রাজনীতিতে অশনি সংকেত

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে নেতিবাচক চর্চা, কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য এবং প্রতিপক্ষকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করার প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সামগ্রিক স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির জন্য এক ভয়াবহ অশনি সংকেত।
সম্প্রতি একজন অযাচিত ব্যক্তি প্রবীণ রাজনীতিবিদ মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে অত্যন্ত আপত্তিকর ও মানহানিকর মন্তব্য করে সস্তা জনপ্রিয়তা অর্জনের চেষ্টা চালিয়েছেন, যা দেশের সচেতন মহলকে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। বিগত সরকারের নানা জেল-জুলুম, হুলিয়া ও শত নির্যাতনের মুখেও যে নেতা অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেননি, তাকে ক্রমাগত তাচ্ছিল্য ও ব্যক্তিগত আক্রোশের মাধ্যমে মানসিক ও শারীরিকভাবে অসুস্থতার দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে আবার নতুন করে ভুয়া স্লোগান তুলে বিভিন্ন স্তরের রাজনৈতিক নেতা-নেত্রী এবং মন্ত্রী-এমপিদের চরিত্র হনন ও সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার এক গভীর পাঁয়তারা চলছে। এ ধরনের কুরুচিপূর্ণ সংস্কৃতির কারণে সমাজে ও রাজনীতিতে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে, যা রুখতে এবং সবার সামাজিক মর্যাদা রক্ষা করতে সরকারের এখনই সচেতন হওয়া প্রয়োজন।
একটি গণতান্ত্রিক, কল্যাণমুখী ও মানবিক সমাজ গঠনে সুস্থ রাজনৈতিক চর্চা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের কোনো বিকল্প হতে পারে না। অথচ দুঃখজনকভাবে সমালোচনা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার নামে দেশে অগণতান্ত্রিক ও অসভ্য আচরণকে উসকে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। একজন উচ্চশিক্ষিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব যখন জনসমক্ষে দাবি করেন যে গালি দেওয়া, ভুয়া স্লোগান ছড়ানো কিংবা ডিম-আলু ছুড়ে মারা গণতান্ত্রিক অধিকারের অংশ, তখন তা সুস্থ ধারার রাজনীতিকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত ও কলুষিত করে।
গণতান্ত্রিক উপায়ে সরকারের বা প্রশাসনের গঠনমূলক সমালোচনা করা এবং নীতিগত ভুলত্রুটি ধরিয়ে দেওয়া অবশ্যই যৌক্তিক ও অধিকারের অন্তর্ভুক্ত, কিন্তু ব্যক্তিগত সম্মানহানি করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা কখনোই কাম্য হতে পারে না। উচ্চশিক্ষিত মানুষেরা যদি দেশের বা সরকারের কোনো ত্রুটি দেখতে পান, তবে তাদের উচিত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সাক্ষাতের সময় নিয়ে দেশের স্বার্থে গঠনমূলক উপায়ে সেই ভুলগুলো ধরিয়ে দেওয়া।
এক সাগর রক্তের বিনিময়ে একটি কঠিন সময় পার করে দেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং অল্প দিনেই সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজ সর্বমহলে প্রশংসিত হচ্ছে। বিশেষ করে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শিতা ও বিচক্ষণতায় বহির্বিশ্বে দেশের সম্মান বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, যার এক অনন্য দৃষ্টান্ত সাইপ্রাসের আন্দ্রেয়াস কাকোরিসকে পরাজিত করে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্বাচিত হওয়া।
বর্তমান সরকারের শীর্ষ নেতৃত্ব অত্যন্ত সদালাপী ও নিরহংকারভাবে সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্টে পাশে দাঁড়িয়ে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন, রাস্তাঘাটে সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ শুনছেন এবং কৃষকদের যথাযথ সম্মান দিচ্ছেন। অথচ একজন দায়িত্বশীল রাজনীতিবিদ সরকারের এত বড় বৈশ্বিক সাফল্যকে সাধুবাদ না জানিয়ে উল্টো তিনজন মন্ত্রীকে তিন দেশের ব্যক্তি হিসেবে আখ্যায়িত করে বিতর্ক সৃষ্টির চেষ্টা করছেন, যা সত্যিই অনভিপ্রেত।
লেখাপড়া শিখে শুধু উচ্চ ডিগ্রি অর্জন করলেই প্রকৃত মানুষ হওয়া যায় না, যদি না তার মধ্যে মানবিক গুণাবলি, বিবেক ও সুন্দর মনন গড়ে ওঠে। সমাজ ও রাজনীতির এই ক্রান্তিকালে কিছু ব্যক্তির কুৎসিত কথাবার্তায় দেশের বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে এবং একটি বিশেষ মহল চাচ্ছে এই সুযোগে দেশে একটি অস্থিতিশীল ও বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি করতে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ধরনের মানহানিকর ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়তই প্রতিবাদের ঝড় উঠছে, কারণ এসব অপপ্রচারের সুযোগ নিয়ে কোনো তৃতীয় পক্ষ যদি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে, তবে তার দায়ভার রাজনৈতিকভাবে সরকারের ওপর এসে পড়ার আশঙ্কা থাকে।
দেশের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করার এই দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সচেতন থেকে এবং বহির্বিশ্বে স্বনামধন্য মা-বাবার মতো বিশ্বস্ত বন্ধু তৈরি করে প্রধানমন্ত্রীকে এগিয়ে যেতে হবে, কারণ দেশের সাধারণ মানুষ সব সময় সুস্থ ও সুন্দর রাজনীতির পক্ষে রয়েছে।
লেখক : অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, সমাজকর্ম বিভাগ, মোহাম্মদপুর কেন্দ্রীয় কলেজ ঢাকা




