অস্ট্রেলিয়ায় পড়তে যাবেন? ভেবে নিন...
- শিক্ষার্থীদের পারমানেন্ট রেসিডেন্সি পাওয়া সহজ
- সবচেয়ে বেশি কর্মীর চাহিদা স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে
- শিক্ষার্থীদের মেধা-আগ্রহের সঙ্গে দরকার ইংরেজি দক্ষতা

ফাইল ছবি
উচ্চশিক্ষার জন্য অস্ট্রেলিয়াকে বেছে নিচ্ছেন বাংলাদেশি অনেক শিক্ষার্থী। শুধু বিশ্বমানের ডিগ্রি নয়, সুযোগ থাকায় ক্যাঙ্গারুর দেশটিতে থেকে যেতে চান অনেকেই। তবে প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন নীতি। আর পরিবর্তিত এসব নীতি বড় প্রভাব ফেলছে প্রবাসী শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায়।
স্টুডেন্ট ভিসায় অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে যারা স্থায়ীভাবে বসবাসের পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য উপযুক্ত বিষয় নির্বাচন অত্যন্ত জরুরি। অস্ট্রেলিয়ার সাম্প্রতিক শ্রমবাজার বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, কিছু বিশেষ খাতে পড়াশোনা করলে পারমানেন্ট রেসিডেন্সি অর্জন করা তুলনামুলক সহজ।
অস্ট্রেলিয়ান ব্যুরো অফ স্ট্যাটিস্টিকস (এবিএস) এবং ‘জবস অ্যান্ড স্কিলস অস্ট্রেলিয়া’ এর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, আগামী পাঁচ বছরে দেশটিতে সবচেয়ে বেশি কর্মী দরকার স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং প্রযুক্তি খাতে।
স্বাস্থ্য ও সমাজসেবা : অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন তালিকার শীর্ষে রয়েছে স্বাস্থ্য ও সেবা খাত। ২০২৮ সালের মধ্যে প্রায় আড়াই লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে এ খাতে। এক্ষেত্রে ‘নার্সিং’ পড়ে দ্রুত চাকুরী এবং পিআর পাওয়া সম্ভব। রেজিস্টার্ড নার্সদের জন্য অস্ট্রেলিয়ার প্রতিটি রাজ্যেই দেওয়া হচ্ছে বিশেষ অগ্রাধিকার। বয়স্ক সেবা ও প্রতিবন্ধী সেবার জন্য দক্ষ কর্মীর ব্যাপক ঘাটতি থাকায় এই বিষয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সুযোগ বেড়েছে দেশটিতে।
শিক্ষা খাত : অস্ট্রেলিয়ায় শিক্ষকতা পেশার মাধ্যমে অভিবাসন তুলনামুলক সহজ। এক্ষেত্রে এগিয়ে থাকছেন আর্লি চাইল্ডহুড এবং সেকেন্ডারি টিচিংয়ে ডিগ্রি নেওয়া ব্যক্তিরা। বর্তমানে ‘প্রায়োরিটি অকুপেশন লিস্ট’-এর শীর্ষে রয়েছে ‘আর্লি চাইল্ডহুড’ এবং ‘সেকেন্ডারি টিচিং’।
প্রযুক্তি খাত : অস্ট্রেলিয়ায় গুরুত্ব বেড়েছে আইটি খাতের। সাইবার সিকিউরিটি, ডেটা সায়েন্স এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে পড়াশুনা করলে এগিয়ে থাকা যায় পিআর রেসে।
অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়ার অবকাঠামো উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় সিভিল, ইলেকট্রিক্যাল এবং মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারদের চাহিদা সবসময়ই বিদ্যমান। যাঁরা দ্রুত কর্মসংস্থান চান, তাদের জন্য কারিগরি শিক্ষা অত্যন্ত কার্যকর। বিশেষ করে শেফ, অটোমোটিভ মেকানিক এবং কার্পেন্ট্রি পেশাগুলো স্কিল শর্টেজ লিস্টে অন্তর্ভুক্ত।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনি, মেলবোর্ন এবং ব্রিসবেনের মতো বড় শহরগুলোর বাইরে তাসমানিয়া, অ্যাডিলেড, পার্থ বা ডারউইনের মতো আঞ্চলিক শহরগুলোতে পড়াশোনা করলে পাওয়া যায় বাড়তি সুবিধা। আঞ্চলিক এলাকায় পড়াশোনার জন্য পিআর পয়েন্ট টেস্টে যোগ হয় অতিরিক্ত ৫-১০ পয়েন্ট। আর পড়াশোনা শেষে থাকে সাধারণ সময়ের চেয়ে ১-২ বছর বেশি কাজ করার সুযোগ।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, অস্ট্রেলিয়ায় কর্মসংস্থান ও স্থায়ী বসবাসের জন্য উপযুক্ত বিষয় নির্বাচন করা জরুরি। এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের মেধা-আগ্রহ যেমন থাকতে হবে, তেমনি থাকতে হবে ইংরেজি দক্ষতাও। দেশটিতে থিতু হতে চাইলে আগামী ৫-১০ বছরের শ্রমবাজারের চাহিদা মাথায় রেখে এখনই সাজাতে হবে শিক্ষা পরিকল্পনা।



