সাইনবোর্ড বদলে দিলেই চলবে!

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বরাবর
মহাপরিচালক, হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তর
সালাম নেবেন। কিশোরগঞ্জ শহরের পূর্ব তারাপাশা এলাকায় দুই যুগ আগে আপনাদের আঞ্চলিক কার্যালয়টি তৈরি করেছিলেন। হাওরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও জলাভূমির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনাই ছিল লক্ষ্য। কিন্তু সেটি আজ প্রত্নতাত্ত্বিক অবকাঠামোর চেহারা নিয়েছে।
১৬ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের কথা থাকলেও মাত্র দুজনকে দিয়ে চলছে প্রতিষ্ঠান। নিয়মিত অফিসে আসেন শুধু নিরাপত্তা প্রহরী। উপপরিচালক ঢাকায় বসে হাওরের বাতাস খাচ্ছেন; মানে তিনি সেখান থেকে দায়িত্ব পালন করছেন। ঢাকায় বসে কীভাবে তিনি কিশোরগঞ্জের ছয়টি উপজেলার প্রশাসনিক কার্যক্রম সামলাচ্ছেন, তা নিয়ে একটি গবেষণা অধিদপ্তর খুলতে পারেন। তবে সেটি অন্তত এভাবে খালি ফেলে রাখবেন না প্লিজ।
আপনাদের কার্যালয়ের আটটি অফিস কক্ষ আর ছয়টি কোয়ার্টারের ভাঙা দরজা-জানালা দেখে আমাদের কষ্ট হয়। তবে প্রত্নতাত্ত্বিক অবকাঠামো ভেবে নিয়ে সান্ত্বনা নিই। ভবনের চারপাশ ও দেয়ালে জন্মানো ঘন সবুজ আগাছা পুরো কার্যালয়টি ঘিরে রেখেছে; কখনো কখনো কৃত্রিম বনাঞ্চল ভেবেও সান্ত্বনা পাই। মানুষ যখন প্রকৃতি থেকে দূরে সরে যাচ্ছে, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন দেখার সময় পাচ্ছে না, সে সময় দাঁড়িয়ে আপনাদের প্রচেষ্টাকে আমরা সাধুবাদ জানাই।
আপনাদের কার্যালয়টি পশুপালন খাতেও ভূমিকা রাখছে। অফিসে কোনো কর্মকর্তার উপস্থিতি না থাকলেও, অরক্ষিত ভবনের ভেতরে ছাগলগুলো নিশ্চিন্তে চরে বেড়ায়। ছাগলের বিচরণ দেখে মনে হয়— এটি আর শুধু হাওর বা জলাভূমি উন্নয়নের কার্যালয় নয়, এটি উন্মুক্ত ছাগল উন্নয়ন কেন্দ্রও। দেশের তৃতীয় বৃহত্তম হাওরাঞ্চলের লাখ লাখ মানুষ সেবা থেকে বঞ্চিত হলেও, এ ছাগলগুলো অন্তত বঞ্চিত হচ্ছে না। এটাওবা কম কীসে!
শুনলাম ভবনটি সংস্কারের জন্য অর্থ বরাদ্দ হয়েছে এবং জনবল নিয়োগের তোড়জোড় চলছে। আমাদের আকুল আবেদন— ভবন সংস্কার করে ঢাকায় বসে থাকা উপপরিচালক সাহেবের কাজের ব্যাঘাত ঘটাবেন না। তা ছাড়া উন্নয়নের নামে আপনাদেরই তৈরি করা প্রত্নতাত্ত্বিক অবকাঠামো ধ্বংস করবেন না! দুই যুগ ধরে আমরা এটা দেখে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। যদি একান্তই কিছু পরিবর্তন করতে চান, তবে দয়া করে সামনের সাইনবোর্ডটি বদলে দিন। সেখানে লিখে দিন— ‘প্রত্নতাত্ত্বিক অবকাঠামো ও আগাছা সংরক্ষণ কেন্দ্র’। যাতে সরকারি অর্থ ও সম্পদের এমন অপচয় দেখে আমাদের মতো সাধারণ স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে আর কোনো বিভ্রান্তি না থাকে।
ইতি
স্থানীয় এক বাসিন্দা





