ইরানের প্রতিশোধের আগুনে পুড়ছে মধ্যপ্রাচ্য

সংগৃহীত ছবি
সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনীকে হারানোর পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ব্যাপক হামলা চালাচ্ছে ইরান। এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি থেকে দূতাবাস, কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিমানবন্দরেও আছড়ে পড়ছে ইরানি বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন।
তীব্র হামলার মুখে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ঘাঁটি থেকে সেনাদের সরিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছে ওয়াশিংটন। পাশাপাশি সরিয়ে নিচ্ছে নিজ দেশের নাগরিকদেরও।
এছাড়া সৌদি আরব ও কুয়েতে দেশটি দূতাবাস বন্ধ করে দিয়েছে। বলতে গেলে এখন ইরানি প্রতিশোধের আগুনে পুড়ছে পুরো মধ্যপ্রাচ্য।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার চতুর্থ দিন আজ মঙ্গলবার। এদিন মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় সব দেশেই হামলা করেছে তেহরান।
মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাসসমৃদ্ধ দেশ কাতারে ইরান হামলা চালিয়েছে ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে। এরমধ্যে ডজনখানে ভূপাতিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দোহা।
তবে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি আঘাত হানে আল উদেইদ বিমান ঘাঁটিতে। যে ঘাঁটি ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা। এছাড়া পূর্ব সতর্কীকরণ ব্যবস্থায় আঘাত হানে একটি ড্রোন।
এর আগে ইরানের দুটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে কাতার। সোমবার দেশটির এলএনজি উৎপাদন কেন্দ্রে হামলা চালানো হয়। পরে বিশ্বের সর্বোচ্চ এলএনজি উৎপাদক সংস্থা কাতারএনার্জি জানায়, তারা উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে। এই ঘোষণার পর থেকে ইউরোপে বেড়ে গেছে গ্যাসের দাম।
উপসাগরীয় দেশ কুয়েতও ইরানের ব্যাপক হামলার শিকার। দেশটি ইরানের উপর্যুপরি হামলা ঠেকাতে গিয়ে ‘ভুলক্রমে’ তার মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে ফেলে। এরমধ্যে মার্কিন দূতাবাস আক্রান্ত হয়। ফলশ্রুতিতে আজ অনির্দিষ্টকালের জন্য কুয়েতে দূতাবাস বন্ধ করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
কুয়েতের মার্কিন দূতাবাস সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম এক্সে দেওয়া বিবৃতিতে জানায়, চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কুয়েতে মার্কিন দূতাবাস বন্ধ থাকবে। আমরা সমস্ত নিয়মিত এবং জরুরি কনস্যুলার অ্যাপয়েন্টমেন্ট বাতিল করেছি।
উপসাগরীয় দেশটি জানিয়েছে, ইরানের হামলায় দেশটির নৌবাহিনীর দুইজন সেনা নিহত হয়েছেন। আর দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের প্রায় ১৭৮টি ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং ৩৮৪ ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।
সৌদি আরবের মার্কিন দূতাবাসও ইরানি হামলার কবলে পড়েছে। দেশটি জানিয়েছে, রিয়াদ ও খারাজ শহরে আটটি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। এরমধ্যেও দুটি ড্রোন রিয়াদের মার্কিন দূতাবাসে আঘাত হানে। যার কারণে আগুন ধরে যায় দূতাবাসে। এরপর আজ রিয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস বন্ধ ঘোষণা করা হয় এবং সব ধরনের দৈনন্দিন ও জরুরি সেবা বাতিল করা হয়।
এছাড়া সোমবার রাত ও মঙ্গলবার সকালে জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাতের তেল শোধনাগার, বাহরাইনের বিভিন্ন স্থাপনা এবং ইরাকের ইরবিল বিমানবন্দরে হামলা চালিয়েছে ইরান। এই অবস্থায় অবিলম্বে এ অঞ্চলের ১৪ দেশ থেকে নিজ দেশের নাগরিকদের দ্রুত যেতে বলে ওয়াশিংটন। দেশগুলো হলো—বাহরাইন, মিসর, ইরান, ইরাক, ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড, জর্ডান, কুয়েত, লেবানন, ওমান, কাতার, সৌদি আরব, সিরিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইয়েমেন।
এদিকে মার্কিন ঘাঁটি ও দূতাবাসে হামলার প্রতিক্রিয়া দেখানোর হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, মার্কিন সেনা নিহত ও দূতাবাস হামলার প্রতিশোধ কী হবে তা শিগগির দেখতে পাবেন।
সূত্র: আলজাজিরা



