আবার ঢাকা–নারিতা ফ্লাইট!

তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত প্রেস কনফারেন্সে বক্তব্য দেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম। ছবি: আগামীর সময়
জাপানের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে ঢাকা–নারিতা–ঢাকা রুটে পুনরায় ফ্লাইট চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে আগামী ২৭ জুলাইকে সম্ভাব্য তারিখ ধরে এই রুটে ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম।
আজ সোমবার তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত প্রেস কনফারেন্সে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেছেন, ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে বাণিজ্যিক কার্যকারিতা, বিমান সংকট ও সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহারের বিষয় বিবেচনায় এই রুটে ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছিল।
আফরোজা খানম জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর জাপান-বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার এবং বাণিজ্যিক ও জনসম্পর্ক বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে দ্রুত এই রুট পুনরায় চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে জাপানের সিভিল এভিয়েশন ব্যুরো প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিরীক্ষা সম্পন্ন করতে প্রায় ৪৫ দিন সময় লাগবে জানানোয় ফ্লাইট চালুর সময়সূচি পিছিয়েছে।
মন্ত্রী বলেছেন, প্রাথমিকভাবে ২৭ জুলাই থেকে সপ্তাহে একটি করে ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। বিমানের ওয়াইডবডি বোয়িং ৭৮৭-৮০০ ড্রিমলাইনার দিয়ে ফ্লাইটটি পরিচালিত হবে এবং টিকিটের মূল্য যৌক্তিক রাখার চেষ্টা করা হবে। আগামী ২০ জুন থেকে এই রুটের টিকিট বিক্রি শুরু হতে পারে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেছেন, আন্তর্জাতিক আকাশপথে পুনরায় চালু হওয়া কোনো রুটকে বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক করতে সময় লাগে। বাজার তৈরি, যাত্রী আস্থা অর্জন এবং চাহিদা বৃদ্ধির প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে এগোয়। তবে কার্যকর বিপণন কৌশল ও সুষ্ঠু পরিচালনার মাধ্যমে রুটটির সম্ভাবনা ক্রমেই শক্তিশালী হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
একই অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেছেন, পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ৩০ জুনের মধ্যে ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা থাকলেও প্রক্রিয়াগত জটিলতার কারণে তা সম্ভব হয়নি এবং তারিখ পিছিয়ে ২৭ জুলাই নির্ধারণ করা হয়েছে। এ জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।
প্রতিমন্ত্রী দাবি করেন, ২০২৫ সালের জুলাইয়ে রাজনৈতিক কারণে এই রুটের ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছিল, যদিও সেটি তখন লাভজনক অবস্থার দিকে এগোচ্ছিল। বর্তমান সরকার তা পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিয়েছে।
তিনি জানান, বর্তমানে জাপানে ৪০ হাজারের বেশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও কর্মী রয়েছেন এবং এ সংখ্যা বাড়ছে। ফলে এই রুটে যাত্রী চাহিদা বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। যথাযথ পরিকল্পনা ও নেটওয়ার্ক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে রুটটি দীর্ঘমেয়াদে টেকসই করা সম্ভব হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সরকারের মতে, ঢাকা–নারিতা–ঢাকা রুট পুনরায় চালু হলে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও জনগণের যোগাযোগ আরও জোরদার হবে।


