।
কেন বিশ্ব জুড়ে জনতুষ্টিবাদী ও স্বৈরশাসকরা সংগঠিত গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে অসন্তোষ ছড়ায়? জনমত জরিপে গণমাধ্যমের প্রতি আস্থাহীনতাকে তারা ‘প্রমাণ’ হিসেবে তুলে ধরে? বলে, প্রথাগত গণমাধ্যম আর প্রাসঙ্গিক নয়
পাকিস্তান প্রেস ফাউন্ডেশন বলছে, সেন্সরশিপ ছাড়াও ব্যবহৃত হচ্ছে বিজ্ঞাপন বন্ধ করার মতো কৌশল। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সহিংসতা, হুমকি ও আইনি পদক্ষেপের ২৩০টির বেশি ঘটনার উল্লেখ আছে প্রতিবেদনে, যা সাক্ষ্য দিচ্ছে গণমাধ্যমের ওপর চলমান দমন-পীড়নের পূর্ণ চিত্র সম্পর্কে। যারা মনে করেন সাংবাদিকরা ইচ্ছাকৃতভাবে জনগণের চাহিদা পূরণে ব্যর্থ— তাদের জন্য এটি অবশ্যপাঠ্য।
বাস্তবতা হলো, রাষ্ট্রীয় দমনমূলক ব্যবস্থায় পুরো গণমাধ্যম খাত ধীরে ধীরে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে পড়ছে। অনেক সাংবাদিকের জন্য প্রতিদিন সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। টিকে থাকবেন নাকি নীতিতে অটল থাকবেন? একা লড়াই করা সহজ নয়। আর যারা নীতির চেয়ে বেশি লাভ দেখে, তাদের উত্থান এই খাত আরও দুর্বল করে তুলছে।
প্রশ্ন উঠছে— কেন বিশ্বজুড়ে জনতুষ্টিবাদী ও স্বৈরশাসকরা সংগঠিত গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে অসন্তোষ ছড়ায়? জনমত জরিপে গণমাধ্যমের প্রতি আস্থাহীনতাকে তারা ‘প্রমাণ’ হিসেবে তুলে ধরে? বলে, প্রথাগত গণমাধ্যম আর প্রাসঙ্গিক নয়।
যখন কোনো গণমাধ্যম ক্ষমতাসীনদের পক্ষ নেয় না তখন ‘ভুয়া নিউজ মিডিয়া’ আখ্যা দেওয়া হয়। উদ্দেশ্য স্পষ্ট— সংগঠিত, স্বাধীন গণমাধ্যমের বদলে প্রভাবকনির্ভর ও খণ্ডিত জনসমাজ নিয়ন্ত্রণ অনেক সহজ। যে সমাজ তার গণমাধ্যম পরিত্যাগ করে, সে আসলে ক্ষমতার লাগামহীন উচ্চাকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে নিজের শেষ প্রতিরোধটুকুও হারায়।
স্বাধীন গণমাধ্যমকে ধীরে ধীরে সংকুচিত করে ফেলা শুধু সাংবাদিকদের পেশাগত সংকট নয়— এটি গণতন্ত্রের অস্তিত্বের জন্যও হুমকি। তাই এই দিনে সবচেয়ে বড় সংহতি হতে পারে— এটা স্বীকার করা স্বাধীন গণমাধ্যম ও স্বাধীন মানুষ শেষ পর্যন্ত অবিচ্ছেদ্য।
ভাষান্তর: নাজমুস সাকিব রহমান





